Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সার পর্ব- চব্বিশ

281

গত পর্ব শেষ করেছিলাম লাঞ্জ ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং এমন রোগে রোগীর জীবনের অস্থিত্ব কতটুকু। আসলে সব কিছুই একজনের হাতে। তিনিই জানেন আমাদের আয়ুস্কাল কতটুকু। আজ লিভার ক্যান্সার সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করবো।
লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের একটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ : শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, হরমোন তৈরি করা, কিডনি ও পিত্তের সাহায্যে শরীরকে বিষ্মুক্ত করা, বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা এবং দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে শরীরে লিভার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। তাই সবধরণের ক্যাস্নারই আতঙ্কের বিষয়, এর মধ্যে লিভার ক্যানসার মারাত্মক আতংকের। এই ক্যানসার নিরুপণ করাও সহজ নয়। তারপরও কিছুটা নিজের দেখা এসব রুগীর লক্ষন ও অন্যান্য তথ্য থেকে যা জানা যায় তা থেকে কিছুটা ধারণা নিয়ে একটু বর্ণ্না দেবার চেষ্টা করা যাক। লিভার বা যকৃতের ক্যান্সার হ’ল এমন এক জাতীয় ক্যান্সার যা লিভারের কোষে শুরু হয়। মানুষের লিভারটি একটি ফুটবল আকারের অঙ্গ যা পেটের উপরের ডান অংশে, ডায়াফ্রামের বা পাতলা পর্দার নীচে থাকে। লিভার ক্যান্সার, যা হেপাটিক ক্যান্সার এবং প্রাথমিক হেপাটিক ক্যান্সার হিসাবে পরিচিত। শরীরের অন্য কোন স্থান থেকে শুরু হওয়া ক্যান্সার যা লিভারে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ লিভারে ছড়িয়ে পড়ে, যা লিভার মেটাস্ট্যাসিস নামে পরিচিত।
লিভার ক্যান্সার কেন হয়ঃ সারা বিশ্বেই ক্যানসারজনীত কারণে মৃত্যুর ইতিহাসের মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে লিভার ক্যানসার। প্রতিবছর পৃথিবীতে চার লক্ষের ও বেশী মানুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে পুরুষ আক্রান্ত হয় ৭.5% আর মহিলাদের ৩.২% । আর এই রোগে বেশীরভাগ আক্রন্ত হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় মানুষ। যে কোন বয়সের লোকের এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি হেপাতিক ক্যানসার নামেও পরিচিত। বাংলায় একে যকৃতের ক্যানসার বলা হয়। কিন্তু আমরা সাধারণতঃ লিভার ক্যানসার সহজেই বলে থাকে। সারা বিশ্বে লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বা অ্যালকোহলের কারণে সিরোসিস। বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি সবচেয়ে বেশি লিভার ক্যান্সারের কারণ হয়ে থাকে। হেপাটাইসিস বি ভাইরাস বহনকারী ১০% ব্যাক্তি জীবনের এক পর্যায়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়। হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহ। দুই ধরনের এই প্রদাহ হয়ে থাকে, ক্ষণস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী। এ,বি,সি,ডি এবং ই ভাইরাস দ্বারা হেপাটাইটিসটি ছড়ায়। এর মধ্যে ই এবং এ ভাইরাস ক্ষণস্থায়ী হেপাটাইটিসের জন্যে দায়ী। ই ভাইরাস দুষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। বি এবং সি ভাইরাস রক্ত ও দেহরস থেকে সংক্রমিত হয়। বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শরীরের প্রতিরোদ ব্যবস্থার মাধ্যমে লিভারের কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকে। পরবর্তিতে ৫০ ভাগের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা হেপাটাইটিস রোগের সৃষ্টি করে। আর সি ভাইরসের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের হার ৫০ থেকে ৮০ ভাগের হতে পয়ারে। অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে আফলাটোক্সিন, অ্যালকোহলমুক্ত ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং লিভার ফুল্কস সহ সর্বাধিক প্রচলিত প্রকার হ’ল হেপাটোসুলার কার্সিনোমা (এইচসিসি), যা ৮০% কেস এবং কোল্যানজিও কার্সিনোমা তৈরি করে সাধারণ ধরণের মিউকিনাস সিস্টিক নিউওপ্লাজম (কোষ গুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি) এবং ইন্ট্রাডাক্টাল পেপিলারি বিলিয়ারি (পিত্ত) নিউওপ্লাজম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বয়স্কদের বিভিন্ন কারন যেমন অধিক স্থুলতা, এটি স্টিওহেপাটাইটিস হতে পারে। আজ এ পর্যন্ত আগামীতে এর আরো অনেক কারণ জানার চেষ্টা করবো। অবশ্য লিভার ক্যান্সারের আলোচনা এক বিরাটকার বিষয়। দেখা যাক কতটূকু চেষ্টা করতে পারি। ততক্ষণ নিজে পড়ুন এবং অন্যকে শেয়ার করুন। এসব বিষয় জানা আসলেই খুব জরুরী। মহান আল্লাহ সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুন। এই দোয়া রেখে আজকের সমাপ্তি। আল্লাহ হাফেজ।

রওশন চৌধুরী-  সহ সম্পাদিকা চেতনা বিডি ডটকম ।      

Leave A Reply

Your email address will not be published.