ঘাটে বাঁধা তরীখানি মাঝি একেলা,
অলস জীবন কাটে দ্বিপ্রহর বেলা ।
কাঠফাঁটা রোদে চোখ দৃষ্টি ঘুম ঘুম,
খেয়াপাড় জনশুন্য নিরালা নিঝুম ।
বসন্ত বাতাসে যেন কোকিলের ডাক–
মাঝি পার করে দেবে ?
কোথায় যাবে ?
ঐতো ঐ সুদুরে–
পাহাড়ের ধারে ।
পারাপারের কড়ি আছে ?
কেমনে বলি মিছে !
বিনিময় যে চাই,
কোথা পাবো মাঝি তাই !
পাহাড়ের সাথে কী কথা !
জমে আছে যত ব্যথা !
আমায় ভাগ দেবে ?
কে বলেছে কবে–
তোমার হৃদয় কি শুন্য মাঝি ?
কেমনে বলি আজি !
তোমার কোন্ কূলে বাস ?
নদীর দু’কূলেই আশ !
স্বপ্ন দেখ প্রাতে ?
মাঝে মাঝে ফ্যাকাসে, চাঁদনী রাতে ।
আমার সাথে যাবে ঐ পাহাড়ে ?
আমি সামান্য মাঝি এত সাহস আছে কিরে !
তোমারও তো হৃদয় আছে,
পাহাড় সমান নয় যে সে !
দাওনা মাঝি পার করে–
নদীর বুকে তরী বেয়ে,
কেমনে পারি শুন্য হাতে–
কিছু তো দাও আমার পাতে !
মাঝি তুমি বড়োই জেদি !
পাওনা টুকুই চেয়েছি যদি !
দিলাম তোমায় শুন্য করে–
জমিয়ে রাখা সুখ টুকুরে ।
দূ:খ যাসব আছে জিইয়ে–
বিলিয়ে দেব পাহাড় গায়ে ।
শেখ তৈমুর আলম- কবি,সাহিত্যিক ও সংগঠক – রাজশাহী
