Take a fresh look at your lifestyle.

পোস্টমার্টেম – ৪

258

 

শিহাব ফোন রিসিভ করতেই ওর হাসপাতালের ম্যানেজার আশিক বললো স্যার এম ডি স্যার আপনাকে সালাম দিয়েছেন।
শিহাব দ্রুত পায়ে বের হতেই ওর আম্মু একটু বিচলিত হয়ে উঠলো। এমন সময় কোথায় যাস আব্বু? শিহাব বললো আমি আসছি এম ডি স্যার ডেকেছেন। শিহাব চলে গেলো।
এম ডি স্যারের রুমে যেতেই উনি বললেন ডাঃ সাহেব অভিনন্দন। ডাঃ শিহাব একটু চমকে উঠে বললো কেনো স্যার?
এম ডি স্যার বললেন, আপনাকে আমাদের RMO পদে নিযুক্ত করতে চাই। শিহাব বললো স্যার আমি এই দায়িত্ব পালন করতে পারবোতো?
কেনো নয় ডাক্তার সাহেব। আপনি জুনিয়র হলেও আমারা বোর্ডের সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপনার কোয়ালিটি,আপনার ব্যক্তিত্ত্ব, আপনার কর্মদক্ষতা এই পদের জন্য উপযুক্ত। শিহাব আরো কিছুক্ষণ ওনার সাথে কথা বলে বাসার উদ্দেশ্য বের হতেই পিয়াসার ফোন এলো।
পিয়াসা বললো, স্যার আসসালামুয়ালাইকুম। congregation.
শিহাব: তুমি কোথায়?
পিয়াসা : এইতো স্যার ডিউটিতে।
শিহাব : একটু নিচে আসবে?
পিয়াসা: হ্যাঁ স্যার আসছি।
বলেই পাঁচ মিনিটের ভিতর নিচে নামলো পিয়াসা। শিহাব বললো চলো বসি। দুজনে হাটতে হাটতে ওদের পরিচিত ক্যাফেটেরিয়া কফি শপে এসে বসলো।
শিহাব বললো আচ্ছা হঠাৎ আমাকে এভাবে স্যার কেনো বলছো বলোতো।
পিয়সা বললো না তেমন কিছুই না আজ থেকে আমাদের হাসপাতালের আর এম ও তুমি আর তাছাড়া তুমিতো আমাকে সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চলেছো তাইনা?
ওরা দুজনে চুপ করে রইলো কিছুক্ষণ। যেনো পৃথিবীর সব অভিমান অনুরাগ আজ ওদের দলে। হঠাৎ শিহাবের ফোনে বেজে উঠলো ” যদি হিমালয় আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ, একদিন গলেও যায় তবুও তুমি আমার….”
মান্না বাবুর এই গানটি শুনে দুজনের চোখ অশ্রু সজল হয়ে উঠলো।
নিজেকে সংবরন করে শিহার কফির অর্ডার করলো। কফি খেতে খেতে শিহাব বললো আমাদের আসলে কারো কিছু করার নাই তুমি মন খারাপ করোনা একদম। আমাদের ভালোবাসা আমৃত্যু থেকে যাবে আমাদের সৃষ্টিতে আমাদের সেবায়। চলো আজ হতে আমরা শপথ করি মানব সেবায় আমারা আমাদের উৎসর্গ করবো। পাশাপাশি থেকে দুজনের সৃষ্টি ছড়িয়ে দেবো। আলোকিত এক পৃথিবী আমাদের চিনবে নতুন করে।
পিয়াসা বললো সেটা কি আর সম্ভব হবে কখনো শিহাব? হ্যাঁ পিয়াসা সম্ভব। আমাদের একটা ট্রাষ্টি বোর্ড হবে ” এস পি ফাউন্ডেশন ” আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবোই আল্লাহ সহায় থাকলে।
পিয়াসা যেনো খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠলো। পিয়াসা হাত বাড়িয়ে দিলো। নতুন এক শপথে আবদ্ধ হলো দুজন।
শিহাব বললো,তোমাকে একটা কথা বলবো তুমি শুনবে?
পিয়াসা, হ্যাঁ বলো
আমি রবিবার যাবো আম্মু আব্বুর পছন্দ করা পাত্রী দেখতে যদি তুমি সম্মতি দাও। আর তুমি ও আংকেল আন্টির পছন্দ করা পাত্রকেই বিয়ে করবে খুব তাড়াতাড়ি।
হ্যাঁ শিহাব আমি কথা দিলাম।
আর তুমি রবিবার যাও দোয়া রইলো তোমাদের জন্য।
আগামীকাল হাসপাতালে আসবে?
হ্যাঁ আসবো, বেলা তিনটায়।
একটা অপারেশন আছে। সুযোগ পেলে দেখা করবো।
কতোটা সুখ বিসর্জন দিয়ে সেদিন ওরা সুখী হতে চেয়েছিলো তা বোধহয় ওদের ঈশ্বরই ভালো জানতেন।
দুজনে এবার উঠলো। শিহাব বললো উঠলো আমার বাইকে তোমাকে লিফট দেই। পিয়াসা বললো থাক না হয় আমি একাই চলে যাই শিহাব।
কেনো বলোতো? অন্যদিন তো এভাবে বলোনা শিহাব বললো।
পিয়াসা; যদি একসিডেন্ট করি আমারা। তোমার কিছু হয়ে যায়?
রোববার তোমার বিয়ে।
এভাবে কেনো বলছো পিয়াসা? মরলে দুজনে মরবো উঠো বলছি।
পিয়াসা উঠে বসলো শিহাব ওকে নামিয়ে দিতেই শিহাবের আম্মুর ফোন এলো…..।

(চলবে )

 

পারভীন আকতার পারু – সহ সম্পাদক,  চেতনা বিডি ডটকম। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.