Take a fresh look at your lifestyle.

মনস্তাত্ত্বিক কথোপকথন

307

ছেলেঃ

তুমি কী জানো!
অনেকের বিলাসবহুল ভালোবাসারা,
বাস্তবতার দৌড়ে শ্বাসকষ্টে ভুগে।

মেয়েঃ
অতঃপর শুরু হয় আমার বসন্ত সমীরণ,
যার শরীরে সঞ্চারিত হতে থাকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন।

ছেলেঃ
( হঠাৎ একটু রূঢ় হয়ে বললে)
তোমার মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে পারি বিদ্যার কলম!

মেয়েঃ
( স্বাভবজাত বিনম্র উচ্চারণে বললাম)
অদৃশ্য ঈশ্বরের উপহারে পরিনত হবে তার মলম।
হে ঔদ্ধত্য সত্তা!
তুমি যতই করবে ছল,
করবে বাহাদুরির কুট চাল কৌশল।
আমি নীরব এক মৌন নিরবতায় মেনে নিয়ে পরাজয় সকল।
নিজেতে নিমগ্ন রবো।
বিজয়ী হয় একজন,
পরাজিতের আস্তানায় পড়ে থাকবে অথর্ব যে নাম।
আমি তাহারই প্রিতিনিধিত্ব করে রচে যাব তোমার সম্মান।

ছেলেঃ
( প্রসঙ্গ বদলে নিয়ে বললে)
জানো তো আলো মানেই আমাদের ভয়ের দূরত্ব,
আঁধারে তাই আমরা হই একাত্ম।

মেয়েঃ
আলো আঁধারের মোহ মায়াই জীবন।
আঁধার পেরিয়ে আলোর অন্বেষণ,
আলোর ভূবনেই কেবল আঁধারের আশংঙ্কা ভয়।

ছেলেঃ
আমার কাছে জীবন হলো,
জীবনের শেষ দৃষ্টি সীমানা যতদূর।

মেয়েঃ
দৃষ্টি তো যার যার বোধের ব্যসার্ধে আদৃত মস্তিষ্ক টেনে নেয় যতদূর।
ছেলেঃ
মস্তিষ্ক আমি চালনা করি,
তাই তো আমি একটা ব্যধি।

মেয়েঃ
তুমি কি জানো তুমি কার ব্যধি?
তুমি তোমার ব্যধি।
একটু খেয়াল করে দেখো।

ছেলেঃ
হ্যাঁ তাই তো!
তাই তো আমি আমাকেই ভয় পাই।

মেয়েঃ
গুড। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে কী জানো?
এটা কিছুই না,
এটা তোমার নিজের মধ্যে লালন করা এক খেয়াল।

ছেলেঃ
হ্যাঁ ঠিক তো!

মেয়েঃ
এটা কিন্তু সম্পুর্ণ বাস্তব নয় তোমার।
একটু গভীর ভাবে ভাবো।
বুঝবে।
এটা তোমার এ ধরনের সান্তনাও।
একটা ধ্রুম ছায়া বাস্তবতা।

ছেলেঃ
এভাবে ভাবিনি কখনও।
ঠিক তো!
আসলেই এটা কী?

মেয়েঃ
ভাবো।
আরও নিমগ্ন করো ভাবনা।
আরও ঋদ্ধ হতে পারবে।

ছেলেঃ
তবে কী সবই ভুল?

মেয়েঃ
নাহ!
ভুল কিছুই নয়।
আবার সত্য বলে সত্যি কিচ্ছু নেই।
আছে ঘোর।
আছে মোহ।
আছে সাজানো সত্য।
আর শান্তনার বিশ্বাস।
মিলাও।
মেলাতে থাকো এক এক করে।
ডুবো।
শব্দে, গন্ধে,স্পর্শের আলোকায়নে।

ছেলেঃ
জীবন বড় অদ্ভুত!
কেউ খেলায় আর কেউ খেলে।
গন্ধটা তারই হাতে থাকে,
যে সুগন্ধি পুষ্পকে পিষে ফেলে।

মেয়েঃ
গন্ধটা তার হাতে থাকে সত্যি।
কিন্তু গন্ধ বাতাসের শরীরেও থাকে।
থাকে আলোতে।
থাকে তোমার আমার ও আমাদের নিকটবর্তীর নাসারন্ধ্রে।
এবং সে নাসারন্ধ্র ভেদ করে মস্তিষ্কে হাঁটে।

ছেলেঃ
হা হা হা
সব ক্যামিকেলের খেলা।
ক্রিয়া আর বিক্রিয়া।
তোমার সব অনুভুতি,
তোমার সব ভাল লাগা,কষ্ট,বেদনা
সুখ।
সবই ক্যামিকেল রিএকশন।

মেয়েঃ
দেখো তো!
কী দেখতে পাচ্ছো?
কিচ্ছু না।
এই মাত্র হাত ফসকে পড়ে গেল সুখ।
তুলে নাও।
কী তুললে?
হা হা হা
মস্তিষ্কজাত ফসল তুললে।

ছেলেঃ
হুমম।
সব ভুল সত্যের উপনীত ক্রিয়া বিক্রিয়া।

মেয়েঃ
আমি তাহলে কি বললাম!

ছেলেঃ
হা হা হা
খেলাই তো জীবন দর্শন।
আমি খেলি,
আমি খেলাই।

মেয়েঃ
তুমি নও!
সে অন্য কেউ।
এজন্যই তো আমি খেলি না।
আমি তোমাদের সকলের খেলা দেখি।

ছেলেঃ
হা হা হা।
তুমি একজন দর্শক হে বোকা।
মেয়েঃ
আমি দেখি।
নিমগ্ন হয়ে দেখি,
বাধ্য হয়ে দেখি।
অতঃপর অভস্ত্য করে নেই নিজেকে।
এটাতেও কিন্তু মজা আছে।
কোনোদিনও অবশ্য তুমি এর স্বাদ বুঝবে না।

ছেলেঃ
কেন কেন?

মেয়েঃ
কারণ খেলতে খেলতে বিভোর মহাশয়,
খেলার কৌশলে নিমগ্ন।
কী ঘটে তার আশে পাশে কী ঘটায় নিয়তির বিঘ্ন!
কেমন করে দেখবে তুমি,
চোখ থাকিতে যে অন্ধ!

ছেলেঃ
আমি তো খেলি না আমি খেলাই।
আমিই আলোড়িত করি,
আমি ভঙ্গ করি শৃঙ্খল!
মেয়েঃ
তুমি কী সন্দেহ করছো তোমাকে?

ছেলেঃ
হা হা হা দর্শক আবার মতামতও দেয় দেখছি!

মেয়েঃ
দর্শকের মানে বুঝো ঠিকঠাক?
বুঝো না, বুঝবে না,
মিথ্যে নেশায় নিমগ্ন থাকো প্রত্যহ।
অঘোরে ঘুমাও আর থাকো মোহে তুমি মত্ত!
থাকো,
কথা হবে।

ছেলেঃ
হবে না হবে না,
আমি হওয়াবো।

মেয়েঃ
বেশ তো!
তাহলে বলো,
এই তোমাকে কে হওয়ায় এটা কখনও ভেবেছ?

ছেলেঃ
আমিই হওয়াই।আর কে?

মেয়েঃ
ভাবো ভাবো ভাবো।
সত্য বিশ্বাসে ভাবো।
কে তুমি!
কে আমি?
কে সে?
খোঁজো খোঁজো খোঁজো নিজেকে বোঝো।

ছেলেঃ
আমি তুমি। তুমি আমি।
আমি কেউ না।আমি সব।

মেয়েঃ
অথচ তুমি বুঝলেই না যে,
আমি অতি সাধারণ।
আমি ক্ষুদ্র, তুচ্ছ, নগন্য।
আমি আমারেই খুঁজি আমার আমিতে,
আমাতেই থাকি নিমগ্ন।

ছেলেঃ
স্বার্থপর!

মেয়েঃ
ঠিক তোমার মতোই।
হা হা হা

গানঃ
ভবের এই খেলা ঘরে,
রঙ তামাশার কোলাহলে।
খুঁজে যাই আপনারে এই…..
আপন মোহের অভিসারে….(২)

কেউবা বাঁচে স্বর্গে বোকার,
কেউ চালাকির কারসাজিতে।
দিন গেলে সব একই পথে ( ২)
পথিক হয় যে ভবঘুরে….

কে খেলে আর কে যে খেলায়,
কার শাসন আর বারণ চলে
ভবের এই খেলা ঘরে।
কে যে কারে মায়ায় বাঁধে, (২)
কার বিরহে কে সে কাঁদে,
কার ইশারায় কার সাধনে,
জীবন কাটে মিছে আশে।

ভবের এই খেলা ঘরে,
রঙ তামাশার কোলাহলে।
খুঁজে যাই আপনারে এই…..
আপন মোহের অভিসারে….

 

নাজনীন নাহার – কবিও সাহিত্যিক ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.