Take a fresh look at your lifestyle.

একাকী রাত

450

 

জানিস, পরবাসী মেঘ বালক ?
এখানে এখন রাত্রি গভীর ।
কালো অন্ধকারে ঢেকে আছে ধরিত্রীমাতা ।
চারিদিকে শুনশান নির্জনতা ও গুমোট নিস্তব্ধতা ।
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে কালো অমানিশা ।
আকাশে আজ ঘন গাঢ় মেঘ জমেছে ।
গগন সেজেছে কৃষ্ণ মেঘের নিপুণ কারুকার্যে ।
এখনই ঝরবে আঁখি চেরা, ঝর্ণাধারায় অঝোরে অন্ধ বৃষ্টি !!
ঝরবে ! ঝরবেই !!

পরবাসী মেঘ বালক ।।
তুই কি তোর আকাশে দেখতে পাচ্ছিস,
একফালি বাঁকা শশীর উঁকিঝুঁকি ?
ও-ই চেয়ে দেখ না, পরাণ প্রিয় !
একফালি নিঃসঙ্গ বাঁকা চাঁদ উঁকি দেয়,
আমার ভাঙা ঘরে,
মাঝে মাঝে স্যাঁতস্যেঁতে
লোনাধরা ভাঙা দেওয়ালে হেলান দেওয়া,
নড়বড়ে ভাঙা জানালার ফাঁকে ।
কখনো স্বর্ণালি রঙে চাপা মুচকি হাসি,
কখনো, শ্যামবর্ণ মেঘের ভারে বিষণ্ণতায় মলিন ।।
এখানে আমি একা, নিতান্তই একা,
নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখি ।
আর ।। ভাবনায় মত্ত থাকি ।।

জানিস কি তুই, পরবাসী ‘প্রিয়তম মেঘ বালক ?
রাতের গভীরতায় আকাশের যে গুমোট,
তা আমারই মনের অনিরুদ্ধ হাহাকার ।
তোর সহমর্মিতায় আমার
সমস্ত সুখের ভুবন, শ্বেত মরালের ডানা
ঝাপটানো ছটফট ।
তোর একলা আকাশ যে,
আমার এক পৃথিবী নয়, সাত পৃথিবীর নীরবতা !!
নীরবতা সাত পৃথিবীর !!
তুই কি তা জানিস মেঘ বালক ?

তুই বুঝিস না পরবাসী মেঘ বালক একটুও বুঝিস না !!
তাই আমার অশ্রুকে মুচকি হাসিতে রেখে,
আকাশের নীলিমায় সুখ বিলাসে, তুই ভাসিস !!

 

নীল – কবি ও সাহিত্যিক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.