Take a fresh look at your lifestyle.

অনুভূতি

219

আজ সকালে ছোট ভাইয়ার টুংটাং রিংটোনে ঘুম ভাঙলো।
তখন বাজে সকাল ৯.৩০ টা।
তুই কি এখনো ঘুমিয়ে আছিস?
মাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি আয় ভ্যাকসিন দিতে। এখন কোন ভীড় নেই। দ্রুত চলে আয়। খুব ভয় আর বিরক্তি নিয়েই গেলাম।
যখনই ইনজেকশন দেখেছি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে রেখেছি।
অদৃশ্য অদ্ভুত একটা ভীতি কাজ করছে,সিদ্ধান্ত নিয়েছি চোখ খুলবো না আর।

ওমা! সাথে সাথে এলাকার বড়ো ভাইয়াটা বললো তোমার ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ।
যাও তুমি নেক্সট….!

সে যাক গে। ভাবছিলাম ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে মরে টরে যাবো।
এখন ব্যাথা অনুভব হচ্ছে হাতের বাহুতে।
একটু ফুলেও আছে মনে হচ্ছে। তো মাকে বললাম, তুমি বাসায় চলে যাও, আমার একটু কাজ আছে চকবাজারে।
আমি আর সানজু একটু পর আসছি।
মা ১৪৪ ধারা জারি করে বললো তাড়াতাড়ি আয়। একটুও বাইরে সময় অপচয় করার দরকার নেই।

আসলে কাজ হচ্ছে কেয়ারী ইলিশিয়ামের সামনে থেকে এলোভেরা কেনা।
দরকারী কাজ তো বটেই । খেয়াল করে দেখবেন খুব কাজের মানুষের চেয়ে বেকার মানুষের কাজ বেশী।

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে তো দরকারী কাজ সেরে রিকশায় উঠে পড়লাম। রিকশাওয়ালা ধরলো গান।

ও ও ও মুর্শিদ!
ও ও ও… ওওওওওওওওও… ওওওওও।
অদ্ভুত সব গান এদের কাছেই পাওয়া যায়।
রিকশাওয়ালারা এতো অদ্ভূত হয় কেন আমার জানা নেই।
পেটে খাবার নেই মুখে বাহারী গান!
কেন যে রিকশা চালাতে চালাতে তাদের গান গাইতেই হবে।
উফ! কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। আর সানজু মুখ চেপে হেসেই যাচ্ছে। আমার ভীষণ বিরক্ত লাগছে।

রিকশার ওয়ালার বিরক্তিকর গানের ছোটে খেয়ালই করিনি আমার সেই প্রিয় কলেজের পাশ দিয়ে যাচ্ছি।
হঠাৎ চোখে পড়লো চিরচেনা চট্টগ্রাম কলেজের পশ্চিম গেইট।
সাথে সাথে ক্লিক করে নিলাম।

আহা! মনে পড়ে গেলো কতো স্মৃতিবিজড়িত সেই পশ্চিম গেইট। এক নিমিষেই যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম কিছু মূহুর্তের জন্য সেই পুরোনো দিনগুলিতে।

ক্লাস সেড়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যেন যেতেই হবে কলেজের পশ্চিম গেইটে। কত নিবিড় মায়ার বন্ধন স্থানগুলো।

ক্লাসের নতুন বন্ধুরা কতো আপন করে নিলো, কতো আড্ডা, কতো বাদাম চক্র – আহা!
কতো উদ্ভাসিত সেই মধুর ক্ষণ।

খেয়াল করে দেখলাম কোন ফাঁকে ওরা যেন আমার একটা পিছুটান রুপ নিলো! কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে গোল হয়ে বসে থাকা, পশ্চিম গেইটে আড্ডা দেওয়া, পেরেড কর্ণারে গা ঘেঁষাঘেষি করে বসে থাকা। কাজ গুলো আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে রুপ নিয়েছিলো। ফুচকা, ঝাল মুড়ীর বিল আমাকে ধরিয়ে দেওয়া যেন ওদের প্রতিদিনের কাজ।

আর বেলাশেষে প্রতিদিন সেই এক কথা! এই মুমু? আমাদের কাছে চলে আসতে পারিস নারে। তোকে ছাড়া কেমন জানি অচল অচল লাগে।

তুই ছাড়া মনে হয় কলেজের কোলাহল বন্ধ হয়ে যায়।
এ যেন এক নিরর্থক পিছু টান।
যতোটা সহজ করে খুব তাড়াতাড়ি আপন করে নিয়েছিলো ততোটা খুব দ্রুত সহজ করে তাদেরই বিশ্বাসঘাতকতায় আমি পর হয়ে গেছি।
এখনো সেই ভয়টা কাজ করে আমার। মানুষ যতোটা খুব সহজে আপন হয় ততো দ্রুতই পর করে দেই নিয়তি। কারও প্রতি কোন অভিযোগ দায়ের না করেই চুপচাপ ওদের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য নিজেকে আড়াল করে নিয়েছি।

আজ কেমন জানি খুব মিস করছি তোদের। আমার প্রিয় ক্যাম্পাস, পশ্চিম গেইট, পেরেড কর্ণার,লাইব্রেরী!!
সবই যেন স্মৃতির ক্যানভাস।

সব সে আগের মতোই আছে। ঝরে যাওয়া পাতায় ভরা কলেজের পশ্চিম গেইট। পেরেড কর্নার। শুধু নেই আমরা।

 

সুমাইয়া জাহান – গল্পকার ও সাহিত্যিক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.