Take a fresh look at your lifestyle.

ঘুমের স্বপ্ন

136

 

ঘুমের স্বপ্ন মানুষের একটি মানসিক অবস্থা, যাতে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা অবচেতনভাবে অনুভব করে থাকে। ঘটনাগুলি কাল্পনিক হলেও ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখার সময় সত্যি বলে মনে হয়। অধিকাংশ সময় দ্রষ্টা নিজে সেই ঘটনায় অংশগ্রহণ করছে বলে মনে করতে থাকে। অনেক সময়ই পুরনো অভিজ্ঞতার টুকরো টুকরো স্মৃতি কল্পনায় বিভিন্নভাবে জুড়ে ও পরিবর্তিত হয়ে সম্ভব অসম্ভব সব ঘটনার রূপ নেয়। আমার কাছে ঘুমের স্বপ্ন হলো অতীতের কিছু স্মৃতি, অভিজ্ঞতা বা কোন ঘটনার সঙ্গে একেবারে নিকট বর্তমানের কিছু স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, ভাবনা বা কোন ঘটনার সংমিশ্রণে তৈরি একটি জীবন্ত ছোটগল্প। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ছোটগল্প হলো, ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’। সুতরাং স্বপ্ন হলো ছোট গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি জীবন্ত ছোট নাটিকা। যার সুনির্দিষ্ট কোন উপসংহার হয় না। আর জীবন্ত নাটিকাটির পরিচালক হলো আমাদের ‘সাব-কনশাস মাইন্ড’। সাব-কনশাস মাইন্ড তার সংগ্রহে থাকা মুহূর্ত, অভিজ্ঞতা, ভাবনা, আর স্মৃতিগুলোকে ইচ্ছেমতো জুড়ে দিয়ে তৈরি করে এক পর্বের একটি সারমর্ম, সারাংশ, উপসংহার ছাড়া সরাসরি নাটিকা। যিনি ঘুমে স্বপ্ন দেখেন সাব-কনশাস মাইন্ড তাকেই প্রধান চরিত্রটি দেয়। আরেকটু ঘুরিয়ে বললে বলতে হয়, ঘুমের মধ্যে অবচেতন মন স্মৃতি সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং ঘটনাগুলোর সাথে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করে। আর এই চেষ্টার সময় যে ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল বা বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয় সেটা আমাদের সচেতন মনের কাছে চলে যায়, সচেতন মন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কি হচ্ছে, তখন ঐ সংকেত থেকে কর্টেক্স মস্তিষ্কে ছবি তৈরি শুরু হয় আর সচেতন মন তখন স্বপ্নের ঘোরে ছোট গল্প তৈরি করে। কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মতে, “গভীর ঘুমের স্বপ্নগুলি অন্যরকম হয়। স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকে না। বাস্তবের কাছাকাছি চলে যায়। হালকা ঘুমের স্বপ্নগুলি হয় হাল্কা,অস্পষ্ট কিছু লজিকবিহীন এলোমেলো ছবি। গাঢ় ঘুমের স্বপ্ন-স্পষ্ট, যুক্তিনির্ভর।” আর ঘুমের স্বপ্নের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্পর্কের কথা যদি বলি তাহলে বলবো, ভবিষ্যৎ হলো অতীত ও বর্তমানের অভিজ্ঞতা, ঘটনাপঞ্জি ও স্মৃতির সমন্বয়ে একটি রেললাইন উপর ধীরে ধীরে বয়ে চলা কর্মফল। সুতরাং স্বপ্নের সঙ্গে ভবিষ্যতের ঘটনার ছোটখাটো একটা যোগসূত্র থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে আমি মনে করি।

ঘুমের স্বপ্ন সম্বন্ধে অনেক দর্শন, বিজ্ঞান, কাহিনী ইত্যাদি আছে। ঘুমের স্বপ্ন বা ড্রিম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নাম হচ্ছে, ওনায়োরলোজি যেটাকে বাংলায় স্বপ্নবিদ্যা বলা যেতে পারে। ঘুমের স্বপ্ন নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা তত্ত্ব হলো, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন স্টেজ বা ধাপ রয়েছে, এমনই এক ধাপে মস্তিষ্কের মধ্যে একটি বিশেষ ধরণের বৈদ্যুতিক কর্মকান্ড বা ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ঘটতে দেখা যায়। ঘুম দুই প্রকার। র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ বা সংক্ষেপে রেম স্লিপ অর্থাৎ ঘুমের সময় চোখ নড়াচড়া করা এবং নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ বা সংক্ষেপে নন-রেম স্লিপ অর্থাৎ যখন ঘুমের সময় চোখ স্থির থাকে। এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা তত্ত্বটি আরেকটু খোলাসা করে বললে বলতে হয়, আমাদের ঘুমের দুটি স্তর। ‘চক্ষু আন্দোলন’ পর্ব (রেপিড আই মুভমেন্ট বা রেম স্টেজ) এবং চক্ষু স্থীর পর্ব (নন-রেপিড আই মুভমেন্ট বা নন-রেম স্টেজ)। ঘুমের মধ্যে আমাদের চোখ দুটো কখনো আন্দোলিত বা কাঁপতে থাকে আবার কখনো স্থির থাকে। তাই ঘুমের এমন নাম। রেম স্লিপ স্টেজে থাকাকালীন সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে যে বৈদ্যুতিক কর্মকান্ডগুলো চলতে থাকে সেই হুবহু কর্মকান্ডগুলো চলে যখন আমরা জেগে থাকি। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে, আমরা জেগে থাকার সময় মস্তিষ্কের মধ্যে যে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক পদার্থগুলো উৎপন্ন হয় যেমন- নরপাইনফ্রাইন, সেরোটোনিন এবং হিস্টামিন; ঘুমে এগুলো ব্লক অবস্থায় থাকে, ফলে আমাদের মাংসপেশি নড়াচড়া করতে পারে না। আর এই জন্যই স্বপ্নে আমরা আকাশে উড়ে বেড়াই, পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিই, কিংবা চাইনিজ কুংফু করতে থাকি, কিন্তু আপনার শরীর নড়তে পারে না। বেশিরভাগ স্বপ্ন আমরা দেখি চক্ষু আন্দোলন পর্ব ঘুমের সময়। আর ঘুম থেকে জেগে উঠার অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সিংহভাগ স্বপ্নই ভুলে যাই। কী স্বপ্ন দেখলাম হুবহু মনে করতে পারি না, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। স্বপ্নকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না তবে আধোঘুমের স্বপ্নকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আপনি স্বপ্নের মধ্যেই রয়েছেন, কিন্তু আপনি স্বপ্নের মধ্যেই জানেন, আপনি স্বপ্নে রয়েছেন। একে লুসিড ড্রিমিং বা স্বচ্ছ স্বপ্ন দেখা বলা হয়।

ঘুমের স্বপ্নের অর্থ সম্পর্কে যুগে যুগে সমাজ, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, অঞ্চল ও সংষ্কৃতিভেদে নানান মতবাদ, ধারণা, তত্ত্ব, বিশ্বাস, কাহিনী ও নীতিকথার সন্ধান পাওয়া যায়। মেসোপটেমিয়ার লোকদের বিশ্বাস ছিল যে আত্মা বা তার কিছু অংশ ঘুমন্ত ব্যক্তির শরীর থেকে বেরিয়ে আসে যা প্রকৃতপক্ষে ঐসব স্থান এবং ব্যক্তিদের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় যা স্বপ্নদর্শীরা তাদের ঘুমের মধ্যে দেখে । গ্রিক এবং রোমান যুগে মানুষ বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নগুলি এক বা একাধিক দেবতার কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বার্তা অথবা মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা বার্তা যা প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে গণ্য করা হতো । প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত যে স্বপ্ন দেবতাদের কাছ থেকে বার্তা নিয়ে আসার মত শব্দগুচ্ছ ছিল। তারা মনে করত যে ঐশ্বরিক সান্নিধ্য লাভের সর্বোত্তম উপায় ছিল স্বপ্ন দেখা । দার্শনিক হিপোক্রেটস-এর মতে, দিনের বেলা মানুষের আত্মা স্বপ্ন সংক্রান্ত চিত্র গ্রহণ করে এবং রাতের বেলা পূর্ণাঙ্গ একটি ছবিতে রূপদান করে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, স্বপ্ন হল শারীরিক কার্যকলাপ যা রোগের বিশ্লেষণ এবং কোন ধরনের রোগ হতে পারে তার জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। ১৯০০ এর দশকের প্রথম দিকে সিগমুন্ড ফ্রয়েড স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেছিলেন গভীরতম আকাঙ্ক্ষা এবং উদ্বিগ্নতা প্রকাশের মাধ্যমকে অবলম্বন করে যাতে তিনি স্বপ্নকে দেখিয়েছেন মূলত মানুষের গোপন আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগগুলির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। কার্ল ইয়ং ফ্রয়েডের স্বপ্ন নিয়ে ধারণাটি সম্প্রসারিত করেন এবং এটাকে স্বপ্নদ্রষ্টার অচেতন আকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পর্কিত করেন। তিনি স্বপ্নকে স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে আসা বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন স্বপ্নদ্রষ্টাদেরকে তাদের নিজেদের ভালর জন্যই তাদের স্বপ্নের প্রতি মনোযোগ দেয়া উচিৎ। কার্ল ইয়ং বলেন, একজন ব্যক্তি তার স্বপ্নে নিজের পরিপ্রেক্ষিত থেকে যেকোন ব্যক্তিকেই বিবেচনা করতে পারেন, যাকে স্বপ্নের বিষয়ীগত বা ব্যক্তিবাচক অভিমুখ বলা হয়। ভারতীয় হিন্দুধর্মের বেদ ধর্মগ্রন্থে স্বপ্নের তিনটি অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম অবস্থা হচ্ছে আত্মা তার জীবদ্দশায় অভিজ্ঞতা লাভ করে। অন্য দুইটি অবস্থা হচ্ছে জাগ্রত অবস্থা এবং ঘুমন্ত অবস্থা। ইহুদীধর্মের মধ্যে স্বপ্নকে পৃথিবীর অভিজ্ঞতার অংশ বলে বিবেচিত হয়। হিব্রুরা তাদের ধর্মের সাথে স্বপ্নকে যুক্ত করেছিল, যদিও হিব্রুরা একেশ্বরবাদী ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নগুলি একমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত ধ্বনি ছিল।খ্রিস্টানরা বেশিরভাগই হিব্রুদের সাথে তাদের বিশ্বাস ভাগ করে নিয়েছিল। তারা মনে করতেন যে স্বপ্ন একটি অতিপ্রাকৃত চরিত্র। ওল্ড টেস্টামেন্টে ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা সংবলিত অনেক স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। আধুনিক যুগে স্বপ্নকে অবচেতন মনের একটি সংযোগ হিসাবে দেখা হয় । যুগে যুগে ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলমানদের জীবনযাত্রার উপর ঘুমের স্বপ্ন ও তার ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস দুটো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং ঘুমে দেখা স্বপ্নের উপর ব্যাখ্যা বা খাবনামা নিয়ে বিস্তর গবেষণা কর্ম হয়েছে ইসলামের শুরু থেকে আজ অবধি।

আমার কাছে স্বপ্ন হলো ধারাবাহিক কতগুলো ছবি ও আবেগের সমষ্টি যা ঘুমের সময় মানুষের মনের মধ্যে আসে। এগুলো কল্পনা হতে পারে, অবচেতন মনের কথা হতে পারে, বা অন্য কিছুও হতে পারে, শ্রেণীবিন্যাস করা বেশ কষ্টকর। সাধারনত মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে, তবে সবগুলো মনে রাখতে পারে না। স্বপ্নের মধ্যে মস্তিষ্ক নতুন করে কারো কোন ইমেজ অবয়ব বা চেহারা তৈরি করতে পারে না। সে ক্ষমতা মস্তিষ্কের নেই বলে আমি মনে করি। আমরা অতীতে দেখা চেহারা বা অবয়বেই প্রিয়জনকে ঘুমের স্বপ্নে দেখি। অনেক আগে যারা মা, বাবাকে হারিয়েছেন তারা তাদের মা বাবা-কে ঠিক সেই অবয়বেই দেখেন, যখন তারা মারা গিয়েছিলেন। অন্ধ মানুষও স্বপ্ন দেখেন। এমনকি যারা জন্মান্ধ তারাও স্বপ্ন দেখেন। তবে তাদের সে স্বপ্নে কারো চেহারা বা ছবি থাকে না। আর যারা জন্মের অনেক পর দৃষ্টিশক্তি হারান তাদের স্বপ্নগুলোও দৃষ্টিশক্তিহীন হওয়ার আগের বস্থার সময়কার মতনই। স্বপ্নে আমরা পরিচিত মানুষগুলোকেই দেখি। দেখি পরিচিত চেহারায়। দৈবাৎ কেউ স্বপ্নে যদি দেখেন পাশে শুয়ে থাকা ‘স্বামী বা স্ত্রী’ থুরথুরে বুড়ো হয়ে গেছেন, আপনার সঙ্গে ঝগড়া করছেন, আসলে সেটা মস্তিষ্কের একটা ছোট ভুল। সে স্মৃতির কেন্দ্র থেকে দৃশ্যগুলো/অবয়বগুলো এনে জোড়া দিতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় একজনের অবয়বের মধ্যে আরেকজনের অবয়ব লেপ্টে দিয়েছে বে-খেয়ালে। আবার এও হতে পারে বয়স্ক অবয়ব হিসেবে মস্তিষ্ক যাকে প্রিয়জন বলে উপস্থাপন করেছে, সেই অবয়বটা আমাদের দূর অতীতে দেখা কেউ, যা মস্তিষ্কের স্মৃতির কেন্দ্রে সযত্নে তুলে রাখা ছিল। মস্তিষ্ক ‘স্মৃতি’ থেকেই তা তুলে এনেছে। মনে করতে পারছেন, ঠিক কে সে? তবে ভালো করলে মনে করার চেষ্টা করলে পরে হয়তো সেই বয়স্ক অবয়বের আসল মানুষকে খুঁজে বের করা যাবে।

স্বপ্নের সঙ্গে বর্তমানের খানিকটা মিল পাওয়া যায় বলে আমার বিশ্বাস। স্বপ্নের সঙ্গে স্থান-কাল-পাত্রের হুবহু মিল পাওয়াকে নিউরোসাইকিয়াট্রির ভাষায় বলে ডিজা রেভি। অর্থাৎ যিনি স্বপ্ন দেখেন তার কাছে মনে হয়, ‘ঠিক এই জায়গাটি বা এই লোকটিকে গত রাতে স্বপ্নে দেখেছি’। আমাদের মস্তিষ্ক বেশি পরিশ্রম করে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন মুহূর্তকে ভুলে যেতে। কোন কিছু মনে করতে মস্তিষ্ককে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না। স্বপ্ন দেখার পরদিন যদি মনে হয়, কোথায় যেনো মিলে যাচ্ছে- তাহলে বুঝতে হবে স্বপ্নে যা দেখা হয়েছে সেটা অতীতের ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা যা মস্তিষ্কের স্মৃতিকেন্দ্র থেকে মুছে গিয়েছে। অবচেতন মনের তৈরি স্বপ্ন সেই ভুলে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে পুণরায় যোগসূত্র দাঁড় করিয়ে দিল।

ঘুমের স্বপ্ন নানান রকম হতে পারে। সুখের, দুঃখের, হাসি বা কান্নার। জন্মান্ধ মানুষ বা বধিরও স্বপ্ন দেখেন। তবে তাদের স্বপ্ন কিন্তু সাদাকালো বা শব্দহীন নয়। তাদের স্বপ্ন আমাদের মতোই বর্ণিল, রিনিঝিনি, ছন্দময়। এমনকি জন্ম থেকে প্যারালাইজড রোগী ও স্বপ্নে দৌড়াতে বা খেলতে দেখেন তাঁকে। স্বপ্ন ভয়ের হতে পারে। স্বপ্নের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে। চাকরি প্রার্থী স্বপ্ন দেখেন তিনি চাকরি পেয়েছেন বা পেয়েও ষড়যন্ত্রে পড়ে তিনি হারিয়ে ফেলেছেন! তাই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠেন ঘুম থেকে। প্রেমে পড়া তরুণ-তরুণী স্বপ্নে দেখেন, স্বপ্নের মানুষ দৌড়ে দৌড়ে এসে সামনে পড়ে হাঁপাচ্ছে আর হাঁপাচ্ছে। অথবা স্বপ্নে দেখছে মনের মানুষটি চম্পট দিয়েছে অন্য কোনো লম্পটের সঙ্গে। ভয়ের স্বপ্ন সবাই দেখে। ভয়ের স্বপ্ন দেখি যদি আমরা কোন টেনশন বা দুশ্চিন্তায় থাকলে, কোন বিপদগ্রস্থ থাকলে। ভয়ের স্বপ্ন বেশি দেখে শিশুরা। আট থেকে বারো তেরো বয়সের এবং কখনো কখনো তারা স্বপ্নের মধ্যে চিৎকার করে উঠে।

আমাদের বেশিরভাগ স্বপ্ন লাল, নীল-বর্ণীল। ১৯৫০ সালের আগে বিজ্ঞানীরা বেশিরভাগ স্বপ্ন ধরে নিতেন সাদাকালো। ষাটের দশক থেকে সে ধারণা পালটে যেতে শুরু করে। এর একটা কারণ হতে পারে ষাটের দশকের পর থেকে টিভি সিনেমায় -নাটক চলচ্চিত্রে সাদাকালো পরিবর্তে রঙিন ছবির ঝলমল দৃশ্যের অবতারনা। স্বপ্নে বিপরীত বিষয়ই আমরা বেশি দেখি। যেমন পরীক্ষায় ফেল দিয়েছি। লিখতে পারছি না, কমন পড়েনি বা পরীক্ষক খাতা টেনে নিয়ে গিয়েছেন। বেশিরভাগ স্বপ্ন আমরা দেখি চক্ষু আন্দোলন পর্ব ঘুমের সময়। আর ঘুম থেকে জেগে উঠার অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সিংহভাগ স্বপ্নই ভুলে যাই। কী স্বপ্ন দেখলাম হুবহু মনে করতে পারি না, এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ এটি স্বপ্ন যেখানে চিমটি কেটে পরখ করা যায় না আসলে কি হচ্ছে, কোথায় আছি, কেনই বা আছি! স্বপ্ন এমনই। কারণ এটা স্বপ্ন।

 

মোহাম্মদ আলমগীর আলম- সাহিত্যিক ও কলামিস্ট। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.