Take a fresh look at your lifestyle.

পোস্টমার্টেম – ৫

196

 

শিহাবের আম্মু: বাবা কোথায় তুমি?
শিহাব : আসছি আমি দশ মিনিট লাগবে।
শিহাব বাসায় পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে মায়ের রুমে এসে বললো বলো ফোন দিয়েছিলে কেনো?
কাল শনিবার, পরশু রোববার আমারা যাবো অথচ তুই কিছু বলছিস না।
শিহাব : কি বলবো যা বলার তো বলেছি। আর এই নাও এখানে কিছু টাকা আছে। কাল তুমি আর বাবা মিলে যা করার করো। বাবার সাথে আমার কিছূ কথা আছে।
শিহাবের আম্মু একটু আৎকে উঠলো। কোন বিষয়ে?
শিহাব, চলো শুনবে।
জামিল সাহেব তখন টিভির সামনে। শিহাব আর ওর মা ঢুকলো।
শিহাব: বাবা তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো
জামিল সাহেব: বলো
শিহাব: তোমার ঐ ফেলে রাখা পুঠরনো ইটের ভাটার জমিটায় আমি একটা ট্রাষ্ট ফাউন্ডেশন করতে চাই।
জামিল সাহেব; খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে এখন এতো টাকা?
শিহাব: তুমি ভেবোনা বাবা আমরা দুজন ডাঃ মিলে আপাতত কাজ শুরু করবো।
জামিল সাহেব: ঠিক আছে করো।
পরদিন শনিবার
শিহাব রুমেই আছে। খুব সকালে শিহাবের মায়ের ঘুম ভাঙ্গলো। চা নিয়ে জামিল সাহেবের রুমে ঢুকলো।
জামিল সাহেবকে বললো,শোন আজ কোথাও যাবেনা আজ শপিং এ যাওয়া লাগবে।
জামিল সাহেব, ঠিক আছে তুমি ভেবোনা যাওয়া যাবে।
শিহাব মাকে বললো আমার ওটি আছে তিনটায়।
ঠিক আছে বাবা খেয়ে নাও। বলে ডাইনিং এ খাবার দিলো।
এরপর শিহাবের নানুর কাছে ফোন দিয়ে বললো তোমারা সবাই সকালে আমার বাসায় এসো আমারা দশটায় সবাই বের হবো।
শিহাব হাসপাতালে পৌঁছেই অপারেশন থিয়েটারে ঢুকলো।
প্রায় দুই ঘন্টা পর বের হলো।
পিয়াসা আজ একটা কালো শাড়ি পরে এসেছে। সাথে শিহাবের জন্য নতুন কিছু ভিজিটিং কার্ড।ডাঃ তাসকিন আহমেদ ( শিহাব )
এফ সি পি এস ( সার্জারী )
এম ডি
এস পি ফাউন্ডেশন।
এমন লেখা ছিলো কার্ডে। আর একটা সোনার টাই ক্লিপ একটা টাই। একটা চিঠি।
এদিকে শিহাব ও আসার পথে একটা হিরার নাকফুল নিয়ে এসেছে পিয়াসার জন্য।
শিহাব বের হয়েই দেখলো পিয়াসা ওর রুমে অপেক্ষা করছে।
শিহাব আজ নতুন রুমে নতুন চেয়ারে।
শিহাব : তুমি কখন এসেছো
পিয়াসা: তা দুই ঘন্টা হলো। এতোক্ষণ একাই তোমার রুমে বসে ছিলাম। আর যদি না বসতে পারি।
শিহাব: কি যে বলেন এমডি স্যার এস পি ফাউন্ডেশন।
বলেই হেসে উঠলো দুজনে।
কি খাবে বলো?
কফি আর কিছুই না।
শিহাব : বেল টিপে কফি আনতে বললো।
শিহাব : বাইরে যাবে কোথাও?
পিয়াসা : না স্যার। এখানেই বসি কিছুক্ষণ এরপর চলে যাই। তুমি ও বিশ্রাম নাও বাসায় যেয়।
শিহাব : ঠিক আছে।
ওয়ার্ড বয় কফি দিয়ে গেলো।
পিয়াসা কফি খেতে খেতে ব্যাগ থেকে গিফট গুলো বের করলো।
পিয়াসা: আমার স্মৃতি তোমার জন্য।
শিহাব : ব্লেজারের পকেট হতে ছোট্ট একটা বক্স বের করলো।
পিয়াসা: এটা কেনো?
শিহাব : আমার ভালোবাসার জন্য।
পিয়াসা: কিন্তু ওটা….
শিহাব : সেটা আম্মুকে কিনতে বলেছি।
পিয়াসার দু চোখ ভারী হয়ে ঊঠলো। নিজেকে আড়াল করে বললো তবে নিজ হাতে পরিয়ে দাও।
শিহাব কোন কথা না বলে পিয়াসার নাকে পরিয়ে দিলো নাকফুল।
পিয়াসা: টাই বের করে বললো আসো তোমাকে বেঁধে দেই। বলে শিহাবের গলায় বেঁধে দিলো এক আজন্ম চাওয়ার চির বন্ধন।
পিয়াসা ভিজিটিং কার্ড আর চিঠি বের করে দিয়ে বললো আমাদের এস পি ফাউন্ডেশনের উদ্ভবোদন করলাম। আর এই চিঠি বাসায় গিয়ে খুলবে।
শিহাব নিরবে তাকিয়ে রইলো।
পিয়াসা গেয়ে উঠলো
” যাবার আগে কিছু বলে গেলেনা
নিরবে শুধু রইলে চেয়ে ”
দুজনের মুখে কোন কথা নেই। ভাষাহীন দুজন বেরিয়ে পড়লো। কি লেখা ছিলো ঐ চিঠিতে??
তবে কি কোন অশনি সংকেত? শিহাব ভাবছে আর হাটছে।

চলবে……

 

পারভীন আকতার পারু – সহ সম্পাদক,  চেতনা বিডি ডটকম। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.