Take a fresh look at your lifestyle.

পাঠ প্রতিক্রিয়া ( মৃত্যু  ক্ষুধা )

257

বইয়ের নামঃ মৃত্যুক্ষুধা
লেখকঃ কাজী নজরুল ইসলাম
প্রকাশকঃ আহমেদ মাহমুদুল হক
প্রচ্ছদঃ সমর মজুমদার
মূল্যঃ ১২৫/-
পৃষ্ঠাঃ ৮০

মৃত্যুক্ষুধা হাতে নিয়ে অনেক ভেবেছি। পড়েছি বার দুয়েক, কেঁদেছিও বইয়ের উপজীব্য বিষয় নিয়ে আমার আলোচনা ও করেছি ডজনখানেক উচ্চশিক্ষিত লোকের সাথে।

কাজী নজরুল ইসলাম এ উপন্যাসের ভিতরে প্রতি লাইনে মেজেস দিয়েছেন মানবতার কাছে।
১৯২৩ এর পরের দিকে সওগাত পত্রিকায় এ লেখাটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতো।

ঐ সময় কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন খুব অসচ্ছল মানুষ। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা।
তার ছেলে ও প্রিয়জনও পাশে ছিলনা।

কালজয়ী এ উপন্যাসের ভিতরে প্রকৃত সমাজ আর জন জীবনে কথা প্রকাশিত হয়েছে নিখুঁত ভাবে।
পারিবারিক জীবনে যখন অভাব দ্বারে ঘুরতে থাকে ঠিক তখনই – সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া, অসুস্থ হওয়া, মেহমান আসা যেন নিত্য দিনের ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়।

ছোট বউ, মেঝ বউ, বড় বউ যেমন আচরণ করুক-এটাই বারবার জানান দেয় যে, বিপদ মুসিবতেরা ৭ ভাই; একজন যেখানে যাই সেখানেই সবাই পিছু পিছু যায়।

ধর্মীয় শ্রেণি ব্যাবধান, পেশাদারিত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এ গ্রন্থের পরতে পরতে।
বৃটিশ বিরোধী মনোভাব আর নিরব প্রতিবাদ যেন এ গ্রন্থের আরেক বাস্তব চিত্র।

উপন্যাসের ভিতরে কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর নিজ চিন্তার দর্পণে প্রকাশ করলেন ব্যক্তি জীবনের ঘটনা

” ছেলেমেয়েরা ততক্ষণে ক্ষীণ খেয়ে মহা আনন্দে বৌ পালালো খেলছে!
ওদেরই একজন… বাপের বাড়ীর পানে দৌড়েছ এবং তার পেছনে বাকী সবাই গাইতে গাইতে ছুটছে –
বৌ পালালো বৌ পালালো
ক্ষুদের হাঁড়ি নিয়ে,
সেই বৌকে আনতে যাবো মুড়োঝাটা নিয়ে। ”

সেই সময়ের কালচার যেমন বের হলো তেমনি কিছু শিখিয়েও গেল।

মানুষ যে সময় ভাত পেত না বরং ক্ষুদ খেয়ে জীবন চলতো, তখন যদি বউ ক্ষুদের হাঁড়ি নিয়ে পালায় তাকে মুড়োঝাটা নিয়ে আনার চেষ্টা করতে হয়।

সংসারে যখন অভাব অনটন তখন ডাক্তার সঠিক চিকিৎসা দিলেও অনেকেই বলে ডাক্তারের খেয়ে কাজ নেই… বেহুঁশ ডাক্তার।

মানুষ অসংগতিতে থাকলে কত প্রলাপ করে-

” দিন যায়, দিন আসে, আবার দিন যায়।
এরই মধ্যে একদিন গজালের মা চীৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ঢুকে একেবারে মেঝ- বৌর পায়ের ওপর পড়ে মাথামুখ খুঁড়তে লাগল।
সঙ্গে সঙ্গে গালি, উপরোধ, অনুরোধ, অনুনয়-বিনয় তার কতক বুঝা গেল, কতক গেল না।”

জীবনের চাহিদা মেটাতে কোনটাতে জাত যাবে না যাবে এগুলো মানুষ দেখে না।
দেখে মানুষ ধর্ম ও কর্ম।
এ আলোচনা তুলনা মূলক ভাবে স্হান পেয়েছে মৃত্যুক্ষুধায়।

উপলব্ধি আর বোধের জগৎ সম্প্রসারিত হয়েছে এ উপন্যাসে।
আমার নতুন নতুন অর্জন সঞ্চিত হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের এ গ্রন্থে।

আব্দুল মতিন –  সম্পাদক, চেতনা বিডি ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.