Take a fresh look at your lifestyle.

অসহায়ত্ব- ১,২,৩

288

 

১।
সায়মা বেগম ঘরের মেঝেতে হাত – পা ছড়িয়ে বসে আছেন অনেকক্ষণ। অসহায়ত্বের, অপারগতার কান্নার স্রোত যে বয়ে গেছে, চোখের নদী বেয়ে , সেটা এখনো স্পষ্ট। আজ যে চোখের সমুদ্র উপচে পড়ছে কান্নার ঢেউয়ে।

আর কত! মাথার উপর বিশাল আকাশ পর্যন্ত কান্না ধরে রাখতে পারে না। একটা সময় বর্ষা নাম নিয়ে অঝোরে ঝরে পড়ে মাটিতে। আর তিনি তো মানুষ!

মাত্র সাত বছরের সংসার সায়মা বেগমের। আরিফ সাহেবের সাথে অনেক সুখ, অনেক ভালোবাসা, অনেক বোঝাপড়া ছিল পুরো সংসার জীবনে। এত সুখ মনে হয় অন্তর্যামীর ও সহ্য হয়নি, তাই হঠাৎ করে অমানিশার কালো অন্ধকারের মতো হানা দিলো ক্যান্সার নামক মরণ ব্যাধি তার স্বামী আরিফ সাহেবের শরীরে।

তখন আর সায়মা বেগমের বয়স কতই বা, সেই ২৩, কী ২৪। যে বয়সে অনেক মেয়ের তখনো বিয়েই হয়নি। সেই বয়স কাঁধে তুলে নিলেন একটা ফুটফুটে ছেলে শিশু আর একজন অসুস্থ মানুষের দায়িত্ব।

তার সব ধরনের সেবা, তাকে খাইয়ে দেয়া, গোসল করিয়ে দেয়া, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, মোটা কথা সব দায়িত্ব একা পালন করেছেন সায়মা বেগম। সাথে একটা ছোট বাচ্চা তো আছেই।

সেই দুঃসহ জীবন পাড়ি দিতে গিয়ে যে কত হোঁচট খেয়েছেন সময়-অসময়ে, ইচ্ছে-অনিচ্ছে। কীভাবে যে একা একা সব সামলিয়েছেন সায়মা বেগম, সেটা কেবল তিনিই জানেন।

আর এখন সন্তান বড় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ছে। সায়মা বেগমের বয়সও বেড়ে হয়েছে পঁয়তাল্লিশ বছর। চোখের নিচে কালি পড়েছে, গায়ের চামড়া ঢিলে হয়েছে, মাথার খোপার ভাঁজে ঢেউ খেলানো চুলগুলোয় পাক ধরেছে। এখন এক হায়েনা এসে উঠে পড়ে লেগেছে সায়মা বেগমের চরিত্রে কলঙ্কের কালিমা লেপন করার জন্য।

কী মনে করেছে সে, এতই স্বস্তা সায়মা বেগম!
যে মানুষটা তিনি দুঃখে -কষ্ট, রোগে-শোকে, জলে-অনলে ভিজে পুঁড়ে খাঁটি সোনা হয়েছেন। হয়তো বুঝতে ভুল করেছে দুষ্ট লোকটা, তাকে এত সহজে ফাঁদে ফেলা যাবে না।

কত বড় সাহস মধ্য রাতে ফোন দিয়ে ছাই চাপা আগুনকে উসকে দিয়ে বলে

” কীভাবে চলছে দিন তোমার, কষ্ট হচ্ছে না?”
সায়মা বেগম কোনো কথা না বলে লাইন কেটে দিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে বলেন

“হ্যাঁ, অনেক কষ্ট হয়েছে, এখন আর হচ্ছে না। কী করবি তুই ক্ষত স্থান থেকে খুঁচিয়ে রক্ত বের করবি?”

গতকাল সায়মা বেগমের একমাত্র ছেলে ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে চলে গেলো। সেই ছোট্ট ছেলেটা, আজ কত বড় হয়ে গেছে। আরিফ সাহেব আদর করে ছেলের নাম রেখেছিল “সালমান”।

সায়মা বেগম অবশ্য কখনো সালমান নামে ডাকেননি। ছোটবেলা থেকে আদর করে সামি ডাকতে ডাকতে, এখনো সামি’ই ডাকেন। নতুন আত্মীয় -স্বজনের অনেকেই জানে না, সামি আসলে সালমানের সংক্ষিপ্ত রূপ।

আজ রাত যদি ছেলেটা পাশে থাকতো, আর সায়মা বেগম উচ্চ বাক্য কথা বলতেন। নিশ্চয়ই ছেলেটা জানতে চাইতো –

“কী হয়েছে মা?”
তাহলে কী জবাব দিতেন সায়মা বেগম।
লজ্জায় হাত পা ছড়িয়ে কান্নার চেয়ে মরণ হলেই হয়তো তখন ভালো হতো তার।
সামি হয়তো অন্য কিছু ভাবতো। এই বয়সে মায়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতো। না তুললেও ভুল বুঝতো। যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা মায়ের প্রতি ছেলের ছিল, নিমিষে হয়তো সেটা ধুলিসাৎ হয়ে যেত।

নোংরা লোকটার প্রথম থেকেই কুনজর ছিল সায়মা বেগমের প্রতি। এতদিন সেই ভাবে বলার সুযোগ পায়নি। ভেবেছে ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে গেছে, এখন তিনি একা থাকেন। যে কোন ফালতু প্রস্তাব করা সম্ভব খুব সহজেই।

ইমপসিবল!

যে গভীর নিষ্পাপ ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধেছিল আরিফ সাহেব সায়মা বেগমকে। আজ এতগুলো বছর সায়মা বেগমকে একা করে চলে গেলেও সে বাঁধন এতটুকু চিহ্ন হয়নি। এখনো মনে হয় শরীরে, অন্তরে মানুষটার ছোঁয়া লেগে আছে। সত্যিই কিছু ভালোবাসার কখনো মৃত্যু হয় না। এরা দৃষ্টির অগোচরে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে চলে গেলেও নিজের পদচিহ্ন রেখে যায়।

২।
ঘড়িতে তিনটার এলার্ম বাজতেই, সায়মা বেগমের বুকের ভিতর ধক করে উঠল। ভেবেছিল অলস বিকালটা বই পড়ে অথবা টিভি দেখে কাটিয়ে দিবেন। কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়। যেভাবেই হোক তাঁকে এক্ষুনি বের হয়ে যেতে হবে, কোথাও বসে হলেও বিকেলটা কাটিয়ে আসতে হবে।

কিছুক্ষণ অাগে সায়মা বেগমের শাশুড়ি ফোন করে বলেছে নরপিশাচটা এসেছে। বিকালে সায়মা বেগমের বাসায় চা নাস্তা খেয়ে সন্ধ্যায় চলে যাবে। এই পথে কোথাও যেতে না-কি সবাইকে দেখতে এসেছে।

কত বড় মিথ্যাবাদী! রাতেই সায়মা বেগমকে ফোন করে বলেছিল-

শুধুমাত্র তাঁকে দেখার জন্য কোনো বায়না নিয়ে হলেও আসবে। নরপিশাচটা হলো সায়মা বেগমের বড় ননদাই। বয়স প্রায় পঁয়ষট্টির কাছাকাছি হবে। কিন্তু ডিফেন্সে চাকরি করার কারণে, সবসময় নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করেছে। তাই সহসায় তাকালে বয়স পঞ্চাশেরও কম মনে হয়। সুঠাম দেহ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চেহারা, যেটা ঢেকে রেখেছে, তার ভেতরের নোংরামি। সহজে সম্মোহিত করার এক অপরিসীস ক্ষমতা আছে তার। যে কারণে নরপিশাচটার চৌষট্টিটি জেলায় চৌষট্টিটি বান্ধবী আছে। প্রত্যকের সাথে তার শরীর বৃত্তীয় নোংরা সম্পর্ক।

সায়মা বেগম মাঝেমাঝে অবাক হন, তার ননাশকে দেখে। কী পরিমান ভালোবাসে নোংরা লোকটাকে! সারাক্ষণই প্রসংশায় পঞ্চমূখ থাকেন। অথচ তার চোখে চশমা পরিয়ে মাসের ত্রিশ দিনের মধ্য পঁচিশ দিনই বাড়ির বাইরে থাকে অসভ্য লোকটা।

বিয়ের প্রথম থেকেই বাজে লোকটার কুমতলব ছিল সায়মা বেগমের প্রতি। সায়মা বেগম প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে ধীরে ধীরে তার কাছে বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছে।

কিন্তু দূর্ভাগ্য তিনি কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি। স্বামীকে পর্যন্ত নয়। কেউ যদি ভুল বুঝে।
বিধবা হওয়ার পর তো একদমই সম্ভব হয়নি। অল্প বয়সী বিধবা মেয়েদের এই এক সমস্যা। আর সে বিধবা যদি রূপবতী হয়, তাহলে তো তাঁর আর কলঙ্কের অভাব নেই।

সবাই ভাবে তার শরীরের উপর সবার অলিখিত অধিকারবোধ আছে। স্বামীহারা সুন্দরী বিধবা নারী, চাইলেই সবাইকে স্বতীত্ব বিলিয়ে দিবে।

প্রথম প্রথম কারণে অকারণে সুযোগ পেলেই গায়ে হাত দিতে চাইতো নরপিশাচটা। তখন সায়মা বেগমও ছিল ভীষণ অসহায় অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে। সময়-অসময় সবাই করুণা করতে আসত। শালাকে দেখতে আসার বায়না করে প্রতি সাপ্তাহে চলে আসতো অসভ্য লোকটা। সুযোগ পেলেই গায়ে হাত দিতো, সাথে সাথে এমন ভান করতো সায়মা বেগমের মনে হতো বিষয়টা হয়তো তার নিজেরই ভুল। কিন্তু একদিন ফোন করে জানতে চাইলো

“কীভাবে রাত কাটাও তুমি? চাইলে সঙ্গ দিতে পারি তোমায়। ”

সেদিন ভীষণ অপমানবোধ কাজ করেছিল সায়মা বেগমের মনে।

লোকটা কেন তাকে এমন নোংরা প্রস্তাব করল?
তার চালচলনে কোনো ভুল ছিল না তো! এরপর থেকে সায়মা বেগম নিজেকে আরও গুটিয়ে নিলেন। খুব একটা প্রয়োজন না হলে লোকটার সামনে আসতেন না।

এরপর অনেকগুলো সময় পার হলো। সয়মা বেগম বিধবা হলেন। ছেলে বড় হলো। অসভ্য জানোয়ারটাও চাকরির কারণে ব্যস্ত ছিল দীর্ঘ সময়। হজ্জও না-কি করে এসেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলো বয়স বাড়লেও হজ্জ করে আসলেও নোংরা লোকটার স্বভাব চরিত্রে বিন্দু পরিমান পরিবর্তন হয়নি।

ননশের অসুস্থতার অজুহাতে এখন সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব করে বসল। সায়মা বেগম মোবাইলের নাম্বার পরিবর্তন করলেন, ফেসবুক থেকে ব্লক করলেন। তারপরও কীভাবে নাম্বার জোগাড় করে, হঠাৎ হঠাৎ অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে উল্টাপাল্টা কথা বলে।

” যেভাবেই হোক আমাকে তোমার সময় দিতেই হবে, বৈধভাবে হোক বা অবৈধভাবে।”

এরপর থেকে সায়মা বেগম ভয়ে ভয়ে আছেন। ইদানিং ছেলেটাকেও হাত করে ফেলেছে। ছেলে ফুফা বলতে অজ্ঞান। আসলে বাবা মারা যাওয়ার পর লোকটা বিভিন্ন সময় ছেলেটার বিভিন্ন আবদার মিটিয়েছে। ও তো জানে না সব কিছুর পিছনে লক্ষ্য ছিল ওর মা।

৩।
সামি কচ্ছপের মতো হাত পা গুটিয়ে ঝিম ধরে বসে আছে। বাহিরে কত ছেলে মেয়ের আসা যাওয়া। সামির সেদিকে বিশেষ কোনো নজর নেই। এই মূহুর্তে তার মনটা পড়ে আছে মায়ের কাছে। মায়ের জন্য ভীষণ মন খারাপ লাগছে। জন্মের পর থেকে প্রায় উনিশ বছর, একদিনের জন্যও সামি মাকে ছাড়া থাকেনি।

সারাক্ষণই মায়ের পিছে পিছে ছোট বাচ্চা ছেলের মতো ঘুরঘুর করতো। মাকে রান্না ঘরে কাজে সাহায্য করতো, মা’র মশারি লাগাত, ছাদ থেকে কাপড় এনে আলমারিতে মায়েরগুলো গুঁছিয়ে রাখত। একসাথে টিভি দেখত, অলস বিকালে চা খেতে খেতে গল্প করত। মায়ের যে সে ছাড়া আর কেউ নেই।

বাবার স্মৃতি বলতে তার কাছে সেই বিছানায় পড়ে থাকা অসুস্থ মানুষটা, যে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকত। হাড় লিকলিকে শুকনো কাঠির মতো হাতটা দিয়ে মাঝেমধ্যে মুখটা ছুঁয়ে দিতো। সামির ভীষণ ভালোলাগতো সেই স্পর্শ। আরো কিছুটা সময় বাবার পাশে থাকার ইচ্ছে পোষন করত। কিন্তু, আত্মীয় -স্বজনের কেউই খুব একটা তাকে বাবার কাছে থাকতে দিতো না। বাবার জন্য সামির ভীষণ মন খারাপ হতো।

বন্ধু -বান্ধব, খেলার সাথী সবাই যখন তাদের বাবার সাথে খেলতো, বাবার হাত ধরে মসজিদে যেতো, তখন সামির খুব মন খারাপ হতো। কিন্তু মা কষ্ট পাবে ভেবে কখনো বলেনি। যদিও সেই বয়সে বাবা মা’র কষ্ট বোঝার মতো বুদ্ধি হয়নি। তারপরও সামি ছিল সব বাচ্চাদের চেয়ে আলাদা। যে সব কিছু একটু বেশিই বুঝতো। প্রকৃতি মনে হয় তাকে একটু অতিরিক্ত বুদ্ধি দিয়েছে।

চার বছর বয়স থেকে সে একা একা ঘুমুতে শিখে গেছে। নিজে নিজে খেতে শিখে গেছে। দেখতো মা সারাক্ষণই ছোট্ট শিশুর মতো করে বাবাকে যত্ন করেন। ঐ বয়সে যে যত্ন সামির পাওয়ার কথা ছিল, সেটা করছে মা বাবার জন্য। তার পাঁচ বছর বয়সে বাবা হঠাৎ করে তাদেরকে একা করে দিয়ে পরপারে চলে যান।

সেই দিন ছিল শুক্রবার। আত্মীয়-স্বজন সবাই বাবাকে ঘিরে বসে ছিল। সবার মুখ থমথমে, সবাই মনেমনে দোয়া দুরুদ পড়ছিল। মা ঝিম মেরে ঘরের এক কোণে বসে ছিলেন। যে মা সারাক্ষণ ছায়ার মতো বাবার পাশেপাশে ছিলেন, সে মা’ই বাবার শেষ নিশ্বাসের সময় দূরে সরে ছিলেন। আসলে মা চাননি, মায়ের সামনে বাবা পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিক।

প্রায় তিনমাস হাসপাতালে থাকার পর ডাক্তার বলে দিয়েছিল সামির বাবা আরিফ সাহেব আর কত ঘণ্টা বাঁচবেন। মৃত্যু পূর্বের সময়টুকু যেন বাড়িতে সবার সাথেই থাকে।
তাই বাবার মৃত্যু নিয়ে কারো কোনো ভাবান্তর হয়নি। শুধু নিঃস্ব হয়ে গেলো সামি আর তার মা। মূহুর্তে মনে হলো পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল তাদের।
বাবা বিছানায় পড়ে থাকলেও মানু্ষটা ছিলেন, এটাই মায়ের বড় শক্তি। এরপর থেকে তাদের দু’জন মানুষের তারা নিজেরা ছাড়া আসলে সেই অর্থে আর আপন বলতে কেউ ছিল না।

নানা বাড়ির অনেকে মাকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মা, বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বাকি জীবন একাই কাটিয়ে দিতে চেয়েছেন।

সামির একটুও ইচ্ছে ছিল না, মাকে ছেড়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য একা রাজধানী শহরে আসতে। আজ দু’মাস সে শহরে এসেছে। এর মধ্য তিনবার বাড়ি গেছে মায়ের সাথে দেখা করার জন্য। গতকালই বাড়ি থেকে ফিরেছে। এখন আর হুটহাট করে বাড়ি যেতে পাররে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে। মাকে নিয়ে যে একসাথে শহরে থাকবে সে সামর্থ্যও নেই। বাবার রেখে যাওয়া টাকা দিয়ে এতদিন ওরা চলছে, বেশিরভাগ অর্থ সম্পদই বাবার চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়ে গেছে। ইনশাহ্আল্লাহ একটা চাকরি জোগাড় করতে পারলেই সামি মাকে নিয়ে আসবে নিজের কাছে।

হঠাৎ ফোনের শব্দে তার ধাতস্থ হলো। মোবাইল হাতে নিয়ে স্ক্রীনে তাকিয়ে দেখে বড় ফুফা।
তাড়াহুড়ো করে সামি ফোন রিসিভ করল। কারণ বড় ফুফাকে সে বরাবরই বাবার মতো শ্রদ্ধা করে। বাবা মারা যাবার পর ফুফাই তার ছোট খাট বেশির ভাগ আবদার মিটিয়েছে। মানুষটকে তার ভালোই লাগে।
কত সুন্দর বাবা বাবা করে কথা বলেন। কিন্তু কেন জানি সে প্রথম থেকে খেয়াল করেছে, মা কোনো এক বিশেষ কারণে বড় ফুফাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু কারণটা সামির কাছে স্পষ্ট নয়। মাঝেমাঝে মনে হয় এটা তার নিজের মনের ভুল হতে পারে।

হন্তদন্ত হয়ে ফোন রিসিভ করেই সামি বলল-
” আস্লামআলাইকুম। ফুফা কেমন আছেন?”
ফোনের অপর প্রান্তে এক ধরনের অলিখিত অধিকার মিশ্রিত অনুযোগ নিয়ে-

“কী ব্যাপার সামি? তুমি হোস্টেলে কেন? তোমার ফুফা কি মারা গেছে না-কি যে তোমাকে হোস্টেলে থাকতে হবে?”
সামি বুঝে উঠতে পারে না, কী জবাব দেবে, তারপরও মিনমিন করে –
“না মানে ফুফা!”

” কোনো মানে মানে করবে না। আমি তোমার হোস্টেলের নিচে আছি, এক্ষুনি নিচে নেমে আস।”

মূহুর্তে সামির মন ভালো হয়ে গেল। সে তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে এলো। আসলে দূরে কোথাও প্রিয়জন এভাবে খোঁজ নিতে সরাসরি চলে আসলে ভীষণ ভালোলাগা কাজ করে। আর ছোটবেলা বাবাকে হারিয়ে ভালোবাসার জন্য একটু বেশিই কাঙাল সামি। পিতৃস্থানীয় কেউ আদর করে কথা বললেই চোখে পানি চলে আসে তার।

কামরুন নাহার মিশু – গল্পাকারও উপন্যাসিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.