Take a fresh look at your lifestyle.

পাঠ প্রতিক্রিয়া- মেজদিদি

164

 

বইয়ের নামঃ মেজদিদি
লেখকের নামঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাদ্যায়
প্রকাশকঃ অথৈ প্রকাশ
প্রচ্ছদঃ জাহাঙ্গীর আলম
মূল্যঃ ৬০ টাকা
পৃষ্ঠাঃ৪৮

কেষ্টার মা মানুষের মুড়ি ভেজে, সাহায্য চেয়ে,কঠোর পরিশ্রম করে সন্তান লালন পালন করছেন। কেষ্টার বয়স যখন চোদ্দ তখনই মা মারা যায়। বৈমাত্রেয় বড় বোন কাদম্বিনী তার অবস্থা বেশ ভালো। জামাই নবীনের বড় চালের আড়ৎ ছিল কিন্তু কাদম্বিনীর স্বভাব বেশ খারাপ।সে কেষ্টাও তার মৃত মাকে গালিগালাজ না করলে একদিনও চলেনা।

কেষ্ট মায়ের মৃত্যুর শোকে কেঁদে কেঁদে রীতিমতো জ্বর করে ফেলেছে। বোন কাদম্বিনী কেষ্টকে নিজের কাছে রাখতে অপছন্দ করত।কেষ্টাকে চোখের বিষ মনে করে চলত, মাঝে মাঝে বলত- এ সব ঝঞ্ঝাট আমি পোয়াতে পারব না।

নবীনের আরো দুই ভাই ছিল, বিপিন মেঝ। মেজবৌ হেমাঙ্গিনী খুব ভালো চরিত্রের মানুষ।
কেষ্ট কাদম্বিনীর কাছে আসার দিনে একটু বেশি ভাত খেয়েছিল বলে যথেষ্ট উৎকন্ঠা প্রকাশ করে।
একদিকে কাদম্বিনীর গালমন্দ, খেতে না দেয়া, ঠাণ্ডা রুটি ভাত, পোড়া ভাত, মাথায় ইট দিয়ে শুতে দেয়া, প্রহার করা ধারাবাহিক ব্যাপার।

ওপর দিকে হেমাঙ্গিনীর সুযোগ বুঝে খেতে দেয়া,জ্বরে মাথায় পানি দেয়া,গোসল করানো,কাছে বসিয়ে বাতাস করা সান্ত্বনা দেয়া নিত্য সূচি রূপে দেখত।
কেষ্ট ১৪-১৫ বছরের ছেলে,যে একটানা গুদামে কাজ করত আর মেজদিদির আঁচলে ক্লান্তি দূর করত।
কাদম্বিনী মেজদিদিকে – মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি বলে খোটা দিত।

একপর্যায় দুই জায়ের মধ্যে দাকুমড়ো সম্পর্ক রচিত হয়।
বৃহত্তর পরিবারে মহা অশান্তি নেমে আসে আর এর কারণ কেষ্টা।
কেষ্টার আদর স্নেহ, ভালোবাসা, ভালো ব্যবহার পাবার কথা ছিল কাদম্বিনীর কাছে।
অথচ সে কেষ্টাকে অবজ্ঞা করেছে।
হেমাঙ্গিনী কাদম্বিনীর জা হয়েও তার ভাইকে স্নেহ ভালোবাসার কোন কমতি করেনি।

পরিশেষে পারিবারিক ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে কেষ্টাকে সাথে নিয়ে হেমাঙ্গিনী বাপের বাড়ি যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
মাঝ পথ থেকে বিপিন তাদের ফিরিয়ে আনেন।কেষ্টা হেমাঙ্গিনীর ভাই হয়েই সারা জীবন তাদের পরিবারে থাকবে এ প্রতিশ্রুতি পায়।

আব্দুল মতিন –

সম্পাদক

চেতনাবিডি ডটকম। 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.