Take a fresh look at your lifestyle.

মিলন মালা হলোনা গাঁথা

502

 

নয়ন আর আলো চাচাতো ভাই বোন।ছোট বেলা থেকেই এক বাড়িতে বেড়ে ওঠা। নয়ন আলোর থেকে
প্রায় চার বছরের বড়।স্কুল যাওয়া থেকে কলেজে যাওয়া একসাথেই ছিলো। বলতে গেলে নয়ন আলো কে
চোখে চোখে রাখতো। আর আলো তা বুঝতে পারতো।

একদিন দুপুরের খাবারের পর,নয়ন আলো কে বললো।
আমি ছাদে যাচ্ছি,তুই চলে আয় ছাদে কথা আছে।আলো বললো কেন?ছাদে আয় বলছি,আর ছাদে আসতে তোকে কেউ যেন না দেখে। আলো বুঝতে পারতো নয়ন তাকে পছন্দ করে। তা না হলে এতোটা
care করবে কেন?আলোর মা ও তা বুঝতে পারতো।
প্রকাশ করতো না কখনো। কারণ এ সম্পর্ক কখনো মেনে নেবে না নয়নের মা,তার বড় জা। নয়নের মা
ধনীর দুলালী,নাকটা বেশ উঁচু। কিন্তু নয়নের বাবা আলো কে ভীষণ পছন্দ করেন।

আলো ছাদের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে, পিছন থেকে বড় বাবা
ডেকে উঠলো। বড় বাবা হলেন নয়নের বাবা। মা গো
ছাদে যাচ্ছিস,জ্বী বড় বাবা।তো একটা বই হাতে নিয়ে যা,একা একা কি করবি?এই কথা বলে বড় বাবা নিজের ঘরে চলে গেলেন।

আলো সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে গেল।দেখতে পেল নয়ন
পায়চারি করছে।আলো নয়নের কাছে গিয়ে বললো
কেন ডাকছিলে?নয়ন একটু ধমকের সুরে,এতোক্ষণে আসা হলো! মায়ের মাথা ধরেছে, একটু হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। বলো কি বলবে?

তোকে বন্দি করতে ডেকেছি।মানে, কি বলছো এসব?
আমি থাকবো না তিন টা বছর দেশে,তাই অন্য কোথাও
যাতে না যাস।সেই ব্যবস্থা করছি।কথা শেষ না হতেই
নয়ন আলোর হাতটা ধরে,একটি আংটি আলোর হাতের
আংগুলে পড়িয়ে দিল।আলো যেন কেঁপে উঠল, নয়ন
এমন কিছু করবে আলো তা ভেবে উঠতে পারেনি।
শুধু দু’ চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল।নয়ন আলোকে
বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুম্বন এঁকে দিল।
আলো শিউরে ওঠে বললো,বড় মা মেনে নেবে? নয়ন
আলো কে ছেড়ে দিয়ে বললো,সে আমি বুঝে নেব।তুই
নীচে যা আমি আসছি।

আলো নিজের ঘরে ঢুকে, মাকে জড়িয়ে কেঁদে দিল।মা
শুধু বললো কি হয়েছে, বাঁদর টা কিছু বলেছে?বলতেই
আলো মায়ের সামনে হাতটা বাড়িয়ে ধরলো।মা শুধু
চমকে উঠে বললো একি করেছে বাঁদর টা!নয়নের বিদেশ যাওয়ার দিন খুব কেঁদেছিল দু’জন দু’জন কে
জড়িয়ে ধরে।

এর মধ্যে আলোর বাবা হঠাৎ Road accident এ মারা গেলেন।আলো কে নিয়ে আলোর মা দিশেহারা হয়ে গেলেন।কিছুদিনের মাথায় একদিন আলো মাথা ঘুরে
পড়ে গেল।ডক্টরের কাছে নিয়ে গেলেন বড় বাবা।ডক্টর
বেশ কিছু Test করতে দিলেন।Test এর report দেখে
যা বললেন ডক্টর, কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না।যে আলো brain Tumour এ ভুগছে এবং তা Last Staje।
আলোর মা শোনার পর শুধু মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন।আলো তখন মাকে বললো মা গো আমি তোমার বাঁদর টা কে আর দেখতে পারবো না? মা শুধু কেঁদেই চলেছেন।

নয়ন দেশে আসার মাত্র দুই মাস বাকি,তাই নয়ন কে
কিছু জানানো হয়নি।দিনে দিনে আলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বেশি, একদম শয্যাশায়ী। খেতেও পারে না কিছু।
স্যালাইন এর উপর,চোখ টাও মেলতে পারে না। মা কানের কাছে মুখটা এনে বললো বাঁদর টা কাল আসছে।বলতেই সামান্য একটু চোখটা মেলে মায়ের
মুখের দিকে তাকাল।

নয়ন বাড়িতে ঢুকেই ছোট মা ছোট মা বলে আলোর
ঘরে ঢুকলো।আলোর মা কে নয়ন ছোট মা বলে ডাকত।
ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ালো নয়ন আলো কে দেখে।নয়ন
জোরে ডাকলো “আলো” কোনো সাড়া না পেয়ে এগিয়ে
গেল আলোর কাছে।আলোর মা শুধু বললো,আর একটু
আগে আসতে পারিস নি বাঁদর। বলেই নয়ন কে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।নয়ন ছোট মা কে
ছাড়িয়ে দিয়ে,আলোর কাছে এসে বসে পড়লো। তার পর আলোর কপালে একটা চুম্বন এঁকে দিয়ে ঘর থেকে
বেড়িয়ে গেল।

অল্প কিছুক্ষণ পর নয়নের মায়ের চিৎকার এলো আলোর মায়ের কানে।নয়নের মা বলছে এ তুই কি করলি বাবা?নয়ন ছাদ থেকে ঝাপিয়ে পড়েছে নীচে,
সব শেষ। হাতে শুধু একটা চিরকুট নয়নের,তাতে লেখা।”দু’জনের সমাধি”যেন এক জায়গায় হয়।

 

সালমা বেগম- কবি ও সাহিত্যিক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.