Take a fresh look at your lifestyle.

যুদ্ধ উনিশশো একাত্তর

143

 

যুদ্ধটা শুরু হলো পঁচিশে মার্চ সেই কালো রাতে-
উনিশশো একাত্তোরে ,
বন্দুকের গুলির ঐ আওয়াজ শুনে
সব ছেড়ে পালালো যে পারে যত দূরে ।
পালাতে পারেনি যাঁরা, তাঁদের রক্তাক্ত লাশ
মাটিতে মিশেছে ,
বিদ্রোহী বীর, দেশপ্রেমিক, যাঁরা সাচ্চা- দৃঢ় চিত্তে
শত্রুকে যে ঘায়েল করেছে।

মার্চ হতে ডিসেম্বর – দীর্ঘ নয় মাস
নিরন্তর যুদ্ধ হলো,
চোখের সামনে রুগ্ন যুবক নির্লিপ্ত চোখে
প্রিয় বাপ-ভাইয়ের মরণ দেখলো।
দেখলো ঘরের শক্ত খুঁটিতে মা বাঁধা,
বোনের ভরাট বুকে শত্রুর উল্লাস,
প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়ে বিপ্লবী হয়ে ওঠে, মনে জাগে-
দেশ মুক্তির নব উচ্ছ্বাস ।

বুদ্ধি খাটিয়ে শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে একদিন
নির্জন রাতে ভারতে যায় ,
যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে সে আসে,
অস্ত্র হাতে মনোবল যেন ফিরে পায় ।

রুগ্ন যুবক যতটা না সে অস্ত্র ব্যবহার করে
তার চেয়ে বেশি হয় নির্বাক কৌঁসুলি,
কঠোর প্রতিজ্ঞা- যাক প্রাণ, দেশ মুক্তি আগে চাই,
অশ্রুকে দেয় যে জলাঞ্জলি।
বাঙলাদেশের পতাকার পতপত শব্দ,
শত্রুকে যে ধরাশায়ী করে, করে জব্দ।
যাঁরা ছিল প্রতিবন্ধী, মূক ও বধির,
তারাও সঁপেছে প্রান দেশপ্রেমে হয়ে যে অধীর।
বদলে পেয়েছি দেশ এক ‘বাংলাদেশ’,
বুক ভরে শ্বাস নিয়ে স্বাধীন আছি এইতো বেশ ।

কাজী আনারকলি- কবি ও লেখক

Leave A Reply

Your email address will not be published.