Take a fresh look at your lifestyle.

ভাবনার সৈকতে আবেগের মিতালী

30

 

” চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে, উছলে পড়ে আলো।
ও রজনীগন্ধা, তোমার গন্ধসুধা ঢালো”।

রবী ঠাকুর যে দিন গানটি লিখেছিলেন সে দিন আকাশ চাঁদের আলোয় কতটা আলোকিত ছিলো, জানি না।সে দিন প্রকৃতি সকল সৌন্দর্য নিয়ে রবী ঠাকুরের দরজায় আসনপেতে বসেছিলো কি না, তাও জানি না।কিন্তু সেই চাঁদের জোছনা হাসি হয়ে যে, রবী ঠাকুরের মনের পৃথিবী ভরিয়ে দিয়েছিলো, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত হয়েই বলতে পারি।

একটা সময় কেরোসিনের হারিকেন বা কেরোসিনের বাতির আলো ম্লান করে দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়তো চাঁদের জোছনা।চাঁদনি রাত মানে অচেনা পথিকেরও নিশ্চিন্তে অজানা পথে পাড়ি দেওয়া। নৌকার মাঝি বৈঠা ফেলে, চাঁদের জোছনা আর ভেসে আসা কচুরিপানার লুকোচুরি দেখেন মাঝ নদীতে।

হাট থেকে দেরি করে বাড়ি ফেরা কৃষক কাঁধে সদাইয়ের থলে আগলে খুব দ্রুত পা ফেলে হেটে যান চাঁদের আলোয় ভেসে থাকা গ্রামের মেঠো পথ ধরে।

কৃষক বধূ মাটির চুলায় রান্নায় ব্যস্ত থাকার মাঝে অন্য মনস্ক হোন উঠানে মাদুর পেতে নাতি নাতনী নিয়ে জমিয়ে কিসসা শোনানো শাশুড়ির গল্পে।
সেই যে দুয়োরাণী সুয়োরানীর কষ্টে নিজের কষ্ট ভুলিয়ে দেবার জন্য এমন পূর্ণিমা রাতগুলো ঘুরে ঘুরে যেমন অতীতে আসতো এখনও আসে,ভবিষ্যতেও আসবে।

কথিত আছে, এমন জোছনা রাতে গৌতম বুদ্ধ সংসার ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।

আমাদের হিমু, এমন রাতে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ায়।হঠাৎ রুপাকে ফোন করে।নীল শাড়ি পরে বারান্দায় দাঁড়াতে বলে কখনও।
আবার হাঁটতে থাকে।এই পথের শেষে অন্য পথে।এখনকার হিমুরা রুপায় আটকে গেছে বা আছে।তারা পূর্ণিমার জোছনার মাঝে হিমু তত্ত খুঁজে বেড়ায় না।

আমার ভাবতে খুব ভালো লাগে এমন পূর্ণিমা রাতগুলোয় খুব ব্যস্ত শহরের লাইটগুলোও বন্ধ থাকবে।সবাই দল বেধে আকাশ দেখবে।বৃষ্টি বিলাসের মত চন্দ্রবিলাস করবে । পূর্নিমার রাতে প্রকৃতির রুপ দেখে মনটা কেমন করে না, এমন বাঙালী খুঁজে পাওয়া যাবে না।কারও হয়তো মনে পড়ে যায় কিশোর বেলার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিক বালক বা বালিকাকে।কারও বা প্রিয় জনের জন্য মনটা কাঁদে।কারও বা খুব রাতে ভেসে আসা এক বাশিঁওলার বাশির সুরের কথা হঠাৎ মনে পড়ে যায়।

আকাশে যখন এমন পাগল করা পূর্নিমার জোছনা দেখি জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেই।চাঁদের জোছনা মুঠোয় ভরা যায় না।কিন্তু অন্তরে ধারণ করা যায়।
আমার যখন একটা নিজের চার চাকার ছোট একটা গাড়ি থাকবে।পূর্নিমার রাত গুলোয় লং ড্রাইভে চলে যাবো।বাহিরে পাগল করা জোছনায় গাছ পালা, ফসলের ক্ষেত, দুই -একটা বাড়ি, খোলা মাঠ পেছনে ফেলে, হাইওয়ে ধরে ছুটে চলবে আমার গাড়ি।গাড়ির ভেতর অন্ধকারে বেজে চলবে Bob Dylan এর আমার খুব প্রিয় একটি গান।

পাশে আমার অদেখা তিনি থাকতেও পারেন, নাও পারেন।আমি পূর্ণিমার জন্য পাগল হলে যে, তিনিও হবেন, এমন তো নাও হতে পারে।
তবে আশা করতে তো দোষ নেই।চোখ বন্ধ করে পূর্নিমা রাতকে অনুভব করি আসুন একটু।

খুব জোরে ছুটে চলেছে আমার গাড়ি।পাশে তিনির হাতে হাত রেখে বাহিরের জোছনায় ভেসে চলেছি আমি…..
আর গাড়ির ভেতর Bob Dylan এর কন্ঠে বেজে চলেছে…..

” Blue moon
Now I’m no longer alone
Without a dream in my heart
Without a love of my own….”

সেলিনা আক্তার শেলী -কবি ও লেখক 

Leave A Reply

Your email address will not be published.