Take a fresh look at your lifestyle.

পোস্টমার্টেম – ৬

111

 

শিহাব আজ বাইক আনেনি।তাই পিয়াসাকে রিকসায় তুলে নিয়ে নিজে হাটতে হাটতে বাসার দিকে যাচ্ছে আর ভাবছে আজ কি দুজনার পথ সত্যিই আলাদা হয়ে গেলো। কখনও কি আর ওদের এই মুহূর্ত গুলো আর ফিরে আসবে না।
এদিকে শিহাবের আব্বু আম্মু সব কিছু কেনাকাটা করে ফেলেছে। একটাই ছেলে জামিল সাহেব কিছুটা চাপা স্বভাবের হলেও এ বেলায় সবকিছু ঠিকঠাক ছিলো। একসেট হিরার গয়না উনিই ছেলের বৌ এর জন্য কিনলেন। আর বাদ বাকী ওর আম্মু পছন্দ মতো কিনে বাসায় ফিরেছেন।
শিহাবের নানুর বাড়া থেকে সবাই আসতে চাইলেও ওর দুজন খালা অমত জানালো তারা আসবে না। হুটহাট করে এভাবে কেনো ছেলে বিয়ে দিতে হবে আর পিয়াসার ব্যাপারটা জানতে পেরে ওরা চাচ্ছিলো ডাঃ পিয়াসার সাথেই বিয়েটা হোক। দুজন এক প্রোফেশনে থাকলে বরং ভালো হতো। এটা নিয়ে সবার সাথে তাদের মতের মিল হলোনা তাই ওনারা জানিয়ে দিলেন যাবেনা।
শিহাব বাসায় ঢুকেই কারো সাথে কোন কথা না বলে ব্যালকনির রিভলবিং চেয়ারটাতে বসে পড়লো। কানে হেডফোনে বাজছে
” আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে…..”
চিঠিটা পড়ার জন্য খুলতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো।
পিয়াসা লিখেছে,
“আমি কি হারিয়ে যাচ্ছি?
” আমি কি নিঃশেষ হয়ে যাবো?
আমার ভালোবাসা আজ অন্যের হবে?
মন, হৃদয় তো একটাই তাকে কিভাবে ভাগ করবো। কিভাবে নিজেকে অন্যের কাছে সমর্পন করবো আমি?
পারবোনা বিশ্বাস করো পারবোনা।
শিহাব, আমার মৃত্যুটা যেনো অন্তত তোমার হাতে হয়।আমার জন্য এই দোয়াটুকু করো বিধাতার কাছে। আর আমি না থাকলে ও ট্রাষ্টি বোর্ডের নাম থেকে আমার নামটি মুছোনা। আমাদের ভালোবাসা পৌঁছে যাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে আর এক প্রান্তে।
আমি আর কিছু লিখতে পারছিনা। আমার স্বপ্ন !!
তোমার চিরসাথী
বিদায় ভালোবাসা
শিহাব স্থির থাকতে পারলোনা দৌড়ে গেলো মায়ের রুমে। মাকে জড়িয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
এ ছাড়া কোন উপায় ছিলোনা বাবা। আজ নিজেকে বড অপরাধী মনে হচ্ছে। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো বাবা আমি সব বুঝি। শরৎ বাবু বলেছেন ” বড়ো প্রেম শুধু কাছেই টানেনা দুরেও ঠেলিয়া দেয় ”
শিহাব এতোক্ষণে হয়তো ভাবছে জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে ও ওর মা সাহিত্য আওড়ায়।
**আসলে এই রুঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি মনে হয় লেখক,কবি,সাহিত্যিকরা বারবার বহুবার**
জামিল সাহেব বৈষয়িক মানুষ এসব তাল ভাবনায় আসেনা। তিনি যথারীতি ডিনার শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন।
শিহাব রুমে গেলো, কিছু ফল আর কফি দিয়ে এলো মা। বোন দুইটা কাল কি সাজগোজ করবে তাই নিয়ে ব্যাস্ত।
পিয়াসা স্থির হতে পারছেনা ফোনে কথা বলতেও চাইছে না শিহাবের সাথে। একবার ফোন বন্ধ করে রাখলো কিন্তু বেশী সময় পারলোনা।
শিহাব ফোন করলো পিয়াসার কাছে। কি কথা হয়েছিলো ওদের সে রাতে??
পাঠককূল, তা হয়তো কোনদিন জানতে পারবেনা।
শুধু এতোটুকুই শোনা গেলো শিহাবের কথা;
পিয়াসা, আজ সুপার মুন!! তাকিয়ে দেখো তোমার জানালার গ্লাসে। আমি এভাবেই আসবো…..

চলবে………

 

পারভীন আকতার পারু –  সহ সম্পাদক,  চেতনা বিডি ডটকম। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.