নতুন সৃষ্টি

এমাসেই প্রমোশন হয়ে সরফরাজ ভার্সিটির ভিসি হয়েছে।
এমাসেই তার বড় ছেলের বিয়ে। এমাসেই তার বাড়িতে এক এলাহী কান্ড হবার কথা রয়েছে।
ব্যক্তি জীবনের সরফরাজের পেছনের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়।
ইতিহাস সবসময়ই ভালো হবে এমন কোন কথা নেই।
ইতিহাসের এক যুগসন্ধি ক্ষণে সরফরাজ সাহেবের সাথে দেখা হয় আবুল মিয়ার।
আবুল মিয়া খুব ছোট কাল থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট পরিচিত এই লোকটা।
রাজনীতি করতে গেলে একাডেমিক ভাবে ভালো ক্যারিয়ার দরকার বটে তবে, কখনো কখনো ক্রিটিক্যল মানুষেমানুষের সঙ্গ পেলেও দূর্বল জ্ঞানের মানুষ চোখের পলকে সবল হয়ে উঠে।
মেট্রিক পাশ করা পর্যন্ত সরফরাজ ও আবুল মিয়ার সম্পর্ক ভালোই ছিল।
আবুল মিয়ার একাডেমিক শিক্ষার ছন্দ পতন ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই।
জীবনের ছন্দ কখন কোথায় মিলে তার ইয়ত্তা নেই।
ধীরগতিতে পড়াশোনা চলতে থাকে সরফরাজের। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে পাশ করে ভার্সিটিতে নাট্যকলায় ভর্তি হয় ভদ্রলোকটি।
ভার্সিটিতে ভর্তির সময় মৃত মুক্তিযোদ্ধার সাটিফিকেট বেশ কাজে লেগেছিল সরফরাজের।

রাজধানীতে কারণে অকারণে যাওয়া আসা আছে সরফরাজের, তবে উদ্দেশ্য যাইহোক পুরনো বন্ধু আবুল মিয়ার সাথে দেখা করাই মূখ্য বিষয়।

ইদানীং রাজনীতির উপরের একটা পদ নিয়ে আবুল মিয়া খুব ব্যস্ত।
বেশ খাটাখাটুনি পর ভালো পদে নেতৃত্বের ভূমিকায় আবুল মিয়া।

দেখতে দেখতে সরফরাজ ভার্সিটির পড়াশোনার ইতি টানলো।
শেষমেশ আবুল মিয়ার হাতে পায়ে ধরে ভার্সিটির শিক্ষক হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা হলো সরফরাজের।

এবছরের জানুয়ারিতে সরফরাজের চাকরির বয়স এগারো বছর হয়েছে।
রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পার করে আবুল মিয়া মন্ত্রী হয়েছেন।
সঙ্গত কারণেই ভার্সিটির ভিসি হয়েছে সরফরাজ।

কলা অনুষদের পাশে ৯০ শতাংশ জমি ফাঁকা পড়ে আছে। সিনেট মিটিং এ ভিসি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন ঐ ৯০ শতাংশ জায়গার উপরে থিয়েটার হবে।

আইন অনুষদের সামনে যে প্রাচীর ছিল তা বেশ পুরনো না ভাঙলে এখানে ভীষণ বেমানান লাগছে।
ভিসি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন ঐ প্রাচীরের গায়ে নারী পুরুষের উলঙ্গ ছবি অঙ্কিত হবে।

বিজ্ঞান ভবনের ভিতরে বিজ্ঞানাগারের জন্য যে জায়গা নির্ধারণ করা ছিল ঐ জায়গায় সুব্যবস্থাপনায় মুরগির খামার তৈরির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন ভিসি।

ভার্সিটির কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে বৃদ্ধ শাল বাগান ছিল, সংস্কার ধর্মী কিছু কাজ করবার জন্য ঐ বাগান কেটে ফেলা হবে।
ঐ বাগান উচ্ছেদের জন্য ভুলভাল কিছু বুঝিয়ে মন্ত্রী সাহেবের কাছ থেকে অনুমতিও নিয়েছে ভিসি।
এবার মসজিদের সামনে ছাগলের খামারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন তিনি।

এভাবেই ভার্সিটির বিভিন্ন জায়গায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছেন সরফরাজ।

কয়েকদিন পর একটা জরুরি মিটিং হবে ভার্সিটির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে।
এবার নতুন কিছু সৃষ্টির অপেক্ষায় ভিসি।

আব্দুল মতিন – কবি – সাহিত্যিক ও সম্পাদক চেতনা বিডি ডটকম

  • Related Posts

    নিচের ছবির লেখাটি কোন এক বোনের। যাকে তার আপন ভাইয়েরা বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল। তিন ভাই বোনকে বঞ্চিত করেছিল সম্পত্তি থেকে। বাপের সম্পত্তি ন্যায্য প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সামান্য…

    Read more

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    নতুন সৃষ্টি

    নতুন সৃষ্টি

    বিচ্ছিন্ন বিকেলে

    বিচ্ছিন্ন বিকেলে

    আপোষহীন নেতৃত্ব

    আপোষহীন নেতৃত্ব

    সুদূর প্রেম

    সুদূর প্রেম

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হতাশা দল

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হতাশা দল

    কষ্ট গুলো খুব ছোয়াচে

    কষ্ট গুলো খুব ছোয়াচে