তুমি তখন কার সময়ে ছিলে?
শব্দহীন, বর্ণহীন, কথাহীন কাটিয়ে গেলাম
এক জীবন
দুই জীবন
সব জীবন এক করে।
কতবার বলতে চেয়েছি, হাত তুলেছি, ফ্লোর চেয়েছি,
তুমি চলে গেলে অশরীরী হয়ে
বুঝেছি,দাঁড়ানোর সময়তো নাই।
এমন কি হতো?
যদি চেয়ে দেখতে!
কাক ডাকা ভোরে
খাঁ খাঁ রোদ্দুরে
গোধূলির গম্ভীর অবকাশে
তোমার সুরমা চোখে
কতবার ইশারায় ডেকেছি
টোলপড়া গাল
উজানের ডানার মত
গভীর ভরাট, চিনচিন করে উঠে
হাসি ছিল বটে
মিশ্রির ছুরির মত,
নির্মল নিষ্পাপ কুহেলিকা
তুমি হাসবে বলে
কারো হাসি দেখিনি
তুমি ডাকবে বলে
কারো ডাক শুনিনি
তুমি আসবে বলে
এখনো এক পায়ে দাঁড়িয়ে
নাম ছাড়া কেটে গেলো কালহীন কত বসন্ত
কি হতো? যদি একটিবারের জন্য……
তুমি তখন কার সময়ে ছিলে?
কতবার, কতদিন, কতকাল অপেক্ষায় থেকেছি।
কত বসন্ত, কত বর্ষা ভিখারির মত পড়ে রইলো
বিষাদবিলাসে কুহেলিকাময়
অশ্রুত, তৃষ্ণার্ত, হাহাকার চাতক
এপাড়ে
আজো আমি দাঁড়িয়ে, সেই বৃত্তের বেড়াজালে
কোন ডাক তো আমি শুনিনা
কোন গান ও তো শুনি না
শুনতে পাই মৃদু হাসি আলাপনের শব্দ এলোমেলো মরীচিকার মত পার হলো হ্যালোসিয়েশনে
যদি
কোনদিন মনে পড়ে
আমায় ডেকো
আমায় পাবে
মৃত্তিকার মৃত্যুময় মৃত গন্ধের ঢেউয়ে
যজ্ঞের তপ্ত ছায়ায়
মায়াহীন মহামায়ার টানে।
রবিউল ইসলাম নান্নু-কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ- রাজশাহী
