Take a fresh look at your lifestyle.

নষ্ট খোয়াব

428

 

পান্ডুর স্ট্রীট লাইটের অস্ফুট হলদে আলোয়,
মেয়েটি পড়েছিলো কলুষিত হয়ে অথর্ব সময়ের বাহুডোরে,
শহরের শেষ প্রান্তে,ঘন গাছপালার আড়ালে—–
ময়ুরকন্ঠি রঙের পোষাকের মাঝে বুকের কাছে
জমাট বেঁধে আছে রক্তের মতো নষ্ট খোয়াব!

দেবীর মতো যার পদচারণায় মুখরিত ছিলো,
তার স্বপ্নের বাগান,ঘরের আঙিনায়!
মন ছুঁয়ে যেত কারো কারো হৃদয় আকাশে!
সে আজ রঙচটা চাটাইয়ে জড়ানো,
ডোমের হাতে নিপুন ব্যবচ্ছদের অপেক্ষায়!

অথচ এক অসূর্যম্পশ্যা বালিকার মতো
তার স্বপ্নের বৃক্ষ ডালপালা ছড়িয়ে
ক্রমশ উঁচু হয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিলো !
দিনযাপনের রোজ নামচায় প্রতিদিন যেন স্বপ্নদুয়ার খুলে মেয়েটি হারিয়ে যেতো সোনালু ফুলের মতো—–
কখনো ভিজে অকাল শ্রাবণে,কখনো মনের স্রোতোবহা অন্তহীন নদীর জলে——-
খোয়াব দেখে সে, বুকের মাঝে সুখী কবুতর বাসা বেঁধেছে!
ডানা ঝাপটায় কখনও,খাঁচা ছেড়ে উড়াল দিতে চায় ঐ দিগন্তের নীলে।

“মাগো আমার খোয়াব ভরা চোখের তারায়
কেন নষ্ট হাতের ছোবল লাগে!
কেন শূন্য হয়ে যায় স্বপ্নঘোরের শক্ত বেড়া!
তোমাদের এই ক্লেদাক্ত পংকিলতায় আমি যে ডুবে গেলাম , লোভ লালসার বহ্নিশিখায়!
পড়ে রইলাম আঁধার রাতের ঘন আবর্জনায়!
খুশবো ছড়ানো অপ্রস্ফুটিত ফুলেল খোয়াব,
নিপাট হাতে টুকরো টুকরো হয় ——
তোমাদের নগ্ন সভ্যতার আলোকিত শহরে!
নিষ্ঠুর ভাবলেশহীন নিখুঁত কোনো হাতের ছোঁয়ায়!”

তাহলে কি খোয়াবগুলো নষ্ট ছিলো?
ভ্রষ্ট মনের অসুখ ছিলো!হৃদয়ে বিষের কোনো গরল ছিলো!
আমি যে ছোট্ট পাখী হয়ে তোমার আকাশে উড়তে চেয়েছিলাম , সময়ের দোলাচালে —–!!

সড়কবাতির ফ্যাকাসে আলোয়
নষ্ট খোয়াব তলিয়ে যায় আঁধার ঘোরে—–
কেবলই বীজ বুনে যায় অনাদিকালের
বিচ্ছুরণের আলোয় শিকড়ে গজিয়ে ওঠে ভ্রষ্ট মনে
নতুন এক জীবনবোধের!গর্জে ওঠার সাহসিকতা!

হাসিনা মমতাজ ডলি-কবি ও সাহিত্যিক ।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.