Take a fresh look at your lifestyle.

স্মৃতিতে তুমি

55

 

ফজরের নামাজ শেষ করে উঠে দাঁড়ায় রেহানা পারভীন। টেবিলের কাছে গিয়ে স্ট্যানে বাঁধানো ছবিটা হাতে তুলে নেয়। প্রতিদিনের মত আজো পরম মমতায় তার কাপা কাপা হাতে শাড়ির আঁচলে মুছে নেয় ছবিটা। অনিমেষ চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ। রেহানা পারভীনের মনে পরে আজই সেই স্মৃতি ঘেরা ১৬ই ডিসেম্বর। তার দুচোখে ভেসে উঠে সেদিনের সবকিছু। সেদিন অত্যাচারীত অপমানিত হয়ে নিজের সম্ভ্রম হারিয়ে বিজয়ের নিশান হাতে নিয়ে বীরাঙ্গনা হয়ে ফিরে এসেছিল রেহানা পারভীন। অনেক কিছু হারালেও ফিরিয়ে এনেছিল দেশের স্বাধীনতা আর সার্বোভৌমত্ব।
১৯৭১ সাল, দেশে শুরু হয় মুক্তি সংগ্রাম। রেহানা পারভীন তখন সদ্য কলেজে পড়া তরুণী। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা তার শিরায় উপশিরায় আর স্বাধীন দেশের স্বপ্ন ছিল দুটি চোখে। তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করার জন্য চেতনা জাগানিয়া কবিতা লিখতেন। একদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাড়ি থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায়। সীমাহীন অত্যাচারীত হয়ে যখন অসুস্থ অবস্থায় ঘরে ফেরার ভাগ্য হয়নি। বিতারিত হয়েছিল গ্রাম থেকে মা বাবার কাছ থেকেও। সেইদিন এই ছবির মানুষটিই তাকে সন্মান দিয়ে বিয়ে করে ঘরে তুলেছিলেন। যুদ্ধের সময় মুসফিক আহাম্মেদ চার নম্বর সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন একজন বিরঙ্গনার জীবনে কতটা কষ্টের সময় পার হয়েছে। তাই রেহানা পারভীনকে সন্মান দিয়েছেন। চিকিৎসা করিয়ে সেবা করে সারিয়ে তুলেছেন। এক সময় দু জন সুখী দম্পতি দুই ছেলে মেয়ের মা বাবা হন।
ছবিটার দিকে তাকিয়ে এত কিছু ভাবেন রেহানা পারভীন। আর ভাবেন,সেতো ভাল একজন মানুষের কাছে খুব ভালো ছিলেন কিন্তু আরো অনেকেই বীরাঙ্গনা হয়েছিলেন, তারা কেমন আছে। কে রেখেছে তাদের খবর। কয়জনকে সমাজ মেনে নিয়েছে। এ সমাজ বড় নিষ্ঠুর।

যে মানুষটি তাকে সন্মানের আশ্রয় দিয়েছিলেন সেই মানুষটি যে আজ পাশে নেই। পরম যত্নে আবারও তিনি আঁচলে ছবিটা মুছে নেন। তখন কচি কন্ঠের ডাক শুনা যায়। – দাদো আজ বিজয় দিবস। চল পতাকা দিয়ে বাড়িটা সাজাই।

 

দিল আফরোজ রিমা- কবি সাহিত্যিক ও লেখক। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.