ভিজে গেছে জানালার স্বচ্ছ কাঁচ
কাঁচের দেয়ালে বিন্দু বিন্দু কষ্টের জল
যেন নীরবে ঝরছে অশ্রুপাত।
বাতাসে বিরহী মনের আর্তনাদ
কতকাল বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখি না
বৃষ্টিও ছোঁয় না আমায়!
অথচ প্রায়ই বৃষ্টি আসে ঝড়ো হাওয়ায়
খুলে যায় দক্ষিণের বন্ধ জানালার কপাট
ভেঙ্গে পড়ে খড়কুটোয় বোনা পাখির বাসা
বৈদ্যুতিক তারে জুবুথুবু ভেজা কাক
ঘরের কার্ণিশে আশ্রয় নেয় চড়ুইয়ের ঝাঁক।
বাতাসে উড়ে ছিন্ন পালক
ভিজে যায় জারুলের ডাল
ঝরে পড়ে কৃষ্ণচূড়া
রাঙ্গিয়ে দেয় ভেজা পথ।
তবুও বৃষ্টি আমায় ছোঁয় না!
টিপ টিপ শব্দে রাত ভর বৃষ্টি ঝরে
মাঝে মাঝে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ
ঝিঁঝিঁর ডাক, কুকুরের হাঁক।
জানালায় পর্দা সরিয়ে বৃষ্টি দেখি
হাত বাড়িয়ে দেই বেখেয়ালে
তবু বৃষ্টি আমায় ছোঁয় না!
কত মেঘ জমে মনের আকাশে
তবুও ভিজে না নির্জলা হৃদয়
আমার বুকে তপ্ত খরা বারো মাস
অহর্নিশ পুড়ছে চৈত্রের দহনে।
শারমিন নিশু – কবি ও সাহিত্যিক – ফেনী।
