Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সার পর্ব ৩৫

271
Breast Cancer এর চিকিৎসাঃ
গত পর্ব শেষ করেছিলাম Breast Cancer এর চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে। আজ বাকি অংশে কি রয়েছে তা জানার চেষ্টাঃ
অপারেশনঃ দুটি উপায়ে সাধারণতঃ অপারেশন করা হয়ে থাকে। ১। Mastectomy – যাতে পুরো breast কেটে ফেলা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই চিকিৎসা বহুল প্রচলিত এবং স্বীকৃত। Breast Conserving Surgery – এতে পুরো Breast remove না করে শুধু ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানটি আশপাশের কিছু নরমাল টিস্যুসহ ফেলে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই অপারেশন পরবর্তী সময়ে রেডিওথেরাপি দিতে হবে। দুই ধরনের অপারেশনে রোগমুক্ত ও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় কোনো পার্থক্য নেই। বরং Breast Conserving Surgery এর ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা যেমন- এতে সম্পূর্ণ Breast না কেটে ক্যান্সারটি পুরোপুরি অপসারণ করা হয়। কিন্তু Breast এর আকৃতির বিশেষ পরিবর্তন হয় না। অপারেশনের ধকল ও ব্যয় অনেকাংশে কমে যায়। এ কারণে অপেক্ষাকৃত নতুন এই অপারেশন পদ্ধতিটি এখন বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত ও স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে, একটা জিনিষ মনে রাখতে হবে প্রয়োজনে Mastectomy (পুরো অংশটি রিমোভ) করলে সুস্থ হবার বেশি সম্ভাবনা থাকলে, কোন ধরনের আফসোস না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন। আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী আমার চিকিৎসার সময় একটি কথা বলেছিলেন, যদি হাতের পাঁচটি আঙ্গুলের মধ্যে কোণ ক্ষতের জন্যে একটি আঙ্গুল কেটে ফেললে আপনার পুরো হাতটি রক্ষা হয় মনে করেন। তবে একটি আঙ্গুল ফেলে দিতে দুঃখ করবেন না। তাই জীবনকে বাঁচাতে ও সুস্থ্য থাকতে একটি অংগের বিনিময়ে তাই করাই উচিত। কিন্তু চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমশি করে সময় নষ্ট করলে এমনো হতে পারে চিকিৎসা ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে আপনার অবস্থা।
কেমোথেরাপিঃ সাধারণত Breast Cancer এর চিকিৎসায় অপারেশন পরবর্তী সময়ে Adjuvant Chemotherapy দেওয়া হয়ে থাকে এবং তা অনকোলজিস্ট দিয়ে থাকেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে টিউমার বেশি বড় থাকলে Chemotherapy (Neo Adjuvant) অপারেশনের আগে নিতে হতে পারে। সাধারণত ৬-৮টি ডোজ (প্রতি মাসে একটি করে) রক্তনালির মাধ্যমে ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া হয়।
রেডিওথেরাপিঃ রেডিওথেরাপি Breast ও বগলে দুই জায়গায় দিতে হতে পারে এবং তা নির্ভর করে রোগের/চিকিৎসার ধরন ও অপারেশন পরবর্তী (যেমন- Mastectomy/Lumpectomy এবং SLNB) বায়োপসি রিপোর্টের ওপর।
Hormone Therapy/ হরমোন থেরাপিঃ যাদের ER/RR (ইন্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন রিপেস্টার) পজিটিভ থাকে তাদের এই চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত অপারেশন পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিনের জন্য (অন্তত ৫ বছর) ওষুধ খেতে হয়।
Targeted Therapy/টারগেটেড থেরাপি নামেও একটি থেরাপি আছে। রোগের নেগেটিভ পজেটিভ বিষয়কে বিবেচনা করেই বিভিন্ন পদ্ধতির চিকিৎসা করা হয়। এসব একজন চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নেবেন।
ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তাই এমন রোগীদের আর্থিক সাহায্যার্থে আপনজনসহ সমাজের সামর্থবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ।
পরবর্তীতে থেরাপী পরবর্তী রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্বন্ধে কিছু জানার বিষয় নিয়ে আসব। এ পর্যন্ত এবং সবসময় মহান আল্লাহ্‌ যেন সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।
চলবে।
রওশন চৌধুরী, সহসম্পাদিকা, চেতনায় বিডি ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.