Take a fresh look at your lifestyle.

লেনিন ( পাঠ প্রতিক্রিয়া )

128

 

 

২২ এপ্রিল ১৮৭০ ছেলেটির জন্ম হলো।
রাশিয়ার আকাশে যেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আভাস মিলেছে।
নিজের চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে তখন, যখন রাশিয়ার রাষ্ট্র নীতি জুলুম, শাসন, শোষণ, নির্যাতনের করালগ্রাসে।
প্রতিদিন যেখানে সূর্য ওঠে মানুষের হতাশা আর বঞ্চনা নিয়ে ঠিক সেই দিনগুলো মুছে দিতে এলেন মহামতি লেলিন।
রাশিয়ার যাদুকর লেনিন এটা যেমন সত্য বিশ্ব রাষ্ট্র নীতির মাইল ফলক সে এটাও সত্য।

শরীরে তুলনায় অনেক বড় মাথা লেনিনের, জ্ঞান বিজ্ঞান আর প্রজ্ঞার মূর্ত প্রতীক সে।

ভীষণ পড়ুয়া এক মানুষকে আবিষ্কার করা যাবে তাঁর জীবনী পর্যালোচনা করলে।

অনেক নাটকীয় অবস্থার অবসান ঘটিয়ে লেনিন ভর্তি হন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় কাজানে।

রাশিয়ার রাষ্ট্র নীতির বিপরীতে যারা তাদের সাথে যোগসূত্র তৈরি হয় তাঁর।

রাশিয়া কর্তৃক নিষিদ্ধ বই পড়তে পড়তে তাঁর জ্ঞানের ভুবন সম্প্রসারিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত ছিল লেনিন ক্লাস করতে পারবে না কারণ তাঁর নিজ ভাই রাষ্ট্র বিরোধী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।
চার বছরের পড়াশোনা তাকে একবছরে শেষ করতে হয়।
শতশত পদ্ধতি পদদলিত করে তিনি পরীক্ষা দেন এবং সর্বোচ্চ রেজাল্ট করেন।
রাশিয়ার অর্থ ব্যবস্থা,রাষ্ট্র নীতির সংকীর্ণতা, অশোভনী আচরণ জনমন পিশিয়ে তুলেছিল।

লেনিন মজলুম শ্রমিক আর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী নিয়ে রাষ্ট্রীয় ঐক্য গড়তে শুরু করলেন।

প্রথমে স্বপরিবারে নির্বাসিত হতে হয়।

বিচক্ষণতা ও পারিবারিক দৃঢ়তার সমন্বয়ে নিজের সফলতা পথ পরিস্কার এবং চুড়ান্ত পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন লেনিন।

পুলিশ প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচতে তিনি নৌ পথে যাতায়াত করতেন এবং সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে বিপ্লবী মনোভাব সৃষ্টি করতেন।

বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে লেনিনের ধারণা ছিল খুব স্পষ্ট।
লেনিনের দর্শন নিক্ষেপ করলেন বিশ্ববাসীর কাছে –

* রাষ্ট্রের সকল সম্পদ হবে সরকারের।
* রাষ্ট্রের সকল মানুষ হবে শ্রমিক।
* মানুষ তার কর্মদক্ষতা অনুপাতে সম্পদের মালিক হবে।
* ব্যক্তির চিন্তার প্রতিফলন ও জনস্বাস্থ্য হবে রাষ্ট্রের সম্পদ।

এমন অনন্য কিছু মতবাদ মানব মনে প্রবেশ করলো।

রাশিয়ায় ১৮৯২ সালে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল।
এসময় লেনিন তাঁর বক্তব্য তুলে ধরলেন ভিন্ন রূপে।
দাগ কাটলো সাধারণ জনতার মধ্যে।

১৯১৭ সালে অবশেষে রাশিয়ার জার শাসনের পতন হলো।
সূচিত হলো নতুন রাষ্ট্র ধারা।
মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে রাশিয়ার নতুন ইতিহাস প্রকাশিত হলো।
মুক্তি পেল মানবতা, জনজীবনে স্বস্তি নেমে এলো।

১৯২২ সালে সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেল লেনিন।

এ মহাপ্রাণের মৃত্যু হলো ১৯২৪ সালের ২১ জানুয়ারি।

বইটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে যা পাঠকের মনে অন্য রকম অনুভূতি সৃষ্টি করবে।

লেনিনের বিপ্লবের ধারাবাহিক বর্ণনা শৈলী খুঁজে পাওয়া যাবে এ ছোট্ট বইটিতে।

আব্দুল মতিন- সম্পাদক, চেতনা বিডি ডটকম 

Leave A Reply

Your email address will not be published.