যেদিন আমি থাকব না,
অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকবে
আমার কবিতার খাতা।
মলাটজুড়ে ধুলোর আস্তরণ জমবে,
সময়ের আঙুল বুলিয়ে যাবে
নীরব বিস্মৃতির রেখা।
খাতার ভাজে ভাজে
উইপোকারা গড়ে তুলবে তাদের ঘরবসতি,
পাতাগুলো হলদে হয়ে উঠবে,
কালির অক্ষরগুলো ঝাপসা হয়ে যাবে
অসংখ্য ঋতুর বৃষ্টিতে আর রৌদ্রে।
তবু শব্দগুলো মরবে না—
প্রতিটি পঙ্ক্তির ভেতর
রয়ে যাবে তোমাকে ডাকার আকুলতা,
অপ্রকাশিত দীর্ঘশ্বাস,
অভিমান ভাঙার নিঃশব্দ আবেদন,
আর ভালোবাসার অজস্র শব্দমালা।
কেউ যদি কোনো এক বিকেলে
ধুলো সরিয়ে খুলে দেখে সেই খাতা,
হয়তো বিস্ময়ে থেমে যাবে—
দেখবে, লেখক নেই,
তবু তার হৃদস্পন্দন
এখনও বেঁচে আছে কবিতার চরণে চরণে।
ঝাপসা হয়ে যাওয়া কালিও
মুছে দিতে পারবে না
একটি সত্যের দীপ্তি—
প্রেম কখনো কেবল মানুষে বাঁচে না,
সে বেঁচে থাকে শব্দে,
বেঁচে থাকে স্মৃতিতে,
বেঁচে থাকে একটি পুরোনো কবিতার খাতায়,
যেখানে বিরহও একদিন
ভালোবাসারই অপর নাম হয়ে যায়।
শারমিন নিশু- কবি ও সাহিত্যিক।
