Take a fresh look at your lifestyle.

উত্তর দক্ষিন

447

উত্তরের বরুণ দক্ষিণের অরুণিমার আয়োনোস্ফিয়ারে জোনাকি রাতে এলোমেলো সম্পর্কের কথোপকথন…

দুই অচেনা অজানা হৃদয়ের অনেক না বলা কথার অনুরণিত অভিস্রবন আগুন্তুক অজানাকে আনমনে টানে বার বার…

হ্যালোও!
অরুনিমা!
আমি বরুণ বলছি…
হ্যালোও!
শোনা যাচ্ছে?

ওপার থেকে ভেসে আসা মায়াবী কণ্ঠস্বর…

কে বলছেন?
কোন বরুণ?
দুঃখিত…
চিনতে পারলাম না
রং নাম্বার…

আমি বরুণ…
তোর ডিপার্টমেন্টের…
ধুর পাগলী চিনতে পারিস না!
আরে আমি বরুণ… বরুণ…

শুনুন…
আমি অরুণিমা নোই…
বরুণ নামটা আমার স্মৃতিতেও নেই…
ও নামে আমি এখনো কাউকে জানি না চিনিও না…
কেন শুধু শুধু অচেনা অজানাকে নাম না জানা সমস্যার রম্বস জালে জড়ানো?

ভুলের জ্যামিতির ঘরে কোথাও একটা হচ্ছে অনিয়মের মস্ত বড় ভুল…

আমি মর্মিতা…
অজানা নাম্বারে ফোন করে বলছেন… অরুণিমা?
এসব ব্যাকডেটেড…
গৌরচন্দ্রিকা…
অন্যায় বায়নার গতানুগতিকতা…
এসব এখন আর চলে না…

কোথায় থাকেন আপনি?
ফোনটা রাখুন…
আর ফোন করবেন না…

প্রকট অস্বস্তির কাঁটার তীক্ষ্ণতার অন্তর্দাহ ফণীমনসাকেও হার মানায় বার বার সাঁঝরাতে…

আমি বরুণ…
শুকনা…
দার্জিলিং থেকে বলছি…
অরুনিমা ব্যানার্জী… সেবক রোডের যোজনগন্ধা কুটির নিবাসী একুশের শুকনাসী সুচিস্মিতা…
আমাদের বন্ধু মহলে পরিচিতির কোলাহলে ডাক নাম ছিল তার রূপসার তিতির… রিম্পা…

9977112299 নাম্বারটাই আমার নীল ডায়েরির গোলাপি বুকে বড়ো বড়ো করে খোদাই করেছিলো ঝর্ণা কলমে আমাদের শেষ দেখার দিনে…

জোয়ারে ভাঁটাতে সময়কে ধরতে ধরতে কখন ভোর হয়ে গেলো বুঝতে না পেরে কেটে গেছে অর্ধেক যুগ অজান্তে আনমনে…

বরুণ বাবু…
আপনার আদরের অরুনিমা… রিম্পা…
বা রূপসার তিতিরের কেউই নয় আমার আইসোটোপ আইসোবার…

আপনার অরুনিমা বা কমিউনিকেশন টেকনোলজির অপ্রত্যাশিত ছলনার বা চোরাভুলের জালে জড়িয়ে গেছে এপার ওপার…

অস্বস্তির অস্থিরতায় অযাচিত মানসিক প্রেশনায় বেকাদার ট্রাপিজিয়ামের বরুণ
কেমন যেন জড়িয়ে যায় নিজের সংকীর্ণ ভুল মনে…

কৌতুহলী মন বিশ্বাস অবিশ্বাসের সুক্ষ বাছবিচারে আশাহীন অজুহাতে জিজ্ঞাসা করে ওপারের অজানা অচেনা নাম ঠিকানা আনমনে…

কেন…?
কেন বলবো…?
অচেনা অজানা ইথারের সেলফোনে…
কেন দেবো নাম সাকিন ঠিকানা…?
নামটাই ভুলকরে বলে ফেলেছি…
সেটা হয়ে গেছে বেশ বড়ো ভুল।

কিশোরী মন আনমনে বলে ফেলেছে নাম আনমনা হয়ে
উটকো সংশয় মনে পায় অন্যায় আশ্রয়
মনে মনে ভেবে ভেবে হিসাবের ছকে গোনে আগামীর মাসুল।।

অজানা আনকোড়া উত্তর দক্ষিণ সময়ের আবেগী সমীকরণে কৌতুহলের নরম ডানায় ঘুড়ির মতো নীলাম্বরে ওড়ে…

মনের নরম টানে
নাম না জানা বানে
ঘুমন্ত কথার সাবলীল অঙ্কুরণ দুই অলিন্দে শেষ বিকেলের সোনালী আলোয়…

সম্ভাষণের আপনি থেকে তুমি… আগ্নেয়গিরির গলিত লাভা যে ভাবে মহাসাগরের বরফ জলে জমাট বেঁধে কঠিন হয়ে যায় সাগরের বুকে…

অল্প অল্প আধো আধো শৈশব কথারা ডাগর কিশোরী কথা হয়ে খুঁজে পায় চোরা আশ্রয়।

মর্মিতার সেলফোনে প্রেরিত বরুনের অনুবার্তা সময়ে অসময়ে কখনো মাঝরাতে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বরুণের ক্যাপিটাল B…

চার অলিন্দ নিলয়ের সরল সম্মেলন
চার আঁখিতে আঁখির মিলন বুনে রাখে কথার অনুকথন…

তখনো জেগে শুয়ে আছে আমলকির কলি পাতা দুটি
প্রথম ভালোলাগার অঙ্কুরোদ্গমের সময়।।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেলী শ্রেণিকক্ষে বরুণ বুঝতো রোমান্টিসিজমের গুরু কিটস ওয়ার্ডসওয়ার্থ শেক্সপীয়ার শেলী এলিয়ট বায়রন…

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মর্মিতা মেহগিনির ছত্রছায়ায় শিখতো যুক্তি তর্ক চার্বাক ন্যায় দর্শন…

পূর্ণিমারাতে নিদ্রাহীন বিছানায় মর্মিতার মধ্যমার ছোঁয়ায় অজানা রোমাঞ্চকর আবেগে বরুণের নাম্বার ঝকঝকে ইলেক্ট্রনিক পর্দায় হেলে দুলে আসে যায়…

নেতাজি হোস্টেলের বরুণ তখন গভীর ঘুমের দেশে শক্ত তক্তায়
রিংটোনের অনুসুরে হৃদয়ে কম্পিত আবেশী নিগুম অনুরণন।।

কী করছো…?
ইসস…
ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম…
আমার বৈরাগী ঘুম আজ নিয়েছে ছুটি
ওরাও আমার মতো অসময়ে অকারণে করে অস্থিরতার কাটাকুটি
কী জানি কেন
কোথায় চলে গেছে ঘুম…
ঘুমেদের দেশে আমি এখনো জেগে আছি…
সাথে আছে মাঝরাতের আকাশে ঝোলা অন্তস্বত্ত্বা ঘোলা চাঁদ।

উত্তরবঙ্গের বরুণ ঘুম ঘুম চোখে
হৃদয়ে আবেগে আবেশিত হয়ে
পাশের বেডের সুমিতের ভয়ে
চোরের মতো উঠে যায় পাঁচ তলার ছাদে নীরবে সন্তর্পনে ধুলোমাখা সিঁড়িবেয়ে গোপন ডেরায়…

সে রাতেই অভিসারের উন্মাদে বরুণ আবিষ্কার করে নতুন বসুন্ধরার একটা আলাদা আম্রপালী ভালোবাসার ছাদ।।

অরুণিমা হারিয়ে গেছে নোঙ্গরহীন জল জাহাজের মতো অথৈ মহাসাগরে সাগরকে ভালোবেসে
যে ভাবে বায়ুমন্ডলে ধোঁয়ারা আবছা চাদরে মুখ ঢাকে সাঁঝবাসরে…

মর্মিতার অভিসারী আগমনে
অরুনিমা রাতের আকাশের কালপুরুষের ঘরে সাজায় অজানা বাসর বাসা…

ভরা বর্ষা প্রাক্কালে গঙ্গাফড়িং নিয়ে আসে বৃষ্টিবার্তার আগমন
যেভাবে এনেছিল মর্মিতা বরুণের ভাবনার ঘরে…

অভিসারের অনুরণনে অনুরাগের অনুস্মরণে
উত্তর দক্ষিণের মঞ্জরীর মঞ্জুষা সহবস্থান।

সাহিত্যের দর্শন দর্শনের সাহিত্য মিলে গেছে মিশে গেছে মনোহরণ মনমোহনায়…
চৈতালি বৃষ্টি মাখা সোঁদামাটির গন্ধে মৃদুমন্দ ছন্দে আয়োনোস্ফিয়ারে নীলতারারা দেখে নেয় অঙ্কুরিত ভালোবাসার আয়ুষ্মান।।

এখনো হয়নি দেখা চার রেটিনায়
এখনো হয়নি লেখা নীলখামে গোলাপি গাথায়
এখনো হয়নি দেওয়া
প্রথম শাপলা শালুক শিউলির বৈজয়ন্তী মালা…
এখনো হয়নি খাওয়া রেস্তোরার মাটন বিরিয়ানি ভেজিটেবল স্যালার্ড…
এখনো ভাবের ঘরে
এখনো ভালোবাসার প্রথম দ্বারে
এখনো খোঁজে সখা প্রাণের সখীরে।

একদিন সেদিন এল
আঁখিতে আঁখি
মিলনের দিন
শান্তিনিকেতনের দোলপূর্ণিমায়
কল্পনার চোখে মনের ভাবনায় এঁকে রাখা চাঁদবদন…
খোয়াইয়ের চাঁদের হাটে সোনাঝুরির রেণু মেখে পিপাসিত দুটি অকৃত্রিম মন…

আবেগের চাদরে মুড়ে
অভিসারের সংসারে হাজির ছিল দুইবঙ্গের দুই প্রতিনিধি হৃদয় বাক্স ভরে।।

মাসকয়েক পরে আবার বরুণ আসে মেহগিনি তরুতলে বসে দুই হৃদয়…
পাশাপাশি হাঁটা দুই কোমল কাঁচা হাত নীরবে রচনা করে উষ্ণতা বিনিময়ের সুক্ষ ইতিহাস…
আস্বাসে বিশ্বাসে সহবস্থানের মিথোজীবী ছন্দে আদুড় উষ্ণতার উৎসারিত বিশ্বাস আয়ন।

শুকনাসী মর্মিতা আলতো অমায়িক সিক্ত অনুপ্রাসে জিজ্ঞাসিল…
কেন মোরে ভালোবাসো?

বৈশাখী বৃষ্টিতে ভেজা বসুন্ধরার নরম মাটির সোঁদা গন্ধ তখনো বাতাসে ঘুরে ফিরে এসে ওদের পাশে পাশে থাকে অঙ্কুরণের বার্তা যোজনায়…

বরুণ উত্তরে বলে… ভালোবাসি! ভালোবাসি!
কারণ নাহি জানি
ভালোবাসার কারণ খুঁজে পাইনা তাই ভালোবাসি…
আমি কি ভালোবাসার অন্তর্যামী? ভালোবাসাটা তোমার আমার রক্তিম হিমোগ্লোবিনের সংকরায়ন।।

এক কালবৈশাখী বিকেলে উঠলো কালো কালঝড়…
উত্তরবঙ্গের নেতাজি হোস্টেলে ভেঙেচুরে গেছে সবকিছু… সুপারমার্কেট শপিংমল…
উপরে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি…
যেমন করে সম্পর্করা বেহায়ার মতো মতো লুকিয়ে বেড়ায় আঁধারের রং মেখে…
সেই রাতে সেলফোনে এল অরুনিমার বহুদিন ধরে জমাট বাঁধা বার্তা…
বহু কথা বহু ব্যাথা বলেও বলা হয় না শেষ।

একটা কথাও পারেনি বলতে বরুণ
ভাগ্যের পরিহাসে অমোঘ আক্রোশে নিদারুন নিষ্করুণ…
শুধুই একটাই কথা বলেছিলো সেদিন…

এতো দিন কোথায় ছিলি পাগলী!
তুই হারিয়ে গেছিস কোন গোবি সাহারায়?
এখন কী করি?
কোথায় আমি হারাই? তোকে কোথায় হারাই?
আমি যে পরশ পাথর খোঁজা ফকির পরদেশ।।

অনেক খুঁজেছি তোকে
গিয়েছি দার্জিলিং শুকনা শিলিগুড়ি সেবকের রাস্তায়…

তুই অরুনিমা
বেওয়ারিশ বাতাসের বাতাসী হয়ে ঘুরেছিস মহানগর থেকে মহানগরের রাজপথে একা একা বৈষ্ণবী বৈরাগী বেহুলা…

পরিযায়ী পাখির ডানা বেয়ে পাহাড়ের কোলে কোলে তোর লাগি আমি বৈরাগী লক্ষীন্দর…

অনেক ঘুরপাক খেয়ে সময়ের ঘূর্ণাবর্তে
তুই এক একাদশীর অরুনিমা আনমনা।

বন্ধু…
বন্দি হয়েছি আমি বেহুলার লোহার ঘরে
বন্দিনীর রম্বস রঞ্জণে অজানা মাহেন্দ্রক্ষণে…

তোর অনুসন্ধান
তোর পর্যবেক্ষণ
তোর তদারকি
কেউ বলেনি তোর সাকিন…
কেউ দেখায়নি সীতার মতো ফেলে যাওয়া বাল্মীকি পথ কঙ্কন
কেউ রাখেনি কথার কথন…
মেলেনি তোর কোনো অনুবর্তিত অনুবাসন…
পরিযায়ী পাখির মতো
আমি আজ বন্দিস বরুণ…

আমি হেরে গেছি হৃদয়ের দ্বন্দ্বে
আমি ঝড়ে পড়া পালভাঙ্গা তরীর মতো হারানো ছন্দে
অজানা আনমনা রিক্ততার ব্যঞ্জনে
আমি এখন মর্মিতায়ণ…
আমি বরুণ আজ বৈরাগী বাউলে বন্দনা।।

কোথায় আছিস?
তুই কাল চলে আয় এয়ার ভিউ মোরে…
থাকবো অপেক্ষায় তোর লোগে সাঁঝবেলা…

রাতের মেইলট্রেন ধরে এলো মর্মিতা সময়ের সন্ধিক্ষণে…
আষাঢ়ি মেঘের দিগন্ত রেখায়…
গোধূলি বেলায় রামধনু অনুক্ষনে।

হারানো শিলিগুড়ির অরুণিমাও এলো গোধূলির আলো মেখে গজদন্তে…
সেই শুকনা আর্মি পাবলিক স্কুলের হার্টথ্রোব গজদন্তী
সেই বাম অলিন্দের অনুরনণের অরুণিমা অরুনিমা…
সেই শুকনাসী অরু…

অরুনিমা মর্মিতা বরুণ তিন জন ত্রিমোহিনীতে রাস্তায় ধারে মাটির ভাড়ে দেয় চিরন্তনী চুমুকের চুম্বন…

অরুণিমা বরুণ মর্মিতা
না…!
মর্মিতা বরুণ অরুনিমা
রামধনুর রঙ মেখে তিন জন মিশে গেছে মিলে গেছে সাহিত্য দর্শনে।।

নাটকীয় ছন্দে অরুণিমা ধীর লয়ে পিচ কালো রাস্তায় সেবকের অটো খোঁজে নীরবে…
দিনের শেষে সন্ধ্যা আসে
রাত মাখে নিয়নের আলো
যেতে যেতে মাঝ পথে থেমে যাওয়া অরুণিমা মনে মনে বলে…
বরুণ তুই থাকিস ভালো…।।উত্তর দক্ষিণ

বরুণ মেঘ
ডিসেম্বর ২০২০

উত্তরের বরুণ দক্ষিণের অরুণিমার আয়োনোস্ফিয়ারে জোনাকি রাতে এলোমেলো সম্পর্কের কথোপকথন…

দুই অচেনা অজানা হৃদয়ের অনেক না বলা কথার অনুরণিত অভিস্রবন আগুন্তুক অজানাকে আনমনে টানে বার বার…

হ্যালোও!
অরুনিমা!
আমি বরুণ বলছি…
হ্যালোও!
শোনা যাচ্ছে?

ওপার থেকে ভেসে আসা মায়াবী কণ্ঠস্বর…

কে বলছেন?
কোন বরুণ?
দুঃখিত…
চিনতে পারলাম না
রং নাম্বার…

আমি বরুণ…
তোর ডিপার্টমেন্টের…
ধুর পাগলী চিনতে পারিস না!
আরে আমি বরুণ… বরুণ…

শুনুন…
আমি অরুণিমা নোই…
বরুণ নামটা আমার স্মৃতিতেও নেই…
ও নামে আমি এখনো কাউকে জানি না চিনিও না…
কেন শুধু শুধু অচেনা অজানাকে নাম না জানা সমস্যার রম্বস জালে জড়ানো?

ভুলের জ্যামিতির ঘরে কোথাও একটা হচ্ছে অনিয়মের মস্ত বড় ভুল…

আমি মর্মিতা…
অজানা নাম্বারে ফোন করে বলছেন… অরুণিমা?
এসব ব্যাকডেটেড…
গৌরচন্দ্রিকা…
অন্যায় বায়নার গতানুগতিকতা…
এসব এখন আর চলে না…

কোথায় থাকেন আপনি?
ফোনটা রাখুন…
আর ফোন করবেন না…

প্রকট অস্বস্তির কাঁটার তীক্ষ্ণতার অন্তর্দাহ ফণীমনসাকেও হার মানায় বার বার সাঁঝরাতে…

আমি বরুণ…
শুকনা…
দার্জিলিং থেকে বলছি…
অরুনিমা ব্যানার্জী… সেবক রোডের যোজনগন্ধা কুটির নিবাসী একুশের শুকনাসী সুচিস্মিতা…
আমাদের বন্ধু মহলে পরিচিতির কোলাহলে ডাক নাম ছিল তার রূপসার তিতির… রিম্পা…

9977112299 নাম্বারটাই আমার নীল ডায়েরির গোলাপি বুকে বড়ো বড়ো করে খোদাই করেছিলো ঝর্ণা কলমে আমাদের শেষ দেখার দিনে…

জোয়ারে ভাঁটাতে সময়কে ধরতে ধরতে কখন ভোর হয়ে গেলো বুঝতে না পেরে কেটে গেছে অর্ধেক যুগ অজান্তে আনমনে…

বরুণ বাবু…
আপনার আদরের অরুনিমা… রিম্পা…
বা রূপসার তিতিরের কেউই নয় আমার আইসোটোপ আইসোবার…

আপনার অরুনিমা বা কমিউনিকেশন টেকনোলজির অপ্রত্যাশিত ছলনার বা চোরাভুলের জালে জড়িয়ে গেছে এপার ওপার…

অস্বস্তির অস্থিরতায় অযাচিত মানসিক প্রেশনায় বেকাদার ট্রাপিজিয়ামের বরুণ
কেমন যেন জড়িয়ে যায় নিজের সংকীর্ণ ভুল মনে…

কৌতুহলী মন বিশ্বাস অবিশ্বাসের সুক্ষ বাছবিচারে আশাহীন অজুহাতে জিজ্ঞাসা করে ওপারের অজানা অচেনা নাম ঠিকানা আনমনে…

কেন…?
কেন বলবো…?
অচেনা অজানা ইথারের সেলফোনে…
কেন দেবো নাম সাকিন ঠিকানা…?
নামটাই ভুলকরে বলে ফেলেছি…
সেটা হয়ে গেছে বেশ বড়ো ভুল।

কিশোরী মন আনমনে বলে ফেলেছে নাম আনমনা হয়ে
উটকো সংশয় মনে পায় অন্যায় আশ্রয়
মনে মনে ভেবে ভেবে হিসাবের ছকে গোনে আগামীর মাসুল।।

অজানা আনকোড়া উত্তর দক্ষিণ সময়ের আবেগী সমীকরণে কৌতুহলের নরম ডানায় ঘুড়ির মতো নীলাম্বরে ওড়ে…

মনের নরম টানে
নাম না জানা বানে
ঘুমন্ত কথার সাবলীল অঙ্কুরণ দুই অলিন্দে শেষ বিকেলের সোনালী আলোয়…

সম্ভাষণের আপনি থেকে তুমি… আগ্নেয়গিরির গলিত লাভা যে ভাবে মহাসাগরের বরফ জলে জমাট বেঁধে কঠিন হয়ে যায় সাগরের বুকে…

অল্প অল্প আধো আধো শৈশব কথারা ডাগর কিশোরী কথা হয়ে খুঁজে পায় চোরা আশ্রয়।

মর্মিতার সেলফোনে প্রেরিত বরুনের অনুবার্তা সময়ে অসময়ে কখনো মাঝরাতে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বরুণের ক্যাপিটাল B…

চার অলিন্দ নিলয়ের সরল সম্মেলন
চার আঁখিতে আঁখির মিলন বুনে রাখে কথার অনুকথন…

তখনো জেগে শুয়ে আছে আমলকির কলি পাতা দুটি
প্রথম ভালোলাগার অঙ্কুরোদ্গমের সময়।।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেলী শ্রেণিকক্ষে বরুণ বুঝতো রোমান্টিসিজমের গুরু কিটস ওয়ার্ডসওয়ার্থ শেক্সপীয়ার শেলী এলিয়ট বায়রন…

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে মর্মিতা মেহগিনির ছত্রছায়ায় শিখতো যুক্তি তর্ক চার্বাক ন্যায় দর্শন…

পূর্ণিমারাতে নিদ্রাহীন বিছানায় মর্মিতার মধ্যমার ছোঁয়ায় অজানা রোমাঞ্চকর আবেগে বরুণের নাম্বার ঝকঝকে ইলেক্ট্রনিক পর্দায় হেলে দুলে আসে যায়…

নেতাজি হোস্টেলের বরুণ তখন গভীর ঘুমের দেশে শক্ত তক্তায়
রিংটোনের অনুসুরে হৃদয়ে কম্পিত আবেশী নিগুম অনুরণন।।

কী করছো…?
ইসস…
ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম…
আমার বৈরাগী ঘুম আজ নিয়েছে ছুটি
ওরাও আমার মতো অসময়ে অকারণে করে অস্থিরতার কাটাকুটি
কী জানি কেন
কোথায় চলে গেছে ঘুম…
ঘুমেদের দেশে আমি এখনো জেগে আছি…
সাথে আছে মাঝরাতের আকাশে ঝোলা অন্তস্বত্ত্বা ঘোলা চাঁদ।

উত্তরবঙ্গের বরুণ ঘুম ঘুম চোখে
হৃদয়ে আবেগে আবেশিত হয়ে
পাশের বেডের সুমিতের ভয়ে
চোরের মতো উঠে যায় পাঁচ তলার ছাদে নীরবে সন্তর্পনে ধুলোমাখা সিঁড়িবেয়ে গোপন ডেরায়…

সে রাতেই অভিসারের উন্মাদে বরুণ আবিষ্কার করে নতুন বসুন্ধরার একটা আলাদা আম্রপালী ভালোবাসার ছাদ।।

অরুণিমা হারিয়ে গেছে নোঙ্গরহীন জল জাহাজের মতো অথৈ মহাসাগরে সাগরকে ভালোবেসে
যে ভাবে বায়ুমন্ডলে ধোঁয়ারা আবছা চাদরে মুখ ঢাকে সাঁঝবাসরে…

মর্মিতার অভিসারী আগমনে
অরুনিমা রাতের আকাশের কালপুরুষের ঘরে সাজায় অজানা বাসর বাসা…

ভরা বর্ষা প্রাক্কালে গঙ্গাফড়িং নিয়ে আসে বৃষ্টিবার্তার আগমন
যেভাবে এনেছিল মর্মিতা বরুণের ভাবনার ঘরে…

অভিসারের অনুরণনে অনুরাগের অনুস্মরণে
উত্তর দক্ষিণের মঞ্জরীর মঞ্জুষা সহবস্থান।

সাহিত্যের দর্শন দর্শনের সাহিত্য মিলে গেছে মিশে গেছে মনোহরণ মনমোহনায়…
চৈতালি বৃষ্টি মাখা সোঁদামাটির গন্ধে মৃদুমন্দ ছন্দে আয়োনোস্ফিয়ারে নীলতারারা দেখে নেয় অঙ্কুরিত ভালোবাসার আয়ুষ্মান।।

এখনো হয়নি দেখা চার রেটিনায়
এখনো হয়নি লেখা নীলখামে গোলাপি গাথায়
এখনো হয়নি দেওয়া
প্রথম শাপলা শালুক শিউলির বৈজয়ন্তী মালা…
এখনো হয়নি খাওয়া রেস্তোরার মাটন বিরিয়ানি ভেজিটেবল স্যালার্ড…
এখনো ভাবের ঘরে
এখনো ভালোবাসার প্রথম দ্বারে
এখনো খোঁজে সখা প্রাণের সখীরে।

একদিন সেদিন এল
আঁখিতে আঁখি
মিলনের দিন
শান্তিনিকেতনের দোলপূর্ণিমায়
কল্পনার চোখে মনের ভাবনায় এঁকে রাখা চাঁদবদন…
খোয়াইয়ের চাঁদের হাটে সোনাঝুরির রেণু মেখে পিপাসিত দুটি অকৃত্রিম মন…

আবেগের চাদরে মুড়ে
অভিসারের সংসারে হাজির ছিল দুইবঙ্গের দুই প্রতিনিধি হৃদয় বাক্স ভরে।।

মাসকয়েক পরে আবার বরুণ আসে মেহগিনি তরুতলে বসে দুই হৃদয়…
পাশাপাশি হাঁটা দুই কোমল কাঁচা হাত নীরবে রচনা করে উষ্ণতা বিনিময়ের সুক্ষ ইতিহাস…
আস্বাসে বিশ্বাসে সহবস্থানের মিথোজীবী ছন্দে আদুড় উষ্ণতার উৎসারিত বিশ্বাস আয়ন।

শুকনাসী মর্মিতা আলতো অমায়িক সিক্ত অনুপ্রাসে জিজ্ঞাসিল…
কেন মোরে ভালোবাসো?

বৈশাখী বৃষ্টিতে ভেজা বসুন্ধরার নরম মাটির সোঁদা গন্ধ তখনো বাতাসে ঘুরে ফিরে এসে ওদের পাশে পাশে থাকে অঙ্কুরণের বার্তা যোজনায়…

বরুণ উত্তরে বলে… ভালোবাসি! ভালোবাসি!
কারণ নাহি জানি
ভালোবাসার কারণ খুঁজে পাইনা তাই ভালোবাসি…
আমি কি ভালোবাসার অন্তর্যামী? ভালোবাসাটা তোমার আমার রক্তিম হিমোগ্লোবিনের সংকরায়ন।।

এক কালবৈশাখী বিকেলে উঠলো কালো কালঝড়…
উত্তরবঙ্গের নেতাজি হোস্টেলে ভেঙেচুরে গেছে সবকিছু… সুপারমার্কেট শপিংমল…
উপরে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি…
যেমন করে সম্পর্করা বেহায়ার মতো মতো লুকিয়ে বেড়ায় আঁধারের রং মেখে…
সেই রাতে সেলফোনে এল অরুনিমার বহুদিন ধরে জমাট বাঁধা বার্তা…
বহু কথা বহু ব্যাথা বলেও বলা হয় না শেষ।

একটা কথাও পারেনি বলতে বরুণ
ভাগ্যের পরিহাসে অমোঘ আক্রোশে নিদারুন নিষ্করুণ…
শুধুই একটাই কথা বলেছিলো সেদিন…

এতো দিন কোথায় ছিলি পাগলী!
তুই হারিয়ে গেছিস কোন গোবি সাহারায়?
এখন কী করি?
কোথায় আমি হারাই? তোকে কোথায় হারাই?
আমি যে পরশ পাথর খোঁজা ফকির পরদেশ।।

অনেক খুঁজেছি তোকে
গিয়েছি দার্জিলিং শুকনা শিলিগুড়ি সেবকের রাস্তায়…

তুই অরুনিমা
বেওয়ারিশ বাতাসের বাতাসী হয়ে ঘুরেছিস মহানগর থেকে মহানগরের রাজপথে একা একা বৈষ্ণবী বৈরাগী বেহুলা…

পরিযায়ী পাখির ডানা বেয়ে পাহাড়ের কোলে কোলে তোর লাগি আমি বৈরাগী লক্ষীন্দর…

অনেক ঘুরপাক খেয়ে সময়ের ঘূর্ণাবর্তে
তুই এক একাদশীর অরুনিমা আনমনা।

বন্ধু…
বন্দি হয়েছি আমি বেহুলার লোহার ঘরে
বন্দিনীর রম্বস রঞ্জণে অজানা মাহেন্দ্রক্ষণে…

তোর অনুসন্ধান
তোর পর্যবেক্ষণ
তোর তদারকি
কেউ বলেনি তোর সাকিন…
কেউ দেখায়নি সীতার মতো ফেলে যাওয়া বাল্মীকি পথ কঙ্কন
কেউ রাখেনি কথার কথন…
মেলেনি তোর কোনো অনুবর্তিত অনুবাসন…
পরিযায়ী পাখির মতো
আমি আজ বন্দিস বরুণ…

আমি হেরে গেছি হৃদয়ের দ্বন্দ্বে
আমি ঝড়ে পড়া পালভাঙ্গা তরীর মতো হারানো ছন্দে
অজানা আনমনা রিক্ততার ব্যঞ্জনে
আমি এখন মর্মিতায়ণ…
আমি বরুণ আজ বৈরাগী বাউলে বন্দনা।।

কোথায় আছিস?
তুই কাল চলে আয় এয়ার ভিউ মোরে…
থাকবো অপেক্ষায় তোর লোগে সাঁঝবেলা…

রাতের মেইলট্রেন ধরে এলো মর্মিতা সময়ের সন্ধিক্ষণে…
আষাঢ়ি মেঘের দিগন্ত রেখায়…
গোধূলি বেলায় রামধনু অনুক্ষনে।

হারানো শিলিগুড়ির অরুণিমাও এলো গোধূলির আলো মেখে গজদন্তে…
সেই শুকনা আর্মি পাবলিক স্কুলের হার্টথ্রোব গজদন্তী
সেই বাম অলিন্দের অনুরনণের অরুণিমা অরুনিমা…
সেই শুকনাসী অরু…

অরুনিমা মর্মিতা বরুণ তিন জন ত্রিমোহিনীতে রাস্তায় ধারে মাটির ভাড়ে দেয় চিরন্তনী চুমুকের চুম্বন…

অরুণিমা বরুণ মর্মিতা
না…!
মর্মিতা বরুণ অরুনিমা
রামধনুর রঙ মেখে তিন জন মিশে গেছে মিলে গেছে সাহিত্য দর্শনে।।

নাটকীয় ছন্দে অরুণিমা ধীর লয়ে পিচ কালো রাস্তায় সেবকের অটো খোঁজে নীরবে…
দিনের শেষে সন্ধ্যা আসে
রাত মাখে নিয়নের আলো
যেতে যেতে মাঝ পথে থেমে যাওয়া অরুণিমা মনে মনে বলে…
বরুণ তুই থাকিস ভালো…

 

বরুন মেঘ –

কবি ও সহিত্যিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.