প্রতিটি ক্ষত হৃদয়ের প্রাচীরে এক একটি অনুলিখিত উপাখ্যান খোদাই করে, যার অক্ষর রক্তে রঞ্জিত হলেও তার শিক্ষা চিরকাল দীপ্তিমান। যে মানুষ বেদনাকে অভিশাপ ভেবে এড়িয়ে চলে, সে জীবনের গভীরতম প্রজ্ঞার দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছাতে পারে না।
দহন কখনো কেবল দগ্ধ করে না; বহু সময় সে অহংকারের আবরণ ভস্মীভূত করে, আত্মাকে নির্মোহতার অলঙ্কারে ভূষিত করে। যে অশ্রু অবলীলায় ঝরে পড়ে, তার প্রতিটি বিন্দুই এক একটি অনুচ্চারিত প্রার্থনা, যা মানুষকে অন্তর্গত দৃঢ়তার দিকে পরিচালিত করে।
ধৈর্য কোনো সহজাত অলংকার নয়; এটি অসংখ্য প্রতীক্ষা, অপূর্ণতা এবং হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নির্মিত এক মহিমান্বিত সাধনা। যে এই সাধনায় অবিচল থাকে, তার চরিত্র আর বাহ্যিক প্রশংসার উপর নির্ভরশীল থাকে না; সে নিজের বিবেকের আদালতেই সম্মানিত হয়ে ওঠে।
অতএব, জীবনের প্রতিটি কষ্টকে ঘৃণা নয়, উপলব্ধির দৃষ্টিতে দেখো। কারণ বিধাতা অনেক সময় অনুগ্রহকে আশীর্বাদের মোড়কে নয়, পরীক্ষার আবরণে প্রেরণ করেন। আর সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মানুষের অন্তরেই জন্ম নেয় এমন এক ঔজ্জ্বল্য, যা কোনো পার্থিব প্রাপ্তি দিয়ে অর্জন করা যায় না।
রওজা ইসলাম – কবি ও সাহিত্যিক- পিরোজপুর।
