Take a fresh look at your lifestyle.

অন্তঃস্থ বর্ষ

474

 

ফেব্রুয়ারির কালো শাড়িতে আচ্ছাদিত প্রত্যুষ আড়মোড়া ভাঙে ঘড়ির আকর্ণনীয় ধ্রুপদ সঙ্গীতে ।
রমনীগণ প্রভাত ফেরীর উপচে-পড়া দায়িত্বের পুষ্প হাতে জীবন অর্পণে নামে সংসার নামক গন্ডিতে
এবং এখানেই নারীর প্রারম্ভিক দায়বদ্ধতা!

মার্চের সবুজ শাড়ির আঁচল লোহিত বৃত্তের স্বাধীনতাকে করে কণ্টকিত,
প্রতিভার পায়ে বেড়ি বেঁধে স্বাধীনতার মাঠ-পার্সে ওড়ায়
পরাধীনতার ধ্বজা ।
এবং এখানেই সুপ্ত রয় নারীর মেধা কদর্থ !

এপ্রিলের বৈশাখী কঙ্কণে বাজে বৈষম্যহীন রিনিঝিনি
ত্রিতাল ,
জণাকীর্ণ লালসার দৃষ্টিতে বিঁধে কামনার লয়!
কালবৈশাখী তড়িৎগতিতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে –
নারীর আতঙ্কিত চূর্ণ-বিচূর্ণ হৃদয়ে।
এবং এখানেই বাকরুদ্ধ নারীর তেজস্বিনী রুপ !

আগষ্টের শোক ছায়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়
নবগ্রহের কর্মরম্ভের বিষাক্ততা।
প্রেমহীন একঘেয়ে জীবনের অতিষ্ঠতা ,
নারীর কোমল হৃদয় সন্ধান করে শুদ্ধ ভালোবাসার
এক প্রমোদ ডিঙি ।
অনিয়ন্ত্রিত মন কল্পিত মায়ার তরঙ্গে ভেসে চলে
অজান্তেই !
এবং এখানেই নারী হারায় তার স্বকীয়তাকে ।

ডিসেম্বরের বিজয় উল্লাসের শীতল হাস্যের আড়ালে
কুয়াশাচ্ছন্ন উচাটন বাঁধে কল্পনার নীড়।
নারী মাড়িয়ে যেতে চায় কল্পনায় বহুদুর,
প্রায় পনের কোটি কিলোমিটার দূরত্বের রৌদ্রময়
আবেগানুভূতি।
তিন লক্ষ চুরাশি হাজার চারশত তিন কিলোমিটার
দূরত্বের জোৎস্নাময় প্রেমানুভূতি।
অতঃপর নারী ; ছকে বাঁধা জীবন পঞ্জিকাকে আঁকড়ে ঝুলন্ত রয় –
চার দেয়ালের সংসার মায়ায়
এবং এখানেই নারীর জীবনের বাস্তবতা !

 

নাদিরা ইসলাম নাইস – কবি 

Leave A Reply

Your email address will not be published.