Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সার পর্ব ৩৪

263
ব্রেস্ট ক্যান্সারঃ
গত পর্ব শেষ করেছিলাম Breast Cancer লক্ষণগুলোর বর্ণনা দিয়ে। আজ চেষ্ট করি এর কেমন চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে তা জানতেঃ
চিকিৎসা কখন করতে হবে?ঃ স্বাভাবিকভাবে উপরোক্ত লক্ষনগুলো দেখা দিলেই, কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বিষয়টি খুলে বলতে হবে। একটা বিষয় অবশ্যই বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের দেহের বিশেষ কোন কোন অঙ্গের ক্ষেত্রে খুবই লজ্জ্যাবোধ করেন। সেটা অবশ্য ঠিক। লজ্জ্যা অবশ্যই থাকা দরকার। তবে সেটা কেবল হবে আমাদের পর্দার ক্ষেত্রে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রে নয়। সৃষ্টিকর্তা রোগ দিয়েছেন এবং রোগের আগে তিনি চিকিতসার ব্যবস্থাও দিয়েছেন। লজ্জ্যা ভেবে চিকিৎসা না করে কষ্ট পাওয়া কিংবা বাঁচার জন্যে চেষ্টা না করে বিনা চিকিতসায় মৃত্যুবরন করা আর আত্মহনন করা একই কথা। তাই দেহের যে স্থানেই কোন রোগের লক্ষন দেখা দেবে অবশ্যই আমাদের উচিত সর্বাগ্রে চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া। সেই সাথে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ চাওয়া। তাই জীবন বাঁচাতে কেবলমাত্র উপযুক্ত চিকিৎসার জন্যে লজ্জ্যার কথা ভুলে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে এমন লক্ষনগুলো দেখা দিলে নিঃসঙ্কোচে পরিবারের সদস্যদের কাছে খুলে বলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কিভাবে জানতে পারবেন ও চিকিৎসা? ঃ ক্যানসার গভেষকদের মতে, সাধারণ্তঃ বয়স ৩০ বা ৩৫ হবার পর সব নারীর উচিত নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখা। এজন্য মূলত তিনটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। Mammography বা বিশেষ ধরনের এক্স রে, যার সাহায্যে Breast এর অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে। সুনির্দিষ্ট নিয়মে চাকা বা পিণ্ড আছে কিনা, চিকিৎসকের মাধ্যমে সে পরীক্ষা করান। নিজে নিজে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী Breast পরীক্ষা করতে পারেন। এছাড়া Breast এর যে কোনও পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হন। যদি কেউ Breast এ চাকা অনুভব করেন, চুলকানি বা ত্বকের জ্বালা অনুভব করেন যা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত থাকে তবে তিনি যেন দেরি না করে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। ম্যমোগ্রাফি বা এক্সের সাহায্যে যদি এমন কিছু ধরা পড়ে, তখন একটি বায়োপসি প্রয়োজন হতে পারে – এই প্রক্রিয়াটি ক্ষুদ্রতর বিশ্লেষণের জন্য একটি ছোট টিস্যু নমুনা সংগ্রহ করে আক্রান্ত স্থানটি চিহ্নিত করতে পারে।
চিকিৎসা কেমন হবেঃ
Breast ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসায় প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে থাকেন একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন (ব্রেস্ট সার্জন বা জেনারেল সার্জন)। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যান্সারের সঠিক ও উপযোগী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একজন সার্জন অন্যান্য বিষয়ে যেমন- (অনকোলজি, রেডিওথেরাপি, রেডিওলজি, প্যাথলজি) বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে একসঙ্গে চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। যা MDT (Multi Disciplinary Team) চিকিৎসা নামে পরিচিত। Breast ক্যান্সার রোগের চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যেমন- সার্জারি বা অপারেশন, কেমোথেরাপি (ক্যান্সার ধ্বংসকারী ওষুধ), রেডিওথেরাপি (সেক) হরমোন থেরাপি। কোন পদ্ধতিটি রোগীর জন্য উপযোগী তা MDT (Multi Disciplinary Team) নির্ধারণ করে থাকে। আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তারপর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ণয় করা হয়।
সার্জারি বা অপারেশনঃ
Breast এর অপারেশন এর জন্যে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন Breast Cancer রোগের অপারেশনের বিষয়ে পারদর্শি কিনা তা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অন্যান্য সুস্থ হওয়া রোগীদের কাছ থেকে জেনে নিন তিনি কোথায় কোন চিকিতসকের দ্বারা চিকিৎসা করিয়েছেন এবং ‘অপারেশন’ করিয়েছেন। এসব বিষয়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করুন। Operation বিষয়টি সবসময় রোগীদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর। কিন্তু মনে রাখতে হবে ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ নির্ণীত Breast Cancer প্রথম চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন।
আজ এ পর্যন্ত শেষ করি। আগামীতে এর বাকী অংশ নিয়ে জানার চেষ্টা করব। এপর্যন্ত পর্বটি পড়েন এবং অন্যকে শেয়ার করুন। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকে আল্লাহ্‌ হাফেজ।
(চলবে)
রওশন চৌধুরী, সহসম্পাদিকা, চেতনায় বিডি ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.