Take a fresh look at your lifestyle.

ক্যান্সার ৪১তম ও শেষ পর্ব

262

কিছু অনুরোধঃ
অনেক দিন লিখে চলেছিলাম ক্যান্সারের ভয়াবহতা এবং এর চিকিৎসা নিয়ে। পাঠকদের অনেকেই হয়ত খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। সে যে যেভাবেই নিয়েছেন সেটা আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। আমার উদ্দেশ্য একটাই এই তথ্যগুলো যারা পড়বেন তারাই উপকৃত হবেন। কারণ আমি অনেক অনেক সময় ব্যয় করে এবং ধৈর্য্য ধরে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি যা হয়ত সবাই সবখানে পাবেন না। আজ ইতি টানার সময়ে কিছু কথা বলে রাখতে চাই।
প্রতিটি পর্বে আমার অনুরোধ ছিলো যে কোন ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহনের ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। আপনার আর্থিক সঙ্গতি থাকলে যে দেশে এই রোগের জন্যে উন্নত চিকিৎসা ব্যাবস্থা ও দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিত়্সক আছেন জানামতে সেই দেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করেন। সবধরণের ক্যান্সারের হাত থেকে সুস্থ হলেও আপনার চিকিৎসকের সাথে ফলোআপটা অভ্যহত রাখতে অবশ্যই অবহেলা করবেন না। এমন রোগীদের বেলায় সকল চিকিত়্সক এবং আত্মীয় পরিজন ও পাড়া প্রতিবেশিদের কি করণীয় তার কিছুটা আলোচনা নিয়ে এবং এমন রোগের ব্যাপারে আমার কষ্ট ও সুখের কিছু শেয়ার করবঃ.
প্রথমতঃ কখনো কোন অসুস্থ ব্যক্তির অসুস্থতার কথা অবিশ্বাস করবেন না। তা সে আপনে রোগীর ঘরের মানুষ হন বা বাহিরের কেউ হোন। একজন অসুস্থ মানুষের মনে আঘাত দিলে বলা যায় না ঐ ব্যক্তির মনের কষ্টে আপনার আমার জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নামতে পারে। আপনার বিশ্বাস না হলেও রোগীকে বুঝাবেন না যে, তার কথা আপনে অবিশ্বাস করছেন। আল্লাহ্‌ ক্ষমা করুন এমন যেন না করেন। পরিবারের মানুষ আমাদের সবচেয়ে কাছের এবং আপন। যখন দেখবেন আপনাদের কারো এমন কোন লক্ষন দেখা দেয় যে যে লক্ষণগুলো আমি আগে উল্লেখ করেছি তা দেখার বা জানার সাথে সাথেই সচেষ্ট হন এবং রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হোন। ভালো চিকিৎসার জন্য ভালো ডাক্তার খোঁজে বের করেন। আমি জানি আর্থিক অবস্থা সবার সমান নয়। তাই শুরুতেই সচেতন হলে হয়ত আল্লাহ্‌ ও আমাদেরকে রক্ষা করবেন। রোগ ধরা পড়লে রুগীর সামনে চিকিৎসার খরচ নিয়ে আলোচনা না করে তাকে আশ্বাস দিতে থাকুন। এই ক্ষেত্রে আমাদের সমাজের সব মানুষের এগিয়ে আসা উচিৎ। এমন একটা সৎ পন্থা অবলম্বন করলে পারি আমরা সবাই যার যার সামর্থ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। একজন মানুষকে বাঁচানোর মালিক আল্লাহ্‌। কিন্তু তাকে সুস্থ করার দায়িত্ব তার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু বান্ধব, পাড়াপড়শি, কর্মস্থলের উপর তলার ব্যক্তিবর্গ থেকে সর্বস্থরের সবাই কোন চাপ সৃষ্টি করে নয়, নিজের ইচ্ছায় যে যতটূকু পারেন। হাত বাড়ান মানুষের জন্যে। এমন রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল তাই একটা পরিবারের পক্ষে তা বহন করা খুবই দুরূহ ব্যাপার। রোগীর সাথে সব সময় ভালো ব্যবহারটা বজায় রাখুন। এই রোগটা কিন্তু মানষিক আঘাত থেকে খুব বেশী চেঁপে ধরে । ভালো হবার পরেও ফিরে আসে। আমি নিজেও অনেক মানুষ দেখেছি যারা আমার মনে খুব করে আঘাত দিয়েছে। যা একজন সুস্থ মানুষের পক্ষেও সম্ভব না টিকে থাকা। আমি অনেককে ভাঙ্গিয়েও বলেছি আমার সাথে প্লীজ কেউ রুঢ় ব্যবহার বা কোন ধরণের উচ্চস্বরে কথা বলোনা । এমন কথাটা যেন তাদেরকে আরো উৎসাহিত করেছিল, আমাকে আঘাত দেবার জন্যে। আল্লাহ্‌ এমন মানুষদের হেদায়াত দান করুন। দুঃখ নেই আমিতো ওদের ধারে কাছেও আর ভিড়বো না। আল্লাহ্‌ যেন সেই তৌফিক আমাকে দান করেন। আবার আমি এত্ত এত্ত ভালোবাসা পেয়েছি যে, যারা আঘাত করেছে তারা হয়ত এমন ভালো মানুষ কোনদিনও দেখে নি। তাই তারা মানুষের মূল্যায়ন করতে জানে না। আমি শুরুতেই উল্লেখ করেছি কারা আমার বিপদের সময় সার্বক্ষনিক আমার পাশে ছিলো, আমায় চিকিৎসার খরচ দিয়েছিলো, খোঁজ খবর নিয়েছিলেন, খতম এবং মিলাদ পড়িয়ে প্রতি সম্পায় আমার জন্যে দোয়া করিয়েছেন। আমি ভুলবো না আমার ব্যাংকের ম্যানেজার স্যার, এবং বাকি সবার আন্তরিকতার কথা। তখন যেন প্রথম সারির আপনজন ছিলেন আমার ব্যাংকের টপ টু বোটম সবাই। আমার ভাই বোন এবং তাঁদের সন্তানাদী। আমার মামা, খালা, খালু, এবং তাঁদের ছেলেমেয়েরা অর্থাৎ আমার কাজীন সবাই। চিকিৎসার খরচ বহন থেকে শুরু করে মানসিক শান্তনা, দেখা শোনা, এবং দোয়া। আমার বন্ধু বান্ধবী, পাড়া প্রতিবেশী এদের সবার কাছেও আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমি আজো এদের কাছ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা এবং সহযোগিতা পাচ্ছি। তাই বলি কেউ যদি কারো জন্যে কোন ভালো কিছু করেন তাহলে সেটার ফলাফল তিনি নিজেও কিন্তু ভোগ করেন। আর ডাক্তারদের উদ্ধেশ্যে বলবো আপনাদের কাছে একজন রোগী যায় জীবনের একটা আশ্বাস নিয়ে। আপনারাও যেনো ঐসব রোগীর প্রতি পেশাগত দৃষ্টির সম্পর্কে নয় আপনাদের দায়িত্বে পড়ে এমন একজন আপনজন ভেবে রোগীর সাথে থাকুন এবং আর্থিক ক্ষেত্রে যতটুকু পারেন ছাড় দেবার ইচ্ছাটা রাখুন। আমার জীবনে একটা খুব আশা ছিলো আমি একটা ফান্ড তৈরি করে যাব। যেখানে আমি জীবিত থাকাকালীন আমার সাধ্যানুযায়ী ফান্ড জমা রাখবো এবং এই ফান্ডের টাকা থেকে মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্তের ক্যান্সার চিকিতসায় সাহায্য করা হবে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতা আমাকে আমার সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। তবে আমি যদি এই লিখাটা বই আকারে নিয়ে যাবার মতো সময় পাই। তাহলে এর খরচ বাবদ যা যাবে সেই টাকাটা আসার পরে, যা আসবে তার ৭৫% “প্রকৃতি ও মানুষের জন্যে” মানবিক প্রতিষ্ঠানে দান করবো ইনশাহ আল্লাহ্‌। বাকি ২০% আমার মেয়ের কাছে থাকবে স্মৃতিস্বরূপ এবং ৫% অন্য কিছুর জন্যে। আমি এই কথাগুলো দিয়ে শুধু গ্রুপ থেকে লিখাটার সমাপ্তি টানছি। কিন্তু বইয়ের জন্যে সমাপ্তিটা একটু আলাদা হবে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যারা আমার এই লিখাটির প্রতিটি পর্ব পড়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন বই আকারে ছাপানোর জন্যে। আমি আপনাদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ বিশেষ করে গ্রুপের চীপ এডমিন দুইজন মতিন ভাই আর আতিক ভাই, এবং সদস্য লেখক আহমেদ সোহেলের কাছে। আরো অনেকেই আছেন, সবাইকে সালাম জানিয়ে ক্যান্সার নিয়ে লিখার সমাপ্তি টানছি আজ।
আল্লাহ্‌ হাফেজ।
রওশন চৌধুরী, সহ সম্পাদিকা, চেতনায় বিডি ডটকম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.