Take a fresh look at your lifestyle.

নাহিদের বুক ভরা স্বপ্ন

206

গত এক দশক ধরে ব্যবসায়, তরুণদের
পদচারণা ইতিবাচক হারে বেড়েই চলছে । এর প্রধান কারণ- তরুণরা বর্তমানে নিজ নিজ চিন্তা-ভাবনাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।পাশাপাশি নানা সরকারি বে সরকারি উদ্দোগের ফলেই,বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা তৈরী হচ্ছে।
অন্য ভাবে বলা যায়, তরুণদের জন্যে সময়ের সদ্ব্যব্যবহারেরও একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তারা প্রমাণ করেছেন, উদ্যোক্তা হতে গেলে বয়স কোন বিষয় নয়। শুধু সঠিক মেধা, পরিকল্পনা, অভিনব আইডিয়া। আর সৎ সাহস, মনোবল আর সঠিক পরিশ্রম প্রয়োজন।
আজকে আমরা ঠিক এমনই একজন ভিন্ন উদ্যোক্তার কথা জানাবো।যে খুব কম বয়সেই, সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রমাণ করেছেন।নিজেকে তরুণদের রোল মডেল হিসেবে তৈরী করেছেন।
রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭নং ইমাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের। কুয়েত প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের,একমাত্র পুত্র মোঃ নাহিদ সরকার। সে শারিরীক ভাবে প্রতিবন্ধী হয়েও, জ্ঞান অর্জনে পিছপা হননি। সে আদারহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করেন ২০১৩ সালে। এস এস সি পাশের পর সে রংপুর শহরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।ভালো বেতনে ঢাকায় একটি নীট কম্পজিট মিলে চাকরি হওয়া সত্তেও। পরিবারের এক মাত্র ছেলে হওয়ায়। চাকরী করতে দেয়নি তার পরিবার।তাই বলে কি? শিক্ষিত ইন্জিনিয়ার নাহিদ বেকার বাড়ীতে বসে থাকবে? বেকারত্ব ঘোচাতে, সময় নষ্ট না করে।নিজে কিছু করতে হবে। বেকার না থেকে, এই আশা, শ্রম, সময়,সুন্দর মন-মানসিকতা নিয়েই। শুরু হয় ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ এর মাস্টারপ্ল্যান।২০২০ সালের শুরুর দিকে।মাত্র ৭১ হাজার টাকা পূঁজি দিয়ে, দুইটি গরু কিনেন। মোটাতাজা করন পদ্ধতি মাথায় নিয়ে “এম এন ক্যাটল ফার্ম” নামে খামারের শুভ যাত্রা শুরু করেন। আল্লাহর রহমত,নিজের শ্রম, মেধা শক্তি আর মনোবলে। এগিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই।তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হঠাৎ সে ভাবলেন খামার চালাতে গেলে।অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন।সময় মত মানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে।খুব বেশি উন্নতি করা সম্ভব নয়। তাই তখন তিনি আবার নতুন রুপে।২০২০ সালের জুন মাসে উপজেলা যুব উন্নয়ন এর অধিনে “গবাদিপশু পালন ও প্রাথমিক চিকিৎসা ” কোর্সে প্রশিক্ষণ নেন। ইনশাআল্লাহ সেখানেও তিনি সফল হোন।তিন মাস মেয়াদি প্রকল্পে, এখন তার খামারের মোট ১০ টি গরু আছে।এখন সে নিজের খামার দেখা শোনার পাশাপাশি। প্রান্তিক খামারিদের সুনামের সহিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।কথা হয় খামারি “মাহী এগ্রোর” স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমানের সাথে।যার খামারে এখন দশটি গরু আছে। তিনি বলেন,মানসম্মত ভালো সেবা পাই বলেই।পুরো খামারের চিকিৎসা বিষয়ে আমার কোন টেনশন নাই।সরেজমিনে “জুবাইদ ক্যাটল এগ্রো”র প্রতিষ্ঠাতা সমেশ উদ্দিন ভাইয়ের সাথে কথা হয়।তিনিও বেশ খুশি, তরুণ চিকিৎসক নাহিদের প্রতি।উনার খামারে এখন১৮ টি গরু আছে।এরকম আরো অনেক খামারিদের সাথে কথা হয়।
যাঁরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলেন।স্বল্প ব্যায়ে সুন্দর মানসম্মত সেবা তারা পাচ্ছেন।অসহায়, নিরুপায়, দুস্থ, নিরীহ, মানুষের বাড়িতে গেলে।চেষ্টা করেন বিনা ভিজিটে চিকিৎসা সেবা দিতে।
তরুণ উদ্দোক্তা নাহিদ বলেন, ভবিষ্যতে আরো গরুর সংখ্যা বাড়ানো। এবং গরীব ও দুস্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার ইচ্ছে আছে। খামার, চিকিৎসার পাশাপাশি।তিনি নতুন ভাবে ৬৪ জেলায়( নাহিদ এক্সপোর্ট এন্ড ইমপোর্ট–NEE) অনলাইনের মাধ্যমে গোবাদি পশুর খাদ্য পাইকারী ক্রয় বিক্রয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন।কাজ ও করে যাচ্ছেন।
নাহিদ এর নতুন উদ্দোক্তা হওয়ার,সফলতা দেখে। অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকরা,চাকরির পিছে না ছুটে। এগিয়ে আসছে নিজেদের শ্রম মেধা কাজে লাগাতে।যদি সরকারি ভাবে, আরো সুযোগ সুবিধার প্রসারতা ঘটানো যায়।নিশ্চয় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন। এলাকার সুশীল সমাজ ও বয়োজ্যেষ্ঠরা।

রংপুর প্রতিনিধি – বেলাল বকুল

Leave A Reply

Your email address will not be published.