নিচের ছবির লেখাটি কোন এক বোনের। যাকে তার আপন ভাইয়েরা বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল।
তিন ভাই বোনকে বঞ্চিত করেছিল সম্পত্তি থেকে। বাপের সম্পত্তি ন্যায্য প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সামান্য কিছু নামে মাত্র দিতে চেয়েছিল। অভিমানী বোন বাবার সম্পত্তির সেই অংশটুকুও অভিমান করে নেয়নি।
দিন, মাস, বছর পেরিয়ে ভাইদের বয়স হয়েছে বোনের মতই । বার্ধক্য পৌঁছেছে সবাই।
বোনের বয়স সত্তরের বেশি। মৃত্যুশয্যায় বোনের কাছে মাফ চাইতে ছুটে যায় ভাইয়েরা। বোনের কাছে ভাইয়েরা মাফ চায় বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য।
বোনের মুখে মাস্ক লাগানো ছিল। শ্বাসকষ্টে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। কাগজ কলম চেয়ে নিয়ে কষ্ট করে ভাইদের উদ্দেশ্য লিখলেন,” মাফ করব না।”
ভাইদের অন্তর কেঁপেছিল কিনা জানি না। তবে ভাইদের জীবনের সকল পূণ্য, সকল অর্জন ঢাকা পড়েছিল বোনের দীর্ঘশ্বাসে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।
সেদিন এক ভিডিওতে দেখলাম। হুজুরকে প্রশ্ন করেছে একজন, ” তাদের বাবা নিজের মেয়েকে বঞ্চিত করে সকল সম্পত্তি ছেলেদের লিখে দিয়ে গেছেন। এতে তার বাবার গুনাহ হবে কিনা? “
হুজুর বললেন,” আপনার বাবা দোজখে আছেন। তাকে শাস্তি থেকে মুক্ত করতে চাইলে এখনোই বোনদের ডেকে তাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিন। “
আমাদের মুসলিম সমাজে শিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষদের মাঝে মেয়ে সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার এক অলিখিত রেওয়াজ চলে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। কতটা গুনাহ হয় ওয়ারিশের হক নষ্ট করলে এই জ্ঞানটুকু তাদের নেই। কিংবা আছে হয়তো কিন্তু সম্পত্তির লোভ তাদের বোধদয়কে পরাজিত করে।
সকল ভাইদের উদ্দেশ্য বলছি,” কখনো জ্ঞানে, অজ্ঞানে বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করবেন না। বঞ্চিত বোনদের একটা দীর্ঘশ্বাস আপনাদের সকল অর্জন ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।






