Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সার ৩৩ পর্ব।

279
গত পর্ব শেষ করেছিলাম হাড্ডির ক্যান্সারের ঝুকির দিক আলোচনা করে। আজ জানতে চেষ্টা করব Breast Cancer (স্তন ক্যান্সার) নিয়ে।
পরম করুণাময়ের নামে তাহলে শুরু করা যাকঃ স্তন ক্যান্সার হ’ল সেই ক্যান্সার যা স্তনের কোষে সৃষ্টি হয়ে থাকে। ত্বকের ক্যান্সারের পরে, স্তন ক্যান্সার হ’ল আরেকটি ঝুকিপূর্ণ ক্যানসার। যুক্তরাষ্ট্রে মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে এই ক্যানসার। স্তন ক্যান্সার পুরুষ এবং মহিলা উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে তবে এটি মহিলাদের মধ্যে অনেক বেশি হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ, ভারত ও আশেপাশের দেশ গুলোতে এর বিস্তার অনেক প্রকট আকারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে শতকরা ৯৮ শতাংশের বেশি নারী, তবে খুব অল্প সংখ্যক পুরুষও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ এ রোগে মারা যান। বিশেষ কিছু সূত্র থেকে জানা যায় বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হারও।
স্তন ক্যানসার কেন হয়?ঃ ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, এখন জীবনাচরণে এবং খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে, সেটি একটি কারণ। এছাড়া কারো পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে হতে পারে। কারো যদি বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারাও ঝুঁকিতে থাকে। সেই সঙ্গে তেজস্ক্রিয়তা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। দেরিতে সন্তান গ্রহণ, আবার যাদের সন্তান নেই, বা সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চাইতে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকলে এবং প্রসেসড ফুড (প্রক্রিয়াজাত খাদ্য) বেশি খেলে, এবং অতিরিক্ত ওজন যাদের তাদেরও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খেলে বা হরমোনের ইনজেকশন নিলে, তারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে বয়স বাড়ার সাথে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষ করে ৫০ উর্ধদের এই ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়। তখন আর করার কিছু থাকে না। গেলো কয়েক দশক থেকে জানামতে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবে সেই সঙ্গে কিছুটা সচেতনতা বাড়ার কারণে এখন মানুষ চিকিৎসকের কাছেও আগের তুলনায় বেশি যায় এবং সেজন্য চিকিৎসকরা জানতে পারেন একটু আগে, যার ফলে যথাসম্ভব উপযুক্ত সময়ের চিকিৎসা করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে আগের চেয়ে বেশি রোগীরা সুস্থ হচ্ছে এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেড়েছে।
কী লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে? কিভাবে সাবধান করবেন?ঃ ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, ঐ অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়। সেটি রক্তনালীর লসিকা (কোষ-রস) ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার। ম্যাটাস্ট্যাটিক স্তন ক্যান্সার (এমবিসি), চতুর্থ পর্যায় হিসাবে পরিচিত স্তন ক্যান্সার। যা স্তনের বাইরেও শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। স্তন ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়ার সাধারণ জায়গা হাড়, ফুসফুস, লিভার এবং মস্তিষ্ক।
পেস্টের (পিএজে-ই) এর স্তনের রোগটি স্তন ক্যান্সারের একটি বিরল রূপ। স্তনের পেএজের রোগ ব্রেস্ট নিপল থেকে শুরু হয় এবং স্তনের চারদিকে ত্বকের অন্ধকার বৃত্ত (Dark circles on the skin) পর্যন্ত প্রসারিত হয়। স্তনের পেজেটের রোগটি প্রায়শই 50 বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যে দেখা যায় । কেবল বিরল ক্ষেত্রে স্তনের পেজেটের রোগটি ব্রেস্ট নিপল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ত্বকের পরিবর্তনগুলি তাড়াতাড়ি আসতে পারে এবং সাময়িক চিকিত্সায় প্রতিক্রিয়া জানতে পারা যেতে পারে। গড়পড়তায়, মহিলাদের ক্যান্সার নির্ণয়ের আগে বেশ কয়েক মাস ধরে লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায়। যেমনঃ স্তনে চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে। স্তনের নিপিল কোন ধরনের পরিবর্তন, যেমন ভেতরে ঢুকে গেলে, অসমান বা বাঁকা হয়ে গেলে, ব্রেস্টের নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক liquid (তরল পদার্থ) বের হলে, স্তনের চামড়ার রং বা চেহারায় পরিবর্তন হলে। বাহুমূলে (In the armpit flesh) চাকা দেখা গেলে। ব্যাথা অনুভূত হয় এবং ব্যাথানাশক ঔষধ সেবনেও ব্যথা কমে না। জ্বর জ্বর অনুভূত হয়।
আজ এ পর্যন্ত। আগামীতে সমাধানের উপায়/ চিকিৎসা নিয়ে কিছু জানার চেষ্টা নিয়ে আসার আশা করি। ততক্ষণ এই পর্বটি খুব জরুরীভিত্তিতে দেখুন এবং অন্যকে শেয়ার করুন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।
(চলবে)

 

রওশন চৌধুরী, সহ সম্পাদিকা, চেতনায় বিডি ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.