মা দীর্ঘজীবী হোক
আজ আমার মেয়ে এউনিচের শুভ জন্মদিন। তার জন্য একজোড়া জুতা কেনার ইচ্ছা।কিন্তু খাওয়া দাওয়াতে অনেক খরচ। একসাথে সব খরচ ও শখ কোন মতেই কুলানো সম্ভব না।এসময়ে জীবনের মূল্য দাসত্ব। বাইরের আবর্জনার স্তূপে একজোড়া জুতা পাই।জুতা জোড়া ধুয়ে ভালো করে পরিষ্কার করি।ভালো করে পালিশ করি।তাকে পরতে দেবো।
রুটি কেনার জন্য পয়সা নাই। তিনটা বোতল ভালো করে পরিষ্কার করি।আরনালডোর সাথে বিনিময় করি, সে বোতলগুলি নিয়ে আমাকে রুটি দেয়।
কাগজ বিক্রি করতে যাই।কাগজ বিক্রির টাকা দিয়ে অল্প মাংস, একসের আলু,একসের চিনি,অল্প একটু পনির কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়। আগামীকাল—।
আজ বৃষ্টির দিন, বৃষ্টি হচ্ছে। আমার অনুভূতি প্রবণের দিন। দাসত্ব মোচনের দিন। দাসত্ব থেকে মুক্তির উৎসবের স্মৃতি রক্ষার দিন। বৃষ্টি হতে থাকে। কেবল বরবটি ও লবন আছে। খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছে, তবু্ও ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়েছি। লিখতে থাকি, অপেক্ষা করতে থাকি বৃষ্টি থামার। বৃষ্টি থামলে কুড়ানো পুরাতন লোহার টুকরা বিক্রি করতে যাবো। লোহা বিক্রির টাকা দিয়ে চা’ল ও মাছ কিনবো।
ছেলে মেয়েরা সবসময় আমাকে ব্যথা দেয়। যখনই তারা কোনো খাবার দেখবে, চিৎকার করে ওঠে ; মা দীর্ঘজীবী হোক। তাদের আনন্দ ফূর্তি আমার ভালো লাগে। কিন্তু দিন দিন এখন আমি হাসি আনন্দ হারিয়ে ফেলছি। দশ মিনিট পরপরই তারা খাবার চায়।
এভাবে আমাকে উপস্থিত দাসত্বের সাথে লড়াই করতে হয়।ক্ষুধা!
শেষ রাতের তিনটার দিকে আমি ঘুম থেকে উঠেছি।কেননা, মানুষ যখন জেগে ওঠে তখন নানা সমস্যার চিন্তা শুরু হয়।ঘুম হারিয়ে যায়। আমি ঘুম থেকে উঠে লিখতে লিখতে কল্পনার জাল বুনিঃ সোনায় মোড়ানো একটা প্রাসাদ। সূর্যের আলোকচ্ছটায় ঝিকমিক করবে। কল্পনা করি জামাগুলো রৌপ্যের,প্রভার আয়না। আমার চোখের পলক বাগানের উপর রাখা। সব রকমের ফুলের যত্ন নেবো।শহর থেকে দূরে আমার বাড়ি, ভুলে যাবার জন্য এক আজব কল্পনার পরিবেশ গড়ে তোলা একান্ত দরকার।
পানি আনতে গিয়েছিলাম,উপরের দিকে তাকিয়েছি।আকাশ নক্ষত্রে ভরা।সারা আকাশ উজ্জ্বলতায় ভরা।যেন কাদার মধ্যে খসে পড়া এক নক্ষত্র। অপ্রীতিকর! যেন সব চিন্তা করা অপ্রীতিকর। সারাদিন ছেলে মেয়েদের ক্ষুধা আর ক্ষুধা।
আমার স্বপ্নের প্রাসাদের সময়গুলো আনন্দে ভরা।
** মূলঃ ক্যারোলিন ম্যারি ডে জেসাস( ব্রাজিলের কবি)
অনুবাদক- মোঃ হামিদুল ইসলাম – কবি ও সাহিত্যিক।
