Take a fresh look at your lifestyle.

বিশ্ব হিজাব দিবস

243

 

২০১৩ সাল থেকে হিজাব দিবস উদযাপন শুরু হয়।দিবসটি পালনের জন্য নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী এক বোন যার নাম নাজমা খান ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ এর সাাইড গুলোতে প্রথম আহবান জানান মুসলিম অমুসলিম সকল নারীদের প্রতি। বোন নাজমা খানের আহবানে সাড়া দিয়ে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের ৫০ টি দেশের বিভিন্ন ধর্মের নারীরা দিবসটি পালনে এগিয়ে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও ১৪০ টিরও বেশি দেশে বিশ্ব হিজাব দিবস পালিত হচ্ছে।
বোন নাজমা খান ছোট বেলা থেকেই আমেরিকা থাকেন। হিজাব পালনের প্রেক্ষাপট হিসাবে তিনি বলেন, ওখানে যখন তিনি হিজাব মাথায় স্কুলে যেতেন তখন তাকে অনেক লাঞ্চিত হতে হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তাকে ব্যাটম্যান বা নিনজা বলে ডাকা হতো। কিছুদিন পর তাকে ওসামা বিন লাডেন বা সন্ত্রাসী বলা হতো।

হিজাবকে সাধারণত নারীর প্রতি নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রতিক হিসেবে দেখা হয়। এই বৈষম্যের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার অমুসলিম বোনদেরকেও হিজাব পড়ার অভিজ্ঞতা সিয়ার করে বাস্তবেই বা সত্যিই এটা কোন নিপীড়ন কিনা সেটা বুঝানোর জন্য হিজাব দিবস পালনের ডাক দেন।

বোন নাজমা মনে করেন, হিজাব পরিধান করার জন্য যে মুসলিমই হতে হবে এমন কোন কথা নেই। হিজাব মূলত শালীনতার জন্য পরিধান করা হয়। তাই তিনি এটা পরিধান করায় কোন সমস্যা দেখেন না। তার এই কথায় ব্যাপক সাড়া মেলে। হাজারো অমুসলিম নারী হিজাব পরে দিবসটি পালন করে।

ইসলাম ধর্মে হিজাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিজাব হচ্ছে মর্যাদার প্রতীক। মূলত পর্দা রক্ষা করার জন্য এটা পরিধান করা হয়। তবে আমেরিকায় হিজাব পরা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। যেখানে হিজাব পরে স্কুল কলেজে যাওয়া অসুবিধা। হিজাব পড়লে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষে বিশ্ব হিজাব দিবস বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজ জীবনকে কলুষমুক্ত রাখার স্বার্থে, সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের নৈতিক চরিত্র উন্নত করার স্বার্থে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিধি নিষেধ এসেছে। সমাজের অবক্ষয় রোধের জন্য প্রদত্ত হয়েছে পর্দার আদেশ। নারী নির্যাতন রোধও নারীর সামাজিক সন্মান প্রতিষ্ঠায় পর্দার বিকল্প নেই। পর্দা করা আল্লাহর হুকুম। তার দেওয়া সমস্ত আদেশ -নিষেধের মত এই আদেশও আমাদের মানতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন– ‘হে নবী, (সাঃ) মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটি তাদের জন্য পুত পবিত্র পদ্ধতি। তারা যা কিছু করে আল্লাহ তা জানেন। (সূরা নূর -৩০)

আর মুমিন মহিলাদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন স্বীয় সাজ সৌন্দর্যকে না দেখায়। তবে যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায়। তাছাড়া তারা যেন তাদের মাথার উরনা
বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা কারো সামনে সাজ সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না এই মাহরাম আত্মীয়দের ব্যাতিত। যথা– স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত, বাদী, নারীর প্রতি স্পৃহাহীন সেবক, ঐসব বালক যারা নারীর গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অভিহিত হয়নি। তারা যেন পথ চলার সময় এমন পদধবনি না করে যাতে তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য পদধবনিতে প্রকাশ হয়ে যায়। হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর -৩১)

পর্দা সচ্চরিত্র ও আদর্শ পরিবার গঠন এবং সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান উপকরণ।
পর্দায় চললে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যেমন একটি মেয়ে পর্দা করলে সভ্যভাবে রাস্তায় চললে তার বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা কম। যারা বেপর্দায় অশালীন পোষাক পরে চলাফেরা করে তারাই ইভটিজিং এ শিকার হয়। যদিও সমাজে পর্দানশীন নারীর উপরও বিপদ এসেছে তাই এ বিষয়ে অনেকেই তর্কে জড়াতেই পারেন। আমার মনে হয় কিছু অসুস্থ মস্তিষ্কের পুরুষ আছে তারাই এই বিপত্তির কারণ। আমি বলছি সাভাবিক জীবন যাত্রার কথা। সাভাবিক ভাবে যা করনীয়। যেহেতু আল্লাহ আমাদের মজ্ঞল চিন্তা করেই সকল নির্দেশ দিয়েছেন তাই তার দেওয়া নিয়ম মেনে চলাই আমাদের জন্য কল্যাণকর। আমরাই অনেক সময় নিজেদের বিপদের কারন হই। আমি একজন নারী আমি নিজেই তা অকপটে শিকার করছি। নারী নির্যাতন রোধ ও নারীর সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য পর্দা জরুরি। পর্দা করে সালীন হয়ে চলা চরিত্রের একটি অন্যতম গুণ। যেভাবে চললে অথবা যে কাজের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে আল্লাহ আমাদের জন্য তেমন কিছুই নির্ধারণ করেছেন। তার দেওয়া সকল নিয়ম মেনে চলা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তোমরা আপন গৃহে অবস্থান কর এবং জাহেলিয়াতের যুগের মত সাজসজ্জা সহকারে অবাদে চলাফেরা করোনা। (সূরা আহযাব -৩৩)

তিনি আরো বলেছেন, আর যখন তাদের কাছে তোমরা কিছু চাইবে তখন তারা তোমাদের দৃষ্টির অন্তরালে হিজাব বা পর্দার ভিতরে অবস্থান করবে। আর তোমরা তাদের কাছে পর্দার বাইরে থেকে চাইবে। তোমাদের এই কাজ তোমাদের অন্তর ও তাদের অন্তরকে কুচিন্তার আবরণ থেকে উত্তম ভাবে পাক পবিত্র রাখার উপায় হবে। (সূরা আহযাব-৫৩)
এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি পরম করুনাময় আমাদের কিভাবে পর্দা করতে বলেছেন।
যাহোক পর্দা সম্পর্কে আমাদের মা বোনদের এবং মেয়েদের সচেতন করতে হবে। আর বিশ্ব হিজাব দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করতে পারি। বিশ্ব হিজাব দিবস আমাদের এই সুন্দর লক্ষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই আসুন মুসলিম অমুসলিম সকল মা বোনেরা আমরা বিশ্ব হিসাব দিবস পালনে শরিক হই। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য পার্থনা করি।আমিন।

 

দিল আফরোজ রিমা – কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.