Take a fresh look at your lifestyle.

পাঠ প্রতিক্রিয়া

239

 

বইয়ের নামঃ ইসলামী জাগরণের তিন পথিকৃৎ
লেখকঃ এ কে এম নাজির আহমদ
প্রকাশকঃ ইসলামিক সেন্টার
মূল্যঃ ৮০ টাকা
পৃষ্ঠাঃ১৬৭

এ বইটিতে ইসলামের শ্রেষ্ঠ তিন সংগঠকের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
যারা পৃথিবীতে নিজের সবকিছুই উৎসর্গ করে সংগঠনে আত্ননিয়োগ করেছেন।
তাদের সামনে ছিল সম্পদ, অর্থ – বিত্ত, নারী,ক্ষমতা সবকিছুই তবুও আল্লাহর ভালোবাসা পেতে সব কিছু ছেড়ে ইসলামি সংগঠনের জন্য নিজকে ব্যস্ত রেখেছেন।

এ তিন ব্যক্তিকে এ কে এম নাজির আহমদ ইসলামী জাগরণের তিন পথিকৃৎ বলেছেন।
তাঁরা হলেন –
১।শায়খ হাসানুল বান্না।
২।বাদীউয্ যামান সাইদ নূরসী।
৩। সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী।

যারা ইসলামের অনুসরণে আর অনুকরণের দীপ্ত মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
১) শায়খ হাসানুল বান্নাঃ

১৯০৬ সনে মিশরে জন্ম হাসানুল বান্নার।
প্রাথমিক শিক্ষা নিজের পরিবারের আর মক্তবে অর্জন করেন।তার পর মাধ্যমিক মাহমুদিয়া আর দামানহুর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন।এর পর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।
১৯২৭ সনের জুলাই মাসে দারুল উলুম থেকে তিনি ডিপ্লোমা এবং স্কলারশীপ লাভ করেন।
১৯২৭ সনে ইসমাঈলিয়া স্কুল শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু হয় এর পর ছয়জন ইসলামী চিন্তা বিদ নিয়ে বান্না ১৯২৮ সনে ইখওয়ানুল মুসলিমূন প্রতিষ্ঠা করেন।
চলে তার সাংগঠনিক কাজ আর সরকারি বৈরী আচরণ।
কারাবরণ করেন করতে হয় বারবার, বদলি হন একাধিক বার।
১৯৪৯ সনে সমাবেশ শেষ করে ফেরার সময় আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন এ মহাজ্ঞানী। সংগঠনের অনুসারী রেখে যান প্রায় নিরানব্বই লক্ষ।

২) বাদীউয যামান সাঈদ নুরসীঃ

তুরস্কের নুরস নামক স্থানে ১৮৭৭ সনে সাঈদ নুরসীর জন্ম।
মেধাবী চৌকস এ ব্যক্তি ১৭ বছরের মধ্যে কুরআন, হাদীস, বিজ্ঞান, ইতিহাস শিক্ষা সহ অনেক ভাষা শিক্ষা অর্জন করেন সাঈদ।
উদীয়মান যুবক অল্প বয়েসেই সফর করেন- জিযর,মারদিন,ওয়ান,স্যালোনিকায় সহ অরো গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
প্রায় ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন তিনি।
এরপর সরকারি অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইত্তিহাদ ই মুহাম্মাদী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
অনুসারী বাড়ে সংগঠনের আর এর পরপর সরকারি প্রতিকুল পরিবেশ তৈরি হলে বিপাকে পড়ে সংগঠন।

১৯০৯ সন ১৯ জুলাই তুরস্কের ইতিহাসের কালো অধ্যয়।
মার্শাল কোর্টে ইত্তিহাদ ই মুহাম্মাদীর ৩৭ জন নেতৃবৃন্দের ফাঁসি দেয়া হয়।
১৯১০ সনে সাঈদ সিরিয়ার দিমাসক আসেন এবং এখানে মসজিদে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষন দেন।
অবস্থার চাহিদা মোতাবেক ১৯১৯ সনে সাঈদ নুরসী জামিয়াতুল মুদাররেসীন নামে সংগঠনের আত্নপ্রকশ ঘটে।
শুরু হয় নূরসীর দফায় দফায় কারাবাসী জীবন।
কারাগারে লিখেছেন অনেক বই।
সাঈদ নূরসী ৮৩ বছর বয়সে ১৯৬০ সনে ২৩ মার্চ রাতে তাহাজ্জুত নামাজ অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

৩) সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীঃ

১৯০৩ সালে হিন্দুস্থানের হায়দারাবাদে জন্মগ্রহন করেন মওদূদী।
গৃহ শিক্ষা
মক্তব
মাদ্রাসা শিক্ষা সমাপ্ত করেন ১৪ বছর বয়সে।
হিন্দি, র্ঊদ্ধু, বাংলা, ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি কোরআন হাদীসের জ্ঞানে পান্ডিত্য অর্জন করেন তিনি।
১৯১৮ সালে ১৫ বছর বয়সে আল মাদীনা পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে কর্মজীবন শুরু হয় তাঁর।
খিলাফাত আন্দোলনের কর্মী আর তাজ ও মুসলিম পত্রিকার সম্পাদনা করেন তিনি।
১৯২০ সালে মওদূদী দিল্লী আসেন,ইসলামী সাহিত্য রচনায় সুখ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
মুসলিম জাতি সত্তার কর্নধর হলেন মওদূদী যখন ভারত বর্ষে তেমন ইসলামীক স্কলার ছিলনা।
পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা লিখনী প্রচার শুরু হয়।

১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট মওদূদী জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন।
সংগঠনের বিস্তার হয় দূর্বার গতিতে।
সাময়িক ভাবে সমস্যা নাহলেও সংগঠনের জনশক্তি বৃদ্ধির প্রভাবে সরকারের টনক নড়ে। শুরু হয় কর্মীদের উপরে অত্যাচার, নির্যাতন।
একাধিকবার কারাগারে যেতে হয় তাকে।
ভারত সরকার তার উপর মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করে। আল্লাহর অসীম কৃপায় বহিঃ বিশ্বের চাপে মুলতবী হয় মৃত্যুদন্ডাদেশ।

অবশেষে ১৯৭৯ সালে আমেরিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাওলানা মওদূদীর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য ইসলামের তিন পথিকৃৎ ইসলামী জাগরণের কালপুরুষ।
ইসলামী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সহ সাধারণ পাঠকের সবাইকেই এ বই প্রেরনা যোগাবে।

আব্দুল মতিন –

সম্পাদক  চেতনাবিডি ডটকম । 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.