Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সার ৩৬ পর্ব

265
Breast Cancerঃ
গত পর্ব শেষ করেছিলাম Breast Cancer এর চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে। আজ এরকম চিকিৎসার পরে রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন হয়ে থাকে তা একটু জানতে চেষ্টা করবো।
কিছু কথা এখন একটু বলা দরকার। সার্জারীর পরে অথবা পুর্বে Chemotherapy দেয়ার পর রোগীর কি কি উপসর্গ দেখা দেয়? রোগীর সার্জারি করার পর যতটা কষ্ট ভোগ করতে হয় তার চেয়ে অনেক অনেক কষ্টের বিষয় হচ্ছে Chemotherapy , ও Radiotherapy, এসময়ই রোগীর জন্যে খুব বিপদজনক অধ্যায়। আমার দেখা Chemotherapy পুশ করার সাথে সাথে একজন মহিলা অনেক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুবরন করেন। এই থেরাপিটি মানুষের প্রতিটি শিরায় প্রবেশ করে ক্যানসারের কনাগুলোকে খুঁজে বের করে পুড়ে মারে। ভাবতে পারেন এটি কেমন শক্তিশালী একটা পয়জন (বিষ)। এমন বিষ একজন রোগীকে ৬ থেকে শুরু করে বিশ ত্রিশ টি এমন কি আরো বেশি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। বেঁচে থাকার জন্যে এটা যে কত বড় একটা যুদ্ধ তা ভোক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না। চিকিৎসার এই পদ্ধতিটি দেয়ার পর একজন রোগীর বমি হয়, অনেক দিন, প্রচন্ডভাবে মাথা ঘুরায়, খাবার রুচি একদম থাকে না, ঘন ঘন টয়লেট করতে হয়, অত্যন্ত দূর্বল হয়ে পড়ে, কোন কোন সময় সেন্সলেস হয়ে যায়। চলাফেরা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমন রোগির কাছে একজন প্রাপ্ত বয়সের মানুষ থাকতে হবে। রক্ত শুন্যতা দেখা দেয়। তাই একটু পর পর তাকে খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে হয়। বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে যাতে একটা খেতে না পারলে অন্য কিছু খেতে পারেন। তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। পুষ্টিকর খাবার, শিং মাছের ঝুল, বা বাচ্চা মুরগীর স্যুপ বা ঝুল রান্না করে নরম ভাতের সাথে একটু পর পর খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। ভালো ভালো ফল যেমন কমলা, আপেল, মাল্টা এবং অন্যান্য লোক্যাল ফল খেতে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এমন একজন মানুষ মৃত্যুর প্রায় কাছাকাছি আছেন। এই থেরাপির প্রথমটি দেয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই রোগির মাথার চুল সম্পূর্ন পড়ে যায়, হাত পায়ের নোখ কালো ছাই বর্ণ হয়ে যায়, কারো কারো নোখ মরেও যেতে পারে, শরীর ফোলে যায়। হাত পা ভয়ঙ্করভাবে ফোলে উঠে। এসবে নার্ভাস না হয়ে, উপযুক্ত যত্ন নিন এবং ডাক্তারের ফলোআপে থাকুন। মনোবল শক্ত করে ধৈর্য্য ধরে নিজে যতটুকু পারেন নিজের যত্ন নিন। সেই সাথে, পরিবারের সবাই এবং রোগীর সাথে সম্পৃক্ত সবাই ধৈর্য্য ধরে যথাসাধ্য রোগীর শারীরিক যত্নের সাথে সাথে তার মানষিক শান্তি দিতে সদা জাগ্রত থাকুন।
চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও মেটাস্ট্যাটিক স্তনের ক্যান্সার বা যে কোন ক্যান্সার অনেক বছর পরেও ঘটতে পারে। তাই সুস্থ হলেও নিয়মিত ফলোআপে থাকুন। প্রইয়োজনীয় ঔষধ সেবন করুন, সেই সাথে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসনগুলি মেনে চলুন। তবে বর্তমানে স্তন ক্যান্সারের বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলতঃ প্রথম ধাপে সনাক্তকরণ, চিকিত্সার ক্ষেত্রে একটি নতুন ব্যাবস্থা, ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং রোগ সম্পর্কে আরও ভাল বোঝার কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী সহ পরিবার পরিজন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির আরো উন্নত হওয়া দরকার। নারীদের সংকোচমুক্ত হয়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে খোলাখোলিভাবে আপনজনসহ চিকিৎসকের কাছে আপনার রোগের কথাটি বলুন।
সচেতনতাঃ ক্যানসার থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে সুস্থ অবস্থায়ই সচেতন হোন। স্থুলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। সেই জন্যে ব্যায়াম করুন সপ্তায় অন্তত চার দিন, প্রতিদিন হাটুন অন্তত ৩০ মিনিট। খাবারের মেনুতে মাংসের উপস্থিতি কম রাখুন। প্রচুর সবজি খান, মাছ মাংস কমিয়ে ফেলুন, তেল, চর্বি খাওয়া একদম কমান, দেশি ফল খান। নিয়মের মধ্যে নিজেকে পরিচালিত করুন। সৃষ্টিকর্তার অনুশাসনকে মেনে চলুন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেকে রাখতে চেষ্টা করুন। আর খালি পেটে কালোজিরে খান মধু মিশিয়ে।
আজ এ পর্যন্ত আগামীতে আরো কিছু পরামর্শ নিয়ে আসবো। আমার এই লিখা পাঠকদের জন্যে কতটুকু উপকারী তা আপনারাই বিবেচনা করবেন।  ইনশাহ আল্লাহ্‌। সবাই ভালো থাকুন মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করে। আল্লাহ্‌ হাফেজ
(চলবে)
রওশন চৌধুরী, সহ সম্পাদিকা, চেতনায় বিডি ডটকম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.